প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রংপুরে পশুর হাটে উপচে পড়া ভিড়, মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

আফরোজা সরকার: [২] রংপুরে মহামারী প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের বিস্তার থেমে নেই। প্রতিদিন লম্বা হচ্ছে আক্রান্তের সাথে মৃত্যুর সারি। এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে প্রশাসন কঠোর হলেও বাড়ছে না সচেতনতা। বরং সরকারি বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় শহর-গ্রাম সবখানেই স্বাভাবিক চিত্র। অবাধ চলাফেরার সাথে গাদাগাদি করে বসছে কোরবানির পশুর হাট। আর এসব হাটে বাড়ছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি।

[৩] সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী হাটে-বাজারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। কিন্তু রংপুরে পশুর হাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। মাস্ক ছাড়াই ঘুরে বেড়াচ্ছেন বহু মানুষ। অনেকই জানেন না সামাজিক দূরত্বের বিষয়টিও। পশুর হাটে হাজারো মানুষের ভিড়ে অসহায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযোগ রয়েছে অতিরিক্ত টোল আদায়েরও।

[৪] বুধবার (১৪ জুলাই) দুপুরে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বালারহাটে গিয়ে দেখা যায় প্রচুর মানুষ। এটি এলাকার নিয়মিত গরুর হাট। সেখানে স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে অবাধে চলছে কেনাবেচা। হাট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ থেকে সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতা কারো মধ্যে নেই করোনা ভীতি।

[৫] হাট ঘুরে চোখে পড়ল, বেশিরভাগ মানুষই মাস্কবিহীন। যারা মাস্ক ব্যবহার করছেন, তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পড়ছেন না। ইজারাদারের পক্ষ থেকেও নেই কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা, প্রবেশ পথে রাখা হয়নি হাত ধোয়ার জন্য পানি ও সাবান। নেই শরীরের তাপমাত্রা মাপার যন্ত্রও। স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করে দিনভর ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগমে তিলঠাঁই ছিল না। হাটজুড়ে শিশু থেকে বৃদ্ধ, সব বয়সী মানুষের ছিল অবাধ সমাগম।

[৬] এদিকে, অভিযোগ উঠছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ভারতীয় গরু হাটে নিয়ে আসছে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী। সরেজমিনেও দেখা মিলল দেশি গরুর পাশাপাশি ভারতীয় গরুতে ভরা হাটের মাঠ। পুরো হাটে কেউবা দঁড়ি হাতে গরু নিয়ে, কেউবা আবার বাঁশের খুঁটিতে সারি সারি বেধে রেখেছে গরু। সবার চোখে ক্রেতার দিকে। হাটের একপ্রান্তে চলছে ছাগল-ভেড়ার বেচাকেনা। সেখানেও ক্রেতা-বিক্রেতার জটলা। আছে মৌসুমি ব্যবসায়ী, ফড়িয়া ও দালালের উপদ্রব।

[৭] হাটে স্বাস্থ্যবিধি মানা না হলেও অতিরিক্ত টোল আদায়ে ইজারাদারের নির্দেশনা মানাচ্ছেন একটি চক্র। টোল আদায়ের নামে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। বালারহাট ছাড়াও উপজেলার শঠিবাড়ী, শুকুরেরহাট, বৈরাতিহাট, জায়গীরহাট, বড়বালা, ছড়ানহাটে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

[৮] নিয়মানুযায়ী, গরু প্রতি পাঁচশ ও ছাগলে দেড়শ টাকা টোল আদায় করতে নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু, ইজারাদার মনোনীত প্রতিনিধিরা জোর করে নিচ্ছেন অতিরিক্ত টোল। তবে এ অভিযোগ মানতে নারাজ হাট কর্তৃপক্ষ। হাটে প্রশাসনের লোকেরা থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না তারা।

[৯] হাটে গরু বিক্রি করতে আসা মশিয়ার রহমান বলেন, একেকটা গরুর জন্য ক্রেতার কাছে ছয়শ ও বিক্রেতার কাছে তিনশ টোল নিচ্ছেন ইজারাদারের লোকজন। এই টাকা তারা জোরপূর্বক আদায় করছে। হাটে ছাগল ক্রয় করতে আসা মিঠু মিয়া ও আলী হোসেন জানান, তারা দুজনে দুটি ছাগল কিনেছেন। তাদের কাছ থেকে চারশ ও বিক্রেতার কাছে নিয়েছে তিনশ টাকা নিয়েছে হাট কর্তৃপক্ষ।

[১০] সাহেদুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা জানান, ঈদে কোরবানির জন্য গরু কিনতে এসেছি। কিন্তু হাটে তো কোনো স্বাস্থ্যবিধি নেই। এত মানুষ দেখে ভয়ও লাগছে। পুরো হাটে মানুষে মানুষে একাকার। হাটের বাহিরেও একই অবস্থা। যেহেতু লকডাউন নেই, এ কারণে হাটে-বাজারে মানুষ বেড়েছে।

[১১] এদিকে হাটে ভারতীয় গরুর আমদানি প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পার্শ্ববর্তী জেলা কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে বালারহাটসহ জেলার প্রত্যেক হাটে ভারতীয় গরু আনা হয়। এর বেশিরভাগই আসে চোরাই পথে। ভারতীয় চোরাকারবারীও গরু নিয়ে ঢুকে পড়ে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে হাটে ঢুকে পড়ে। দেশি গরুর চাহিদা থাকলেও ভারতীয় গরুর অবাধ প্রবেশ ব্যবসায়ী ও খামারিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

[১২] তবে ইজারাদাররা এই অভিযোগ স্বীকার করেননি। তারা বলছেন স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং চোরাচালানের ব্যাপারে তারা যথেষ্ট সতর্ক। বালারহাটের ইজারাদার প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান খোকা বলেন, সব জায়গায় অনিয়ম। আমরা চেষ্টা করছি। এখন মানুষ না মানলে আমাদের করার কিছু নেই। আর টোল আদায়ের সিস্টেম জেলার সকল হাটে একই রকম।

[১৩]এদিকে রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার জাকির হোসেন বলছেন, সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি উপক্ষিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে।

[১৪] বিভাগে প্রায় সাড়ে তিনশো হাট-বাজার রয়েছে কোরবানির সময় পশু বিক্রি হয় এমন মৌসুমী হাট রয়েছে দেড়’শ এর বেশি। এছাড়া নিয়মিত হাট রয়েছে চারশ’র মত। তবে, করোনার কারণে এসব হাটের অর্ধেক বন্ধ রয়েছে। গতবারের মত এবারও রংপুরে অনলাইনে ‌‌কোরবানির পশু বেচাকেনার ব্যবস্থা নিয়েছে প্রাণি সম্পদ বিভাগ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত