প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] জিম্বাবুয়ে সফরে জাতীয় দলে চমকের নাম শামীম হোসেন পাটোয়ারি

মাহিন সরকার : [২] বয়স মাত্র ২০ ছাড়িয়েছে। কিন্তু অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী বাংলাদেশ দলের সদস্যটি নজর কাড়ছিলেন অনেকেরই। তিনি নিজে অবশ্য প্রচারের আলো থেকে নিজেকে সরিয়ে ব্যস্ত রেখেছেন ক্রিকেট মাঠে। মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন তিনি জাতীয় দলে খেলতে প্রস্তুত। ২০২৩ বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে তাকে জাতীয় দলে নেওয়ার দাবিটাও হচ্ছিল জোরালো। এবার সেই দাবির বাস্তবায়ন দেখা গেল। জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে থাকছেন শামীম হোসেন পাটোয়ারি।

[৩] তিন সংস্করণ মিলিয়ে একমাত্র নতুন মুখ শামীম। তরুণ এই অলরাউন্ডার জায়গা পেলেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলে। তাকে রেখেই বুধবার ১৬ সদস্যের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। শামিম পাটোয়ারী চলতি প্রিমিয়ার লিগে প্রাইম দোলেশ্বরের হয়ে খেলেছেন। এরইমধ্যে করেছেন ১৮১ রান। সঙ্গে ফিল্ডার হিসেবেও নজর কেড়েছেন তিনি।

[৪] সাহসী ব্যাটিং, ওপেন চেস্ট স্ট্যান্স, ম্যাচ পরিস্থিতি দেখে নিজের মতো করে পরিকল্পনা সাজানো, বলের গতি বুঝে যথাসময়ে কাছাকাছি চলে যাওয়া, কখন কী করতে হবে এবং কীভাবে করতে হবে তা সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা। সবকিছুই শামীম পাটোয়ারিকে দিয়েছে ভিন্ন পরিচিতি, অল্প কয়েক দিনেই।

[৫] অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী বাংলাদেশ দলের সদস্য ছিলেন তিনি। এরপর করোনা অনিশ্চিত করে ফেলেছিল সব। মহামারি সামলে ক্রিকেট মাঠে ফেরার পর খেলেছেন এক টুর্নামেন্ট ও ভিন্ন ফরম্যাটের দুই সিরিজ। বঙ্গবন্ধু কাপে যে উজ্জ্বলতা ছড়িয়েছেন সেটা ধরে রেখেছেন আয়ারল্যান্ড উলভসের বিপক্ষে বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের হয়েও।

[৬] ওয়ানডে সিরিজে পাঁচ ম্যাচের চারটিতে ব্যাট হাতে নেমেছেন, তিনটিতেই ছিলেন অপরাজিত। এক ফিফটিতে ১৩০ রান করেছেন, স্ট্রাইক রেটটা রেখেছেন ১৩১.৩১। দুই দল মিলিয়ে সেরা দশ রান সংগ্রাহকের ভেতরেই একশর ওপর স্ট্রাইক রেট আছে কেবল একজনের, তৌহিদ হৃদয় রান করেছেন ১১৩.০০ স্ট্রাইক রেটে। ১২ চারের সঙ্গে হাঁকিয়েছেন চার ছক্কা। একমাত্র টি-টোয়েন্টিতে ১১ বল খেলে ছক্কা হাঁকিয়েছেন চারটি, করেছেন ২৮ রান।

[৭] এমন একটা সিরিজের পর স্বাভাবিকভাবেই ছিলেন উচ্ছ্বসিত চাঁদপুরের এই তরুণ শামীম। ইমার্জিং সিরিজ শেষ করে গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, অবশ্যই ভালো লাগছে যে সিরিজটা আমরা ভালো মতো শেষ করতে পেরেছি। আমিও মোটামুটি ভালো খেলেছি। এই জন্য নিজের কাছে খুব ভালো লাগছে।

[৮] বাংলাদেশের পাওয়ার হিটারের অভাব সবসময়ের। ভৌগলিক কারণ, খাদ্যভাস সবকিছু মিলিয়েই পাওয়ার হিটার দেখা যায় না খুব একটা। শামীমকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ দলে সেই অভাব পূরণের যোগ্য একজন হিসেবে ভাবছেন অনেকে। শামীম অবশ্য বলছেন, পাওয়ার হিটিং তার প্রকৃতিগতভাবেই, প্রয়োজনের সময় ইনিংসের হালও ধরতে পারবেন তিনি, আসলে পাওয়ার হিটিং আমার প্রকৃতিগতভাবেই ভাবতে গেলে, আল্লাহর রহমতে। ইচ্ছা করে করি এমন কিছু না, পাওয়ার হিটিং আমার ভালো লাগে, পছন্দ করি। পরিস্থিতি বুঝি আর কী। পরিস্থিতি যদি ডিফেন্ড করতে বলে, তাহলে সেটাও পারব এই আত্মবিশ্বাস আছে।

[৯] ব্যাটিংয়ের সঙ্গে ফিল্ডিংয়ে তৎপরতা, কেউ কেউ তাকে বলছেন, দেশসেরা ফিল্ডার। সঙ্গে অফস্পিনটা শামীম করতে পারেন ভালোই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বোলিংয়ে সুযোগ পাননি ততটা। পাঁচ ওয়ানডেতে করেছেন ১৬ ওভার, ৪.৪৩ গড়ে রান দিয়ে অবশ্য নিয়েছেন এক উইকেটও। একমাত্র টি-টোয়েন্টিতেও তিন ওভারে ২৮ রান দিয়ে নিয়েছেন এক উইকেট।

[১০] হাই পারফরম্যান্স দলের হয়ে অনুশীলন করেছেন অনেকদিন। কোচ টবি রেডফোর্ডের পরিশ্রমের ছাপ পড়ছে ওই দলের অনেকের মধ্যেই, দেখা যাচ্ছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। এইচপির অনুশীলন কাজে দিলেও শামীম জানিয়েছেন, রেডফোর্ডের সঙ্গে আলাদাভাবে কোনো কিছু নিয়ে কাজ করেননি। শামীম বলেন, আসলে তেমন কিছু না। অবশ্যই অনুশীলনে ছিলাম এটা আমাদের খুব উপকার হয়েছে। বিশ্বকাপের পর এইচপিতে ছিলাম। অনুশীলন করেছি, কঠোর পরিশ্রম করেছি আমরা সবাই। অবশ্যই এটা সাহায্য করেছে, করাটাই স্বাভাবিক। রেডফোর্ডের সঙ্গে এক্সট্রা অর্ডিনারি কিছু করিনি। নিজের কাজটা নিজেই করেছি।

[১১] শামীম জাতীয় দলে সবার আগে রঙিন পোশাকে সুযোগ পেতে চেয়েছিলেন। ঠিক সেটিই হলো। তিনি জায়গা পেলেন ২০ ওভারের দলে। ইচ্ছে পূরণ হলো এই তরুণের। এবার জাতীয় দলের জার্সিতে তার সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত