প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] গোয়ালন্দে রোজাকে সামনে রেখে রং-চিনির মিশ্রণে তৈরি হচ্ছে ভেজাল আঁখের গুড়

কামাল হোসেন: [২] পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের মগবুলের দোকান চর ধোপাখালী এলাকায় চিনি, আটা, ক্ষতিকর রং ও কেমিক্যাল মিশিয়ে আঁখের গুড় তৈরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সকল নকল গুড় উচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে খাঁটি গুড়ের লেবেল লাগিয়ে।

[৩] গুড় তৈরির সঙ্গে সরাসরি জড়িত স্থানীয় চর ধোপাখালী গ্রামের গোলাম আলী শেখের ছেলে আফজাল শেখ। শনিবার দুপুরে সরেজমিন আফজালের বাড়িতে গিয়ে ভেজাল গুড় তৈরির এমন চিত্র দেখা যায়।

[৪] রং, কাঠ বার্নিশে ব্যবহৃত রং ও সাথে এক ধরনের কেমিক্যাল, আটা, হাইড্রোজ, চিনি ব্যবহার করা হয় । বিষাক্ত রংয়ের সাথে চিনি মিশিয়ে চুলোয় দীর্ঘসময় জাল দিয়ে ওই গুড় তৈরী করা হয়। যা মানব দেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এরপর ওই ভেজাল আঁখের গুড়কে আসল গুড় হিসেবে অধিক মূল্যে বাজারে বিক্রি করেন। এতে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হওয়াসহ চরম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

[৫] নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা জানান, আফজাল শেখ গোয়ালন্দ বাজার, খানখানাপুর বাজার,বসন্তপুর বাজার, আরিফ বাজার, আনন্দ বাজারসহ এ অঞ্চলের প্রধান গুড় সরবরাহকারী। তিনি প্রতিনিয়ত শতশত কেজি ভেজাল গুড় উৎপাদন করে চলেছেন। ভেজাল গুড় তৈরির অপরাধে ইতিপূর্বে তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১লক্ষ ২৫ হাজার টাকা জরিমানাও দিয়েছেন। এরপর কিছুদিন বন্ধ রাখলেও রোজাকে সামনে রেখে আবারো শুরু করেছেন পুরোদমে।

[৬] ভেজাল গুড় প্রস্তুতকারী আফজাল শেখ বলেন, রাজবাড়ীর পাংশা থেকে এক জ্বাল দেয়া আখের গুড় নিয়ে এসে, গুড় তৈরির জন্য ৫০ কেজি পরিমান গুড় ও ২৫ কেজি সাদা চিনি ব্যবহার করে গুড়-চিনির মিশ্রন আগুনে জালিয়ে টিনের ছোট ছোট ড্রামে গুড় তৈরি করেন। এতে মিষ্টিতে ব্যবহৃত রং ব্যবহার করা হয়।

[৭] এছাড়া কোনো কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না। এক-তৃতীয়াংশ সাদা চিনি মেশানোর ব্যাপারে তিনি দাবী করেন, এটা তিনি কতৃপক্ষকে জানিয়েই মেশান।এতে গুড় শক্ত ও সাদা হয়। গুড় তৈরির জন্য তার লাইসেন্স রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে সেটা দেখাতে পারেননি। নবায়নের জন্য অফিসার সূর্য কুমারের কাছে দিয়েছেন বলে জানান।

[৮] তবে গুড় তৈরির চুলায় ও পাশে গুড়ের সঙ্গে কেমিক্যালের মিশ্রণ দেখা যায়। এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

[৯] এ বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর সূর্য কুমার প্রামাণিক বলেন, ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্যের সঙ্গে ক্যামিক্যালের মিশ্রণ করা গুরুতর অপরাধ। ইতিপূর্বে এ অপরাধে আফজালকে জরিমানা করা হয়। রোজার আগে আমরা আবারো ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করবো। অপরাধী কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। সম্পাদনা: সাদেক আলী

সর্বাধিক পঠিত