প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] চাঁপাইনবাবগঞ্জে কঠোর লকডাউন শুরু, জরুরি যানবাহন ছাড়া সকল ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে

সাহাবুদ্দিন সনু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ: [২] চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ও সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়েছে লকডাউন, যা থাকবে আগামী ৭ দিন। মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের নির্দেশনাক্রমে জনগণকে সুরক্ষিত ও নিরাপদ রাখতে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ও স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের পরামর্শে আগামী ৭ দিনের জন্য জেলা জুড়ে ১১ টি নিয়ে নির্দেশনাসহ সর্বাত্মক লকডাউন কার্যকর হচ্ছে।  মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে ৩১ মে মধ্যরাত পর্যন্ত এই লকডাউনে চলাচলে বিধি-নিষেধ কার্যকর করতে মাঠে রয়েছে সিভিল প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সকাল থেকে জেলা শহরের প্রবেশ দ্বার দ্বারিয়াপুর, নয়াগোলা মোড়, বারঘরিয়া, শান্তিমোড়, সিসিডিবি মোড়, বাতেন খাঁ মোড়সহ বিভিন্ন পয়েন্টে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান এবং বিভিন্ন স্থানে গাড়ি নিয়ে টহল দিতে দেখা গেছে।

[৩] জরুরি যানবাহন ছাড়া সকল ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। প্রয়োজন ব্যতীত কোন যান নিয়ে বের হলে তাদের কৈফিয়ত তলব করছে। এদিকে রাস্তাগুলোতে মানুষের চলাচল একেবারে কম দেখা গেছে। কোথাও কোথাও জনমানবশূণ্যও ছিল। আর যারা বের হচ্ছেন তারা প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে গুটি কয়েক মোটরসাইকেল, রিকশা চলতে দেখা গেছে। তবে কয়েকজন রিকশা চালক জানান, যাত্রীর খোঁজে বের হলেও তেমন যাত্রী না পাওয়ায় তারা রিকশা চালানো বন্ধ করে দিয়েছে। তারা বলছেন, করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় যাত্রী না পেলেও কষ্ট নাই, লকডাউনে যেন শীথিলতা না থাকে।

[৪] এদিকে লকডাউন কঠোরভাবে কার্যকরে সকাল থেকে জেলা প্রশাসনের ম্যাজিষ্ট্রেট ও পুলিশ মাঠে তৎপর রয়েছে। শহরের ২৭টি স্থানে পুলিশ চেকপোষ্ট বসানো হয়েছে। জেলা শহরের বড় বড় বিপনী বিতানসহ অন্যান্য সকল দোকান বন্ধ রয়েছে। এছাড়া বনলতা ট্রেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বন্ধ রয়েছে বলে জানান সহকারি ষ্টেশন মাষ্টার মোঃ ওবায়দুল্লাহ। তবে জরুরি সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠান-সংস্থা খোলা রয়েছে। সীমিত পরিসরে দেয়া হচ্ছে ব্যাংকিং সেবা।

[৫] লকডাউনে ছাড় রয়েছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, ওষুধের দোকান, সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, দমকল, আদালত, জল, বিদ্যুৎ, কৃষিকাজ, পণ্য চলাচল, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া। লকডাউন দেওয়ায় অনেক মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এদিকে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ জাকিউল ইসলাম জানান, যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তা যাতে জনসাধারণ পরিপালন করে সেটা নিশ্চিত করতে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেটরা মাঠে কাজ করছেন। এছাড়া ম্যাজিষ্ট্রেটরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের পাশাপাশি মাস্ক বিতরণ করছেন।

 

 

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত