প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জান্নাতুন নাঈম প্রীতি: মজলুমের চোখের পানি আর পোড়া লাশের দায় কার?

জান্নাতুন নাঈম প্রীতি: নারায়ণগঞ্জে সজীব গ্রুপের সেজান জুসের কারখানার মধ্যে ৫২ জন মানুষ পুড়ে মারা গেছেন। আমি যদি বলি এই ৫২জন মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে, তাহলে কি ভুল হবে? দারোয়ানের খরচ বাঁচাতে শ্রমিকদের গেটে তালা আটকে কাজ করাচ্ছিলো ওরা। নাইলে ফায়ার এক্সিট না থাকলেও এতোগুলো মানুষ মরা রীতিমতো অসম্ভব হওয়ার কথা, যদি না দরজা বন্ধ থাকে। তাইলে এইটা কি একটা হত্যাকাণ্ড না?

আমার আজকাল প্রতিবাদ করতে খুব টায়ার্ড লাগে। আমরা রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার কিচ্ছুটি করতে পারি নাই, শ্রমিকদের বেতনের দাবির পরে গুলি করার পরে কিচ্ছু করতে পারি নাই, এই ৫২ জন মানুষের জন্যও হয়তো কিচ্ছুটা করতে পারবো না। প্রতিবারের মতো একটা তদন্ত কমিটি হবে, লোকে কয়দিন শোক প্রকাশ করবে, অথচ কেউ প্রশ্ন তুলবে নাÑ জুস বানাবার জন্য যেসব কেমিক্যাল ব্যবহার হয় সেগুলো স্বাস্থ্যসম্মত কিনা, প্রতিবারই মানুষ মারা যাওয়ার পরে ভবনের অবস্থা কেমন ছিলো সেসব পাওয়া যায় কেন? তার আগে কি হয়? এইসব ভবন চেক করার দায়িত্ব কাদের?

মজলুমের চোখের পানি আর পোড়া লাশের দায় কার? ওই কোম্পানির না এই রাষ্ট্রের? আমি জানি, এসব দায় সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে হয়রান হয়ে চুপ হয়ে যাবে শ্রমিক পরিবারগুলো। প্রশ্নের জবাব কৌশলে দেওয়ার ভান করবে টকশো করা লোকগুলো। কেবল পরের দুর্ঘটনার জায়গাটা থেকে আবারও এক মা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের লাশ খুঁজে না পেয়ে আহাজারি করতে করতে বলবেÑ ও স্যার, আমার মায়ের হাড্ডিগুলা খুঁইজা দ্যান স্যার! আমরা কেবল কান্না চেপে ধরে বলতে পারবো না- ও মা, আমরা আমাদের মেরুদণ্ডের হাড্ডিগুলো বর্গা দিয়ে ফেলছি এই রক্তচোষাদের কাছে। আমাদের আপনারা কক্ষনো ক্ষমা কইরেন না!

শ্রমিকের তালিকাটা দেখাই? ‘বেশির ভাগের বয়সই ১৮ বছরের নিচে। ঘটনাস্থলে আসা স্বজনদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী নিখোঁজ শ্রমিকেরা হলেন, শান্তা (১২), মুন্না (১৪), শাহানা (১৫), নাজমুল (১৫), রিপন (১৭), রাহিমা (৩৫), অমৃতা (১৯), তাকিয়া (১৪), হিমু (১৬), সুফিয়া (৩০), আমেনা (১৭), মাহমুদ (১৫), তাসলিমা (১৭), কম্পা (১৬), শেফালি (২০), ইসমাইল (১৮)। নিখোঁজ দুজন নাইম ও মোহাম্মদ আলীর বয়স সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

এই শিশুদের স্কুল বন্ধে এদের কারখানায় যাইতে হয় কেন? ক্ষমা কইরেন না তাদের যারা স্কুলে যাওয়ার বয়সী গরিব বাচ্চাদের পুড়িয়ে মারে, যারা লকডাউনে রিকশা বের করলে জরিমানা নেয়, দোকান খুললে জরিমানা নেয়, রাস্তায় বাইর হইলে ধরে, কিন্তু ৫২ জনরে ঘরে থেকে ফ্যাক্টরিতে নিয়া পুড়াইয়া মারলে নীরব থাকে! তখন তাদের জরিমানার সিস্টেম কই থাকে? নাকি গরিব মানুষের জরিমানার দাম তার জীবনের দামের সমান? ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত