প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সিঙ্গাপুরে ৫০ ধনীর সম্পদ বাড়ল ৪১ বিলিয়ন ডলার, অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে

রাশিদ রিয়াজ : গত বছর করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাবে সিঙ্গাপুরের অর্থনীতি ৫.৮ শতাংশ সংকুচিত হয়েছিল। কিন্তু এবছর দেশটির অর্থনীতি ৬ থেকে ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মহামারির মধ্যেও সিঙ্গাপুরকে নিরাপদ স্বর্গ হিসেবেই বিবেচনা করছে অর্থনৈতিক বিশ^। সীমান্তে কঠোর বিধিনিষেধ, টিকাদান কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন ও নতুন সংক্রমণের ওপর সজাগ দৃষ্টি দেশটিকে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সফলতা এনে দিয়েছে। অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও সিঙ্গাপুরের শেয়ারবাজার ভাল করছে। বেঞ্চমার্ক স্ট্রেইট টাইমস ইনডেক্স বৃদ্ধি পেয়েছে ২৬ শতাংশ। এর ফলে সিঙ্গাপুরের ৫০ শীর্ষ ধনী ব্যক্তি এক বছর আগে তাদের ১৬৭ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ এবছর ২০৮ বিলিয়ন ডলারে বৃদ্ধি করতে সমর্থ হয়েছেন। এতে করোনাভাইরাস পরবর্তী সিঙ্গাপুরের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার কর্মসূচি বাস্তবায়ন অনেকটা সহজ হয়ে যাবে। ফোর্বস

সিঙ্গাপুরের শেনঝেন মাইন্ডরে বায়ো-মেডিলে ইলেক্ট্রোনিক্স উচ্চ প্রযুক্তির মেডিকেল ডিভাইস তৈরি করে। এ কোম্পানির মালিক লি জিটিংয়ের গত বছরের তুলনায় সম্পদ বেড়েছে ১৯ শতাংশ। এর মানে ৫.২ বিলিয়ন ডলার তিনি উপার্জন করেছেন। এরফলে তার মোট সম্পদের পরিমান দাঁড়িয়েছে ২৩ বিলিয়ন ডলার। এবং তিনি সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ধনী ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছে।
দেশটির হটপট দম্পতি হিসেবে পরিচিত ঝ্যাং ইয়ং ও শু পিং গত বছর শীর্ষ স্থানে থাকলেও এবছর ধনীদের তালিকার চতুর্থ স্থানে নেমে এসেছেন এবং তাদের সম্পদের পরিমান কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ বিলিয়ন ডলার। তাদের রেঁস্তোরা চেইন হাইডিলাও ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিংসের সম্পদ হ্রাস পেয়েছে ১৭ শতাংশ। যাদের সম্পদ কমেছে এ দম্পতি সে তালিকার সপ্তম স্থানে রয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ধনীদের ৩৬ জনেরই সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফেসবুকের সহ প্রতিষ্ঠাতা এদুয়ার্দো স্যাভেরিন আরো সাড়ে ৬ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ বৃদ্ধি করতে সমর্থ হয়েছেন। এরফলে তার মোট সম্পদ সাড়ে কুড়ি বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। রং ব্যবসায়ী গো চেং লিয়াংয়ের বড় ছেলে গো হাপ জিন জাপানের নিপ্পন পেইন্ট হোল্ডিংসের সঙ্গে ১২ বিলিয়ন ডলারের এক যৌথ বিনিয়োগ চুক্তি করার পর তার সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে ১৮.৬ বিলিয়ন ডলার।

সিঙ্গাপুরে স্টার্টআপের জন্য যে অনুকূল সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চলছে তা অনেকটাই সফল হচ্ছে। ধনীদের তালিকার এক-পঞ্চমাংশ সদস্য এখন স্ব-তৈরি প্রযুক্তির টাইকুন। তারা বিলিওনারি উত্তরাধিকারসূত্রে হননি। তাদের মধ্যে তিনজন, যেমন ফরেস্ট লি, গ্যাং ইয়ে এবং ডেভিড চেন, গেমিং এবং ই-কমার্স ফার্ম সি-এর কো-ফাউন্ডার, শতাংশের দিক থেকে এ বছর সবচেয়ে বেশি লাভ সম্পদ করেছেন এবং তাদের ব্যক্তিগত সম্পদের দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর তুলনায় অন্তত ১ বিলিয়ন বা তার চেয়ে বেশি সম্পদ গড়েছেন ৪২ জন। এদের অনেকেই এসেছেন চীন থেকে। যেমন ক্রিপ্টো বিলিওনারি চ্যাংপেং ঝাও সিঙ্গাপুরে বাস করছেন ২০১৯ সাল থেকে। তার বাইনান্স অবশ্য বিভিন্ন দেশে নিয়ন্ত্রণের মুখে পড়েছে। সাবেক কলেজ অধ্যাপক শি ঝু তার ন্যানোফিল্ম টেকনোলজিস ইন্টারন্যাশনালের আইপিও ছাড়েন গত অক্টোবরে। যা তাকে শেয়ারবাজার থেকে ব্যাপক মূলধন আহরন ও বিলিওনারি করে তোলে। এ্যান্থনি ট্যান যিনি মালয়েশিয়া বংশদ্ভুত এবং গ্রাবের সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং তার ডেলিভারি চেইন কোম্পানির মূলধন এখন ৪০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া গত সেপ্টেম্বরে ১০২ বছর বয়সে মারা যাওয়া অগ্রণী শিপিং টাইকুন চ্যাং ইউন চুং সহ তিনজন শীর্ষ ধনীর তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন যাদের ব্যবসা করোনাভাইরাসের ধকল সামলে উঠতে পারেনি। চ্যাংয়ের প্যাসিফিক ইন্টারন্যাশনাল লাইন করোনাভাইরাসে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়ে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত