প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অজয় দাশগুপ্ত: জাতির জনককে নিয়ে বাণিজ্য বন্ধ হোক

অজয় দাশগুপ্ত:  আগস্ট মাস এলেই আমরা শোকের মাস বলে মাতম করি। শোক কতোটা জানি না, তবে এটা এখন নিয়মে পরিণত হয়ে গেছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারে আছে আর বেশকিছু বছর থাকায় এখন এটা এমনভাবে পালনের ধুম যাতে শোকের চাইতে শক্তি বেশি বলে ভ্রম হয়। আমরা সে যুগের মানুষ যে যুগে বঙ্গবন্ধু ছিলেন, ছিলেন চার জাতীয় নেতা। আমি তরুণ বয়সে বিস্ময় ও বেদনার সঙ্গে দেখেছি বঙ্গবন্ধুর শোকাবহ মৃত্যুতে ব্যথিত জাতি কতোটা হতবিহŸল আর ভীত হয়েছিল। ভালো করে একটা মিছিল পর্যন্ত হয়নি। একথা স্বীকার করতেই হবে সেসময় আওয়ামী লীগ বাকশাল নামে দেশশাসনে ছিলো। অথচ কোনো বাহিনি এগিয়ে আসেনি। বহু বছর পর ইতিহাসের নিয়মে আমরা জেনেছি জেনারেল জিয়াউর রহমান থেকে এরশাদ পরবর্তীকালের সব শাসকের ইন্ধন ছিলো ঘটনায়। কেউ কেউ রেখেছিল সরাসরি অথবা নেপথ্য ভ‚মিকা।

আজ যখন তিনি আপন মহিমায় আর রাষ্ট্র মিডিয়ায় প্রচারের কারণে অনেক বেশি আবিভর্‚ত তখন একটা প্রশ্ন জাগে, কেন আমরা সবাই মিলে এখনো তাঁকে মানতে পারি না? একদল মানুষ থাকে যারা সব দেশে, সব জাতিতে গাদ্দার বা মীরজাফর নামে পরিচিত। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ বা সমাজে এদের দালালী কিংবা দেশবিরোধী ভ‚মিকা হয় ঘৃণ্য। মানুষ তাদের ঘৃণা করে। তাদের সমাজচ্যুত করে। আমাদের সমাজে অল্প কয়েকবছর আড়ালে থাকলেও এরা ফিরে এসেছিল। আর তাদের এই ফিরে আসার মাশুল দিয়েছে জাতি দিয়েছে দেশ। তারা এমনভাবে বদলে দিয়েছিলো সবকিছু, এমনকি ইতিহাসও, যাতে ধরে নেওয়া হতো আর কোনোকালে আওয়ামী লীগ দেশশাসনে না-ও আসতে পারে। আর বঙ্গবন্ধু ও চার নেতা থেকে যাবেন কুয়াশার আড়ালে। মানুষ এ কুয়াশা সরিয়ে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছে। শেখ হাসিনা শাসনে দ্বিতীয়বার আসার পর বঙ্গবন্ধু হত্যাকাÐের বিচার করে সাজা দিয়েছেন।

যুদ্ধাপরাধীদেরও বিচার সাজা হয়েছে। কিন্তু মানুষের মনের ময়লা দূর হয়নি। কিছু মানুষ বলাটা সান্ত¡নার হতে পারে আসলে এক বিশাল অংশ আজও ইতিহাস বিমুখ। এদের কারণে আর সময়ের চাহিদায় সরকারি দলে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী লীগারদের অনাচার ঠেকাতে হবে। সরকারের ক্লিন ইমেজ আর ভাবমূর্তির সঙ্গে জড়িয়ে আমাদের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু। তাঁকে ভালোবাসলে এদের নির্মূল করা জরুরি। আর কিছু কাজ যা করতেই হবে তা কিন্তু এখনো হয়নি। আন্তর্জাতিক মহলে যেমন প্রচার দরকার তেমনি দেশেও শুধু আইন করে এসব করা যাবে না। কাজের কাজ হলো নিজেদের আত্মশুদ্ধি। নিজেরা আইডল আদর্শ হতে পারলে মানুষ আপনি ঝুঁকে পড়বে। তাঁর দেখানো পথে চলছে না দল। চলছে না দেশ।

মুখে মুখে বললেও কাজের বেলায় আসলে তাঁকে ব্যবহার আর তাঁকে সামনে রেখে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা। এর অবসান জাতির জনকের স্বার্থে তাঁর ইমেজের স্বার্থে বন্ধ করতে হবে। এই দেশ এই জাতিকে ভালোবেসে পরিবার পরিজন-সহ নিহত আমাদের মহান নেতাকে নিয়ে বাণিজ্য বন্ধ হোক। শুরু হোক তাঁর পরিমিত ব্যবহারে অপরিমেয় উন্মোচন।

লেখক : বিশ্ব বিদ্যালয় পরীক্ষক। সিডনি, অস্ট্রেলিয়া।
জাতির জনককে নিয়ে বাণিজ্য বন্ধ হোক

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত