প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মোস্তফা কামাল পলাশ: করোনা, করো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ ! উচ্চ-শিক্ষা ও গবেষণায় একটি যুগান্তকারি পরিবর্তন নিয়ে এসেছে

মোস্তফা কামাল পলাশ: করোনা ভাইরাসের প্রভাবে উচ্চ-শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ করে বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে একটি যুগান্ত করি পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। এই পরিবর্তনটা আগামী ১০ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এমনিতেই চলে আসত। বিশ্বের বড়-বড় বৈজ্ঞানিক সম্মেলনগুলো আয়োজনের জন্য উন্নত বিশ্বের বড়-বড় শহরগুলো মধ্যে একপ্রকার প্রতিযোগিতা চলছে। ঐ শহরগুলোর অর্থনীতির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে ঐ সকল বৈজ্ঞানিক সম্মেলন আয়োজন করে। যেমন American Geophysical Union বার্ষিক সম্মেলনটি নিয়মিত ভাবে আয়োজিত হতো আমেরিকার সলিকনভ্যালি হিসাবে পরিচিত সান-ফ্রান্সিসকো শহরে।

প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে আয়োজিত হতো। প্রায় ৩০ হাজার বৈজ্ঞানিক, ছাত্র-ছাত্রী, ও বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ৭ দিন ধরে ঐ শহরে অবস্থান করত। ২০১৫ সালে আমি যখন ঐ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করি তখন শুধু হোটেল ভাড়া দিতে হয়েছিল প্রতি রাত ৩০০ ডালার করে। ঐ ৩০ হাজার মানুষ বিশ্বের প্রায় সকল দেশ থেকে আসতো। ঐ সম্মেলন থেকে ব্যাপক ভাবে লাভবান হতো বিমান কোম্পানি, আবাসিক হোটেল, রেস্টুরেন্ট, সুভেনির বিক্রেতা আরও কত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। করোনা মাতামাতি শুরুর পর থেকে প্রায় সকল বৈজ্ঞানিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে অনলাইনে। অনলাইনে আয়োজনের কারণে যে সম্মেলন গুলোর গুরুত্ব হারিয়েছে তা বলার কোন অবকাশ নাই।

এই সপ্তাহেই শুরু হয়েছে The Canadian Meteorological and Oceanographic Society (CMOS) 55th Congress। এই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল বিশ্বের সুন্দরতম শহর হিসাবে পরিচিত কানাডার ভ্যান্কুভারে। আমি নিজেও এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতেছি একই সাথে নিজের গবেষণা প্রবন্ধের উপর একটি প্রেজেন্টেশন দিতে ও সম্মেলনের আয়োজক স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে। শারীরিক ভাবে উপস্থিতি সম্মেলন থেকে অনলাইনে চলে যাওয়ার ব্যবসায়ীদের সাথে-সাথে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্রাজুয়েট ছাত্র-ছাত্রীরা। সুপারভাইজারদের টাকায় নতুন-নতুন শহর ঘুরার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এই যে কত আশা করে অপেক্ষা করতেছিলাম ভ্যান্কুভার ঘুরতে যাব সম্মেলন উপলক্ষে সেই সুযোগটা নষ্ট হয়ে গেল। করোনার কারণে সুপারভাইজারদের সাথে-সাথে সবচেয়ে লাভবান হয়েছে সম্ভবত আইটি প্রফেশনের লোকেরা। আইটি প্রফেশনের ব্যবসায়ী ও চাকুরীজীবী সবাই।

অনলাইন সম্মেলন আয়োজনের জন্য অনেক কম্প্রিহেনসিভ সফটওয়ার তৈরি হয়েছে। এক সফটওয়ারের একটি বৈজ্ঞানিক সম্মেলন আয়োজনের সকল উপকরণ রয়েছে। এই যেমন আমার বর্তমান সম্মেলনটি আয়োজন করা হচ্ছে EventMobi নামে একটি সফটওয়ারের মাধ্যম। বেশিভাগ বৈজ্ঞানিক সম্মেলন প্রথম দিন সন্ধ্যায় আইসব্রেকার নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করে। যেখানে ফ্রি ফুড ও বিভিন্ন ধরনের ড্রিংক অনুষ্ঠানের অতিথিদের জন্য ফ্রি।

ঐ সকল অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের বৈজ্ঞানিক, ছাত্র-ছাত্রীরা খবার সাথে সাথে বিভিন্ন আলোচনায় অংশগ্রহণ করে থাকেন। অনেক সময় এক টেবিলে কিছুক্ষণ বসার পরে অন্য টেবিলের আলোচনায় যোগ দিয়ে নতুন করে বৈজ্ঞানিক, ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে পরিচিত হয়ে নিজের প্রফেশনাল নেটওয়ার্কিং বাড়ায়। খুব অবাক হয়েছি এই সপ্তাহে এটা দেখে যে সেই একই রকম ভার্চুয়াল আইসব্রেকার এর বসা করেছে আমার সম্মেলনটি যে সফটওয়ার ব্যব হার করেছে সেই সফটওয়ারটি। ভার্চুয়াল আইসব্রেকারের ইন্টারফেসটি পুরো কম্পিউটার গেমের মতো। একটি মাঠের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন টেবিল। বিভিন্ন টেবিলে বসেছে বিভিন্ন গবেষণা বিষয়ের সাথে সংযুক্ত মানুষরা। কিছুক্ষণ পর-পর মানুষ টেবিল পরিবর্তন করছে।

উন্নত বিশ্বের সকল দেশের পুরো দমে শিক্ষা ও গবেষণা চলছে। অথচ বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুলো ছাড়া দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আজ প্রায় দেড় বছর ধরে। এই বন্ধের কারণে যে ক্ষতিটা হচ্ছে সেই ক্ষতি কোনদিনও পূরণ হবে না তা বিশ্বাস করার পক্ষে যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে। (লেখাটি কানাডা প্রবাসী লেখকের ফেইসবুক পোষ্ট থেকে সংগৃহিত)

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত