প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাঘারপাড়ায় চিত্রা নদীতে স্থানীয় উদ্যোগে নির্মীত হচ্ছে স্থায়ী সেতু

আজিজুল ইসলামঃ সেতু না থাকায় তাদের একমাত্র ভরসা নিজেদের তৈরী বাঁশের সাঁকো। ঝুঁকিপূর্ণ এ সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন পারাপার হয় ১০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। পারাপার হয় কয়েকশ শিক্ষার্থীও।

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের খানপুর বাজার সংলগ্ন চিত্রা নদীর ওপর নির্মিত এ সাঁকোটিই পারাপারের একমাত্র ভরসা দু’পারের বাসিন্দাদের। বিশালাকৃতির ঝুঁকিপূর্ণ এ সাঁকো পার হওয়ার সময় ভয়ে থাকে সবাই। পা পিছলে পড়ে গিয়ে ঘটে দূর্ঘটনা। সাঁতার না জানা শিক্ষার্থীদের নিয়ে আশংকায় থাকতে হয় অভিভাবক ও শিক্ষকদের। একটি ব্রিজের অভাবে এমন দূর্দশা এখানকার বাসিন্দাদের। ব্রিজ নির্মাণের জন্য স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ধর্ণা দিয়েছে। তবে মেলেনি ব্রিজ- মিলেছে আশ্বাস! এমনকি সাঁকো নির্মাণে সরকারি কোন অনুদানও মেলেনা। প্রতিবছর দু’পারের বাসিন্দারা সেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন। চাঁদা তুলে কেনেন বাঁশ-খুটি। এটি তত্তাবধান করে খানপুর বাজার কমিটি।

এই দূর্ভোগ লাঘবে এলাকার তরুণ সমাজ এগিয়ে এসেছে । তারা নিজেদের উদ্যোগে চিত্রা নদীর উপর স্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। খানপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম খান,খানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সেলিম হোসেন,বাজার কমিটির সভাপতি অশোক বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক হারুন খান স্থানীয়ভাবে কিছু টাকা সংগ্রহ করে আজ শুক্রবার নদীর দুই পাশে মাটি ভরাট করে সেতু নির্মাণ কাজের শুভ সূচনা করেছেন।
বাজার কমিটির সভাপতি অশোক বিশ্বাস জানান,সপ্তাহে দু’দিন শুক্র ও সোমবার খানপুরে হাট বসে।

নদীর উত্তর পাশের শালিখা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে আসেন এ হাটে । এছাড়া কয়েকশ শিক্ষার্থী পার হয় এ সাঁকো দিয়ে। বাজার কমিটির সেক্রেটারী মোঃ হারুন অর রশিদ বলেন “ সাপ্তাহিক হাট বাদেও প্রতিদিন বৈকালীন বাজার বসে।বাজার বাদেও দিনের বেলা সকাল থেকে রাত অবধি প্রায় সহস্রাধিক লোকের আনাগোনা চলে এ বাজারে। বাজারের দক্ষিনপার্শ্বে রয়েছে ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-প্রাইমারী,হাইস্কুল ও দাখিল মাদ্রাসা। এসমস্যা সমাধানের জন্যই আমরা নিজেদের অর্থায়নে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন।

খানপুর চিত্রা নদী পার হলেই উত্তরে মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার সীমাখালি,কাতলী,ছয়ঘরিয়া হরিশপুর,খোলাবাড়িয়া,আড়ুয়াকান্দি ও পাঁচকাউনিয়া গ্রাম। এসব গ্রামের অসংখ্য মানুষ প্রতিদিন পারাপার হয় এ সাঁকো দিয়ে। এর মধ্যে বাঘারপাড়া উপজেলার খানপুর সিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসা, খানপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও খানপুর সরকারি প্রাথমিক দ্যিালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী পারপার হয় এ ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে। এসব শিক্ষার্থীদের অনেকেই সাঁকো থেকে ছিটকে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন একাধিকবার।

উদ্যোক্তা খানপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম খান বলেন‘ শিক্ষার্থীদের বিশালাকৃতির সাঁকো পার হয়ে আসতে খুব কষ্ট হয়। সাঁকো থেকে ছিটকে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে প্রায়ই। ছেলে-মেয়েদের কষ্ট লাঘবে আমরা অনেকদিন ধরে দাবি করে আসছি খানপুর চিত্রা নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণের। কিন্তু কোনো ব্যাবস্থা না হওয়ায় আমরা স্ব-উদ্যোগে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করেছি।

সেতু নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারি সেলিম হোসেন জানান, খানপুর চিত্রা নদীর উপর ১৩৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট এই সেতু নির্মাণে আমরা আনুমানিক ১০ লক্ষ টাকা ব্যায় হবে বলে ধারণা করছি। আশা করি আমরা আমাদের কষ্ট লাঘবে নিজেরা এই কাজ শেষ করবো। তিনি সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহযোগীতা চেয়েছেন।
এ,এইচ,এম,আজিজুল ইসলাম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত