প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রবীর বিকাশ সরকার: রক্তিম অভিনন্দন দৈনিক ‘আমাদের নতুন সময়’ এবং নাঈমুল ইসলাম খান

প্রবীর বিকাশ সরকার: নতুন প্রজন্মের সংবাদপত্র দৈনিক আমাদের নতুন সময় নবম বর্ষে পদার্পণ করলো। প্রাণঢালা রক্তিম অভিনন্দন জানাই। দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান বাংলাদেশের গণমাধ্যম জগতে একজন স্বনামধন্য, সম্মানিত সাংবাদিক এবং তথ্য বিশ্লেষক। নাঈমুল আমার কৈশোরকালের বন্ধু। কুমিল্লা শহরের বাগিচাগাঁও তার বাসা এবং আমি তখন ধর্মসাগর পশ্চিম পাড়স্থ অধিবাসী। দুই পাড়াতে আমাদের যাওয়া-আসা ছিলো প্রায় নিয়মিত কলেজজীবনে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আলাদা হয়ে গেলেও যোগাযোগ ছিলো, কুমিল্লায় মাঝে মাঝে নানা অনুষ্ঠান উপলক্ষে দেখা হতো, আড্ডা হতো। অনেক স্মৃতি আমাদের।

আমি ১৯৮৪ সালে জাপানে চলে আসি, ১৯৯১ সালে প্রকাশ করি মাসিক ‘মানচিত্র’ নামে একটি তথ্যভিত্তিক ট্যাবলয়েড কাগজ, পরে ম্যাগাজিন। তখন নাঈমও পুরো দস্তুর সাংবাদিক এবং একাধিক সংবাদপত্রের সঙ্গে জড়িত। দুজনেই অসম্ভব ব্যস্ত তখন। তারপরও কদাচিৎ ফোনে আলাপ হয়েছে। ২০১০ সালে অনেক বছর পর হঠাৎ করে দেখা টোকিওতে। নাঈম ঝটিকা সফরে জাপানে এসেছিলো। আমি তখন মাসিক ‘দশদিক’ নামে একটি কাগজে অতিথি নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত। তাকে অফিসে আমন্ত্রণ জানাই। আমরা কিছুক্ষণ নানা বিষয়ে কথা বলি, স্মৃতিচারণ করি, মধ্যাহ্নভোজ গ্রহণ করি। সেদিন উপস্থিত ছিলেন দশদিক প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সানাউল হক এবং একজন কর্মকর্তা।

আজ সত্যিই গর্ববোধ করি যে, আমাদের সময়কার অনেক বন্ধু-বান্ধবীর মধ্যে নাঈম এমন একজন ব্যক্তিত্ব যে শুধু সম্মান ও মর্যাদার আসনেই অধিষ্ঠিত নয়, দেশ-বিদেশের অগনতি নানা স্তরের বাঙালির কাছে সুপরিচিত একটি নাম। পরিবর্তনশীল পৃথিবীর নানাবিধ পরিবর্তন ও বিবর্তনের গতিশীল ধারক, বাহক ও প্রচারের প্রধান পন্থা হচ্ছে গণমাধ্যম। সুদীর্ঘকাল দেশ-বিদেশে সর্বদা সজাগ, সচেতন এবং অনুসন্ধিসাজনিত বিপুল অভিজ্ঞতার আলোকে সাংবাদিক এবং সার্বিক পর্যবেক্ষক হিসেবে নাঈমুল ইসলাম খান অসামান্য এক বিপ্লব সাধন করেছে বিগত তিন দশকের বেশি সময়ে বাংলাদেশের আধুনিক সংবাদপত্র জগতে। একাধিক অগ্রসর দৈনিক সংবাদপত্রের সে মূল চিন্তক ও পরিচালক হিসেবে অনুকরণযোগ্য সাক্ষর রেখেছে। আজকের বাংলাদেশে যে ক’টি প্রধান দৈনিক সংবাদপত্র তাদের প্রধান সম্পাদক ও সাংবাদিকরা তার পরিচালনাধীনে কাজ করেছেন, কাজ শিখেছেন।

নাঈমুল ইসলাম খান অত্যন্ত বিচক্ষণ, ধীশক্তিসম্পন্ন এনার্জিটিক একজন বাঙালি। তার প্রমাণ একাধিক সংবাদভিত্তিক পত্রিকার সে প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান তত্ত্বাবধায়ক। বহু তরুণ সাংবাদিক তার অনুসারী, অনুগামী। একজন সাংবাদিক হিসেবেই শুধু নয়, একজন সফল ব্যবসায়ীও হিসেবেও নাঈমুল ইসলাম খান আমাদের অহংকার। আমাদের প্রজন্মের সবচেয়ে চৌকস এবং মেধাবী কবি আবু হাসান শাহরিয়ার তার কৈশোরকালীন বন্ধু এবং সহযোদ্ধা। দুজনেই অনেক বছর একাত্ম হয়ে সংবাদপত্র সম্পাদনা করেছে এবং ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে, স্বীকার বা নাই করি। সময় তার অনির্বাণ সাক্ষী।

স্বনামধন্য আবু হাসান শাহরিয়ারও আমার কৈশোরকালের বন্ধু, কুমিল্লায় তার সঙ্গে আমার পরিচয় ছড়ালেখার মধ্য দিয়ে। আজ ভাবতে ভালো লাগছে যে, নাঈমুল ইসলাম খান, আবু হাসান শাহরিয়ার এবং আমি সাংবাদিক হিসেবে আমাদের বন্ধু-বান্ধবীদের মধ্যে পরিচিত। অনেকেই নানা পেশায় নিয়োজিত দেশ-বিদেশে। দেখা-সাক্ষাৎ নেই বললেই চলে, কিন্তু সেই কলেজজীবন থেকে আজও আমরা তিনজন লেখালেখি বা সাংবাদিকতার দর্পণে দৃশ্যমান।

আমি সবসময় বলি, জীবনে একবারই বাঁচা, যদি জন্মান্তর ঘটেও সেটা পরের বিষয়। এই জনমে ইতিহাস হতে হবে না হয়, ইতিহাস সৃষ্টি করতে হবে হোক সেটা ছলে-বলে-কৌশলে। কাজ করতে গেলে ভুলভ্রান্তি, তর্ক-বিতর্ক, দোষগুণ থাকবেই। প্রাণী, বস্তু এবং পদার্থ মাত্রই কার্য-কারণ তত্ত্ব দ্বারা প্রভাবিত। এটাই বাস্তবতা। আমার বিশ্বাস, বন্ধুদ্বয় নাঈমুল ইসলাম খান, আবু হাসান শাহরিয়ারের পাশাপাশি আমিও মনে হয় কিছুটা হলেও ইতিহাস হতে পেরেছি বা সৃষ্টি করেছি! এইটুকু নিয়েই আমাদের তৃপ্তি এবং এগিয়ে চলা। আবারও অভিনন্দন চিরকালের প্রফুল্লচিত্ত বন্ধু আমার নাঈমুল ইসলাম খান। এগিয়ে চলো। সচেষ্ট থাকাটাই বিজয়ের একমাত্র পথ। আরও আরও সাফল্য কামনা করছি।

লেখক: রবীন্দ্রগবেষক ও কথাসাহিত্যিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত