শিরোনাম
◈ এবার সারা বাংলাদেশের ভোটের চিত্র একরকম, কিন্তু গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি অন্যরকম ◈ ভোট দেওয়া শেষে সবাইকে 'ঈদ মোবারক' জানান প্রধান উপদেষ্টা ◈ রুমিন ফারহানার অ‌ভি‌যোগ, বিভিন্ন জায়গায় সিল মারার পায়তারা করছে ◈ তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পুত্র থেকে যেভাবে বিএনপির একক নেতায় পরিণত হলেন  ◈ বিএনপির অস্তিত্বের লড়াই, জামায়াতের নতুন স্বপ্ন: সারাদেশে চলছে ভোট গ্রহণ ◈ ভোটের দিনে স্বাভাবিক রয়েছে মেট্রোরেল ও ট্রেন চলাচল ◈ রাজধানীতে ডিএমপির অশ্বারোহী দলের টহল, কেন্দ্রে কেন্দ্রে উৎসবের আমেজ ◈ গণতন্ত্রের ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছাবে: সিইসি নাসির উদ্দিন ◈ গুলশান কেন্দ্রে ভোট দিলেন তারেক রহমান ◈ অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করে ক্ষমতায় আসতে চায় একটি দল: সালাহউদ্দিন আহমদ

প্রকাশিত : ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ০২:০৯ রাত
আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ০২:০৯ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রাজিক হাসান: যদি সুন্দরকে সঙ্গী করে সুখী হতে হয়, অসুন্দরও থাক না পাশে!

রাজিক হাসান : মানুষ শুধু স্বার্থপরই নয়,পরার্থপরও বটে। এডাম স্মিথ The theory of moral sentiments লেখার ৭ বছর পর বোধহয় Wealth of the Nations লিখেছিলেন। বই দুটির মূল বিষয় আপাত স্ববিরোধী হলেও-মানুষের অর্থনৈতিক আচরণ বিশ্লেষণে ঠিকই ছিলো। প্রথমটাতে পরার্থপরতাকে সামাজিক অগ্রগতির ভিত্তি দেখিয়ে ছিলেন, পরেরটাতে স্বার্থপরতাকে গুরুত্ব দিয়ে বাজারকে বিশ্লেষণ করেছিলেন। অখণ্ড সত্য বিবর্তনশীল মহাবিশ্বে অকাট্য অদৃশ্য। মহামতি বুদ্ধ সত্য সন্ধানে যাত্রা করে নির্বাণ লাভ করেছিলেন স্বীয়মতে, নাগার্জুন তার গবেষণায় বিস্তৃত ব্যাখা দিয়েছেন, চার্বাক ও গলা ঝেড়ে কাশি দিয়াছেন। ভীমনাগ,বাচস্পতি নেড়ে চেড়ে দেখেছেন। বার্ট্রান্ড রাসেল অকপটে মুখ খুলছেন।

নীৎসে দেখিয়েছেন অমাবস্যার চাঁদ। রূমী, কালী দাস, লালন ও অবশেষে রবীন্দ্রনাথ অন্যভাবে। হেতা নয় হোথা নয় অন্য কোথা/তাইতো রবীন্দ্রনাথ গেয়েছেন ‘প্রথম দিনের সূর্য /প্রশ্ন করেছিলো সত্তার নূতন আবির্ভাবে-কে তুমি, মেলেনি উত্তর/বৎসর বৎসর চলে গেল/দিবসের শেষ সূর্য/শেষ প্রশ্ন উচ্চারিত পশ্চিম-সাগরতীরে,নিস্তব্ধ সন্ধ্যায়- কে তুমি/পেল না উত্তর’। চিন্তার জট খুলে নিজের এলোমেলো ভাবনাগুলো লিখে স্পষ্ট, সুবিন্যস্ত ও সংহত করা মাঝে মাঝে খুব দুরূহ হয়ে পড়ে। এই যেমন সত্যনিষ্ঠ এবং প্রজ্ঞাবান মহাপুরুষদের মুখে যখন শুনি, মন থেকে ভ্রান্তিবিলাস, অনর্থক আশাবাদ, যথেচ্ছ কল্পনা ইত্যাদি বিযুক্ত করে দাও, ঝেড়ে ফেলে দাও। কারণ তাতে ‘মিথ্যে’ আছে। তখন সঙ্গত কারণেই মনে প্রশ্ন আসে তাহলে মানুষ বাঁচবে কীভাবে? সত্য মিথ্যা দুটোকে সঙ্গী করেই তো জীবন। মিথ্যাকে যদি কল্পনা থেকেও বাদ দিতে হয় তাহলে জীবন ভরে উঠবে বিষাদে। বিষাদের জীবনও তো মানুষের কাম্য নয়।

অথচ আমাদের মনে করিয়ে দেওয়া হয় সত্যম শিবম সুন্দরম। সত্যের তুলনা বা আদর্শ সত্যই। এখানে মিথ্যার মিশেল চলে না। এমনকি এও বলা হয় প্রিয়সান্নিধ্যের নিবিড় উষ্ণতা পর্যন্ত নাকি পরম উপভোগের স্তরে পৌঁছে যদি তা সুন্দরকে ছুঁতে পারে। জ্ঞানের সন্ধ্যানে এইযে মানুষের দীর্ঘ অভিযাত্রা তার উদ্দেশ্য সম্পর্কেও বলা হয়েছে তা সত্যানুসন্ধান। সত্যের দেখা মিললেই কেবল মন প্রকৃত অর্থে মুক্ত হবে এবং সুন্দরকে ছোঁয়া যাবে।বইয়ে পড়েছিলাম অঙ্কের ভেতর বার্ট্রান্ড রাসেল সৌন্দর্য খুঁজে পান। নন্দনতাত্ত্বিকদের একাংশ তখন বিচলিত হয়ে তর্ক জুড়ে বসেছিলেন, সৌন্দর্য তো থাকে কবিতা,ফুল,পাখি,সমুদ্র ইত্যাদিতে, গণিতেও কি থাকে তা? গণিতে যদি সত্য থাকে তাহলে নিশ্চয় সেখানে সুন্দরও আছে। কিন্তু যে ‘সত্য’ কে নিয়ে এতো কথা তা আদৌ আছে কিনা, আবার থাকলেও মানুষের গভীরতর বোধ তা ধারণ করতে পেরেছে কি না এ নিয়ে সংশয় ঘোচেনি মানুষের। থাক বা না থাক মানুষ কোনো একটা কিছুকে সত্য ভেবেছে। অনেকটা ‘ঈশ্বর-ভাবনার মতো। মানুষ চেয়েছে ‘সত্য’ কোথাও না কোথাও থাকুক কারণ সে চায় সুন্দর , সে জেনেছে সত্যের সঙ্গেই নাকি সুন্দর থাকে।সুতরাং পথ একটাই। যদি সুন্দরকে সঙ্গী করে সুখী হতে হয়, অসুন্দরও থাক না পাশে। মানুষের বেঁচে থাকার প্রধান শর্তই এটা। জীবনে নিরঙ্কুষ সত্য বলে কিছু নেই। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়