প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাহবুব কবির মিলন: আপনি, আমি, আমাদের বাচ্চারা, সবাই ডুবে যাচ্ছি আকণ্ঠ নীল বিষে

মাহবুব কবির মিলন: ফসলে কীটনাশক স্প্রে করার পর পিএইচআই (প্রি-হারভেস্ট ইন্টারভেল) এর মধ্যে যদি শাকসবজি বা ফসল আপনার রান্নাঘর হয়ে পেটে যায়, তবে কিছু না কিছু কীটনাশকের রেসিডিউ বা অবশিষ্টাংশ আপনার শরীরে প্রবেশ করবেই। একটি কীটনাশক ফসলে স্প্রে করার পর যতোদিন বাজারে তোলা বা খাওয়া যাবে না, সেটাকেই পিএইচআই বলে। কীটনাশক ভেদে এই ইন্টারভেল ভিন্ন ভিন্ন হয়। কোনোটির ৭ দিন, কোনোটির ১০ বা ১৫ দিন। এই ৭ বা ১০ অথবা ১৫ দিনের ভিতর যদি ফসল আপনার পেটে যায়, তবে সেই কীটনাশকের রেসিডিউ আপনার শরীরে প্রবেশ অতি স্বাভাবিক ঘটনা। আমরা জানি না, প্রতিদিন যা খাচ্ছি, সেখানে কী পরিমাণ কীটনাশক রেসিডিউ-এর মারাত্মক শিকার আমরা হচ্ছি। আমরা জানি না, আমাদের কিনে আনা কোন সবজি পিএইচআই-এর ভিতর আছে, কোনটি বাইরে বা নিরাপদ আছে। এটাই বিজ্ঞান বা সায়েন্স। এখানে যুক্তিতর্কের কোনো অবকাশ নেই। এ থেকে পরিত্রাণের একটিই উপায় আছে, যা উন্নত বিশ্বে বা প্রায় সব দেশেই কঠোরভাবে মেইনটেইন করা হয়। তা হচ্ছে, পিএইচআই-এর ভেতর কোনো ফসল বাজারে তোলা যাবে না। তার জন্য দরকার সচেতনতা এবং কঠিনভাবে আইনের প্রয়োগ। সেটা বাস্তবায়নের জন্য ২০১৫ সাল থেকে চেষ্টা করে যাচ্ছি। একদিন এক সভায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মোবাইলে কথা বলার জন্য দরজার বাইরে গেলে আমি পিছে পিছে গিয়ে কথা শেষে তার হাত চেপে ধরে বললাম, স্যার দরকার হলে পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের একটি উপজেলা বা একটি ইউনিয়নে হলেও পিএইচআই বাধ্যতামূলক করুন। আমরা অবশ্যই পারবো ইনশাআল্লাহ। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে হবে এই অভিশাপ থেকে। তিনি হেসে যে উত্তর দিয়েছিলেন, তা জীবনের শেষদিন পর্যন্ত ভুলবো না। পোল্ট্রি বা প্রাণী দেহে এন্টিবায়োটিক প্রয়োগের পর উইথড্রল পিরিয়ডের ভিতর যদি মাংস পেটে যায়, তবে কিছু না কিছু এন্টিবায়োটিক রেসিডিউ আমাদের শরীরে যাবেই বা যাচ্ছেই। এটাই বিজ্ঞান। যুক্তিতর্কের অবকাশ নেই। উইথড্রল পিরিয়ড, পিএইচডির মতোই।

জগতের প্রায় সব দেশেই এটা কঠোরভাবে মেইনটেইন করা হয়। পোল্ট্রি বা ফিশ ফিডে যদি হেভিমেটালযুক্ত কিছু থাকে, তবে পোল্ট্রি বা মাছের মাধ্যমে আমাদের শরীরে হেভিমেটাল প্রবেশ করবেই। এই হেভিমেটালের আবার পিএইচআই বা কোনো পিরিয়ড নেই। হেভিমেটাল শত বছরেও নষ্ট হয় না। আমাদের শরীর মরে পচে গলে গেলেও সেই মাটিতে হেভিমেটাল থেকে যাবে। কৃষি জমিতে যদি শিল্প বর্জ্য বা কীটনাশকে যদি হেভিমেটাল থাকে, তবে সেই জমির ফসলে কিছু না কিছু হেভিমেটাল পাওয়া যাবেই। সেখান থেকে আমাদের পেটে। এটাই বিজ্ঞান বা সায়েন্স। যুক্তিতর্কের কোনো অবকাশ নেই। আমাদের দেশকে এসব অভিশাপ থেকে যতোদিন সম্পূর্ণভাবে মুক্ত করা না যাবে, ততোদিন নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ অধরাই থেকে যাবে। যারা এর সঙ্গে জড়িত, তারাও খাচ্ছেন, তাদের বাচ্চাকাচ্চাও খাচ্ছে, তাদের পিতা-মাতারাও খাচ্ছেন। আপনি, আমি, আমাদের বাচ্চারা, সবাই ডুবে যাচ্ছি আকণ্ঠ নীল বিষে। শুধু টাকা আর টাকা। আমাদের দরকার শুধু টাকা। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা এখন সব জেলাতেই নিয়োগ পেয়েছেন। অন্যের ওপর নির্ভর না করে তাদেরই কারির ভ‚মিকা পালন করতে হবে। উপজেলা বা ইউনিয়নভিত্তিক পাইলট প্রকল্প হাতে নিতে পারেন তারা। তারা যদি নিধিরাম সর্দারের ভ‚মিকায় অবতীর্ণ হয়, তাহলে সব আশা ভরসা শেষ আমাদের। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রোগাক্রান্ত এবং অসুস্থ একটি জাতি হিসেবে গড়ে তোলার দায় হতে আমরা কোনোভাবেই রেহাই পাবো না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত