প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফিরে দেখা: বিয়ের খবর গোপন করতে চেয়েছিলেন অনজু ঘোষ

ইমরুল শাহেদ: ‘যত দোষ অনজু ঘোষ’- এমনই একটা প্রচলিত প্রবাদ ছিলো অনজু সম্পর্কে। তিনি সওদাগর, আবে হায়াৎ এবং নরম গরম ছবির সাফল্যের কারণে সমকালীন তারকা শাবানা, রোজিনাসহ আরো অনেককে অতিক্রম করে প্রথম সারির তারকার আসনে চলে আসেন। এজন্য তাকে সবাই হিংসার চোখেই দেখত। কিন্তু তিনিও যে বিতর্কের উর্ধ্বে ছিলেন এমন নয়। জনপ্রিয়তা অনেক সময় মানুষকে স্বেচ্ছাচারি করে তোলে। অনজুর ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটেছিল। যাহোক, আমি এখানে তার একটা ব্যক্তিগত ঘটনা তুলে ধরতে চাইছি।

বিনোদন সাংবাদিক হিসেবে সংবাদের খোঁজে আমি প্রতিদিনই এফডিসিতে যেতাম। একদিন গেলাম রাতের দিকে। সেদিন ছিল বুধবার। অনজু ও আলমগীর তখন পরিচালক হাফিজউদ্দিনের ‘আওলাদ’ ছবির শুটিং করছিলেন এফডিসির প্রশাসনিক ভবনের দোতলায়। অনজুর পরণে ছিলো পুলিশের পোশাক। আমাকে দেখেই অনজু স্যলূট দিয়ে বললেন, ‘থেকো তোমার সঙ্গে কথা আছে।’ আমি এদিক ওদিক ঘুরে প্যাকআপের সময় অনজুর সেটে আবার গেলাম। তিনি শুটিং কস্টিউম বদল করে আমাকে নিয়ে নিচে নামলেন। বললেন, ‘গাড়িতে উঠো।’ উঠলাম। গাড়ি ছুটে চললো সংসদ ভবনের পাশে তার বাসার দিকে।

তিনি বলেন, ‘কাল একটি পত্রিকায় পরিচালক এফ কবীর চৌধুরী ও আমার বিয়ের খবর প্রকাশ হতে যাচ্ছে। বিশ্বাস কর আমি তাকে বিয়ে করিনি।’ অনজুর বিয়ের কাবিন তখন আমার পকেটে। বিলম্বে পাওয়ায় আমি নিউজটি করতে পারিনি। আমি তাকে বললাম, ‘তুমি যখন বিয়ে করনি, তখন সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর তুমি কি পত্রিকাটির বিরুদ্ধে মামলা করবে?’ অনজু বলেন, ‘দরকার হলে তাই করতে হবে। পুরো ব্যাপারটাই আহমদ জামান চৌধুরী (চিত্রালী সম্পাদক) ও কবীর ভাইয়ের ষড়যন্ত্র।’ ততক্ষণে আমরা ফার্মগেটে পৌঁছে গেছি। আমি গাড়ি থামাতে বললাম। গাড়ি থামতেই নেমে গেলাম।

পকেট থেকে কাবিনের কপিটি বের করে বললাম, ‘তুমি বিয়ে করেছ। এই যে কাবিনের কপি। দেরিতে পাওয়ায় আমি নিউজটি করতে পারিনি। এটা কারো ষড়যন্ত্র নয়। একটা সত্যকে আমাকে দিয়ে তুমি মিথ্যা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছ।’ অনজু একটু অবাক হলেন – আমার পকেটে কাবিন থাকা সত্তে¡ও আগে থেকে তাকে বুঝতে দেইনি বলে। অনজু বললেন, ‘কাল সকালে বাসায় আস, এই নিয়ে বিস্তারিত কথা বলব।’ পরদিন আর আমার অনজুর বাসায় যাওয়া হয়নি।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত