প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজিক হাসান: দেশে মৌলবাদীদের আস্ফালনের কারণ কী?

রাজিক হাসান: ছবিতে দেখা যাচ্ছে বিজয় দিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। তারা বৃত্ত আর চতুর্ভূজের পার্থক্য না বুঝলেও তাদের মধ্যে কয়েকজন পিএইচডি ডিগ্রিধারী রয়েছেন। মোস্তফা মনোয়ার জলি ভাইয়ের বদৌলতে ছবিটি হাতে পেয়েছি। আমাদের দেশে আজ মৌলবাদের এই যে আস্ফালন, এর কারণ কিন্তু এই শিক্ষকরাই। তাদের কারণেই আমাদের জাতীয় জীবনে নেমে এসেছে চিন্তার সীমাহীন বন্ধ্যাত্ব। মৌলবাদ তো চিন্তার এই বন্ধ্যাত্বই, নাকি? যদিও আদি কাল থেকেই ধারণাটি শুধু ধর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে। মৌলবাদের মূল কারণ কিন্তু শুধু অশিক্ষা নয়। মৌলবাদের আরও মূল কারণ আছে, আর তা হল হীনমন্যতা, আত্মকরুণা, আত্মমর্যাদার অবমূল্যায়ন ইত্যাদি ইত্যাদি। আমরা দশমিক পদ্ধতি আবিষ্কার করেছি। আবিষ্কার করেছি বাইনারি পদ্ধতি; কিন্তু তাতে আমরা গর্বিত নই। পশ্চিমারা সেই গণিত প্রয়োগ করে কম্পিউটার বানিয়েছে আর চীনারা সেটা নকল করে তা সস্তা করেছে। আর আমরা? আমরা আমাদের গৌরব আজ হারিয়েছি। কেন হারিয়েছি? কারণ জাতীর মেরুদন্ডের কারিগর সেই শিক্ষকেরা আজ জ্ঞানের গর্বে গর্বিত নন। তাদের জানা নেই বোধের গৌরব দিয়ে ভোগের ব্যাধি তাড়াতে। চারিদিকে শুধু ভূয়া মূল্যবোধের কচকচানি। এই যে ভূয়া মুল্যবোধের আগ্রাসন এর দায় অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরকে নিতে হবে। তারাই প্রথম নিজেদের চিন্তাশক্তির গৌরবকে ঠেলে ফেলে বস্তুগত গৌরবে আত্মসমর্পন করছে। কেউ জ্ঞানী হতে পারেন আবার কেউ জ্ঞান সংগ্রহ করতে পারেন। দুটো বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা। জ্ঞান সংগ্রাহকদের চাপে জ্ঞানীরা বিলুপ্ত আজ। আজকের দিনে শিক্ষক মানেই জ্ঞানের সাধক নন, হতে পারেন তিনি জ্ঞানের ভারবাহী এক প্রাণী।

এই প্রসঙ্গে পারস্যের বিখ্যাত কবি ওমর খৈয়ামের একটি ঘটনা বলছি। একবার কবি ওমর খৈয়াম নিশাপুরের এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। সেখানে কিছু ছাত্রের সঙ্গে দেখা হল তার। খৈয়াম দেখলেন কিছু দিনমজুর প্রতিষ্ঠানের দালানে কাজ করছে। দিনমজুরেরা গাধার পিঠে করে ইট, পাথর নিয়ে আসছে। এমন সময় হঠাৎ একটি গাধাকে নিয়ে মজুরদের শোরোগোল বেঁধে গেল। কিছুতেই গাধাটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতর ঢুকতে চাচ্ছে না। দুই থেকে চার, চার থেকে ছয় দিনমজুর এসে সর্বস্ব শক্তি প্রয়োগ করেও ব্যর্থ হচ্ছে গাধাটিকে এক বিন্দু পরিমান নড়াতে। কিছুতেই যে হচ্ছে না কিছু। প্রথমে অবাক হলেও একটু পরেই খৈয়াম বিষয়টি বুঝতে পারলেন। কাছে এসে ফিসফিসিয়ে গাধাটির কানে কানে তিনি কিছু বললেন। মুহুর্তেই গাধাটি ইট নিয়ে কলেজের ভেতর ঢুকে গেল। সবাই তখন তাজ্জব বোনে গেল। অবাক বিস্ময়ে খৈয়ামের কাছে ছাত্ররা এসে প্রশ্ন করল গাধাকে তিনি কী বলেছিলেন। খৈয়াম তখন চাপা স্বরে ছাত্রদের বললেন ‘হারিয়ে যাওয়া ফিরে পাওয়া ভ্রান্ত পথিক শোনো : নামটি তোমার কেউ জানে না, নেই কো স্মৃতি কোনো, তোমার নখ রুপ নিয়েছে গাধার খুড়ে আজ, তোমার দাঁড়ী পেছন থেকে লেজ হয়েছে জেনো।’ ছাত্ররা জিজ্ঞেস করলো, জনাব এর কারণ কী? কথাটি শুনে গাধাটি চুপচাপ কেন ভেতরে ঢুকে পড়ল? ওমর খৈয়াম বললেন :- এ গাধার আত্মা এই কলেজের এক পুরনো অধ্যাপকের আত্মা। তাই লজ্জায় গাধারুপে কলেজে ঢুকতে চাই ছিলো না কিন্তু যখন বুঝলো আমি হেন তার এক প্রধান সহকর্মী, তাকে চিনে ফেলেছি অথচ আর কেউ চিনছে না, তখন সে চুপচাপ ঢুকে পড়াই শ্রেয় মনে করল। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত