প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইসরাইল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ কিংবা যুদ্ধবিরতি কোনোটাই কি কাঙ্ক্ষিত সমাধান?

মোজাফ্ফর হোসেন : আমরা যখন ফিলিস্তিনদের জন্য দোয়া করি, তখন আসলে আমরা কোন ফিলিস্তিনদের জন্য দোয়া করি? কাদের আমরা সাহায্য করার কথা বলি? ফিলিস্তিনি পরিষ্কারভাবে দুটি অংশে বিভক্ত। একটি অংশ, যাকে আমরা ফিলিস্তিন সরকার বা কর্তৃপক্ষ বলি, সেটা চালায় ফাতাহ। অন্যদিকে যে অংশ ইসরাইল দ্বারা আক্রান্ত, সেই গাজা অঞ্চলটি চলে হামাসের নেতৃত্বে। ২০০৬ সালের নির্বাচনে হামাস জেতার পরও ফাতাহ তাদের ক্ষমতা দেয়নি। ফলে হামাস জোর করে গাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। গাজায় তারা চালু করেছে পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা। সেখানকার শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, হাসপাতাল, রাজস্ব সংগ্রহ, নিরাপত্তা আর মিসর ও ইসরায়েলের সঙ্গে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সবকিছুই হামাসের অধীনে। ফলে একটা দেশে দুটি সরকার কাজ করছে। বলা চলে: একদেশ, দুটি রাষ্ট্র। বিশ্বে ফাতাহ বৈধ, হামাস অবৈধ। ফলে সারা বিশ্বে তাদের যে অ্যাম্বাসি সেটা ফাতাহর। হামাসের সঙ্গে তার সম্পর্ক নেই।

পশ্চিমা বিশ্বের কাছে হামাস একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। ফিলিস্তিনের কেন্দ্র সবসময় চায় গাজার ওপর ফিলিস্তিনের পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে। কিন্তু হামাস সেটা হতে দেবে না। তার কিছু কারণও আছে। গাজা ফিলিস্তিন কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে গেলে গাজা-ইসরাইল সীমান্ত তারা দেখবে। হামাসকে অস্ত্রভাণ্ডার সমর্পণ করতে হবে। তাদের সৈন্যবাহিনী নিষক্রিয় করতে হবে। এতে ইসরায়েলের সামরিক কর্তৃত্ব গাজায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই হামাস সবকিছু সমর্পণ করছে না। এই কারণে ২০১৭ সালে ফাতাহ ও হামাসের মধ্যে (হামাসের কর্তৃত্ব বজায় রেখেই) একপ্রকারের শান্তিচুক্তি হলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, এতে ফিলিস্তিনের সঙ্গে ইসরায়েলের শান্তিপ্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ল। এসব কারণে ফিলিস্তিনি ভূমিতে ‘একটি শক্তি, একটি আইন ও নিরাপত্তা’ব্যবস্থা চালু করার কথা বলা হলেও সেটার বাস্তবায়ন সহজ না। তাহলে উপায়? একদিকে হামাসের পক্ষে একা ইসরাইলের মতো বৃহৎ শক্তির মোকাবেলা করা সম্ভব না। অন্যদিকে, গাজার মানুষের নিরাপত্তার কথা ভেবে যদি উভয় শক্তি যূথবদ্ধ হয়, তাহলে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে।

ইসরাইল পশ্চিমা বিশ্ব থেকে যে সমর্থন পাবে, সেই পরিমাণ সমর্থন ফিলিস্তিন কি আরবরাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে পাবে? না, সেই সম্ভাবনা যে নেই, সেটা আমরা জানি। বরঞ্চ আরবরাষ্ট্র থেকেও ইসরাইল কিছু সমর্থন পাবে। তার মানে সে ক্ষেত্রেও ফিলিস্তিনের কোনো নিরাপত্তা তৈরি হলো না। এরপরও, জাতীয় ঐক্য ছাড়া কোনো সমাধান আসাও করা যায় না। দুটি রাজনৈতিক শক্তিকে এক হতে হবে দেশের জনমানুষের স্বার্থে। হামাস এবং ফাতাহ এক না হলে বাইরে থেকে মানুষ কাকে সাহায্যের ডাক দেবে? নিশ্চিত করেই হামাসকে সাহায্য করবে, কিন্তু কার মাধ্যমে? গতকাল একটা খবরে দেখলাম, দেশটির জনগণ জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলছে ইসরাইল আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। এতে ইসরাইলে বসবাসকারী ১৬ লাখসহ অন্তত ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি অংশ নিচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই ধর্মঘটকে সমর্থন দিয়েছে হামাস ও ফাতাহ। এখন তারা ইসরাইলের হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে একসঙ্গে রুখে দাঁড়াবে নাকি ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির যে প্রস্তাব দিয়েছে মিসর, জর্ডান ও ফ্রান্স সেটাই অনুসরণ করবে? যুদ্ধ কিংবা যুদ্ধবিরতি কোনোটাই কি কাক্সিক্ষত সমাধান? জমিজমার বিরোধ, জাতিগত বিরোধ মানুষই যদি না বাঁচল এই বিরোধ দিয়ে কি অর্জন করবে বিশ্বের মাথামোটা দেশগুলো?  ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত