প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ৫০ বছরের অর্থনীতিতে আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে কৃষি থেকে: ড. আতিউর রহমান

ভূঁইয়া আশিক রহমান: [২] বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এ গভর্নর আরও বলেন, বাংলাদেশ অনেকদিক থেকেই সফল। কীভাবে, কোন দিক দিয়ে? দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমেছে। সামাজিক উন্নয়ন ঘটেছে। মানুষের আয়-আয়ু বেড়েছে। যা বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন। যারা বঙ্গবন্ধুকে পছন্দ করে না, যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিলো না, তারা বসে নেই। বিভিন্ন রূপ ধারণ করে চেষ্টা করছে কোনোভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অস্বস্তিতে ফেলা যায় কিনা। আমাদের চেষ্টা করে যেতে হবে, বঙ্গবন্ধুকন্যা যেন একটা স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে পারেন। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং গরিবমুখী যেসব নীতিমালার দিকে বঙ্গবন্ধু নজর দিতেন, সেদিকে বঙ্গবন্ধুকন্যাও নজর দিচ্ছেন, কিন্তু ওই জায়গাটা থেকে যেন আমরা কোনোভাবেই সরে না যাই।
জননেত্রী শেখ হাসিনাই একমাত্র যোগসূত্র বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমাদের, এই যোগসূত্র রক্ষা করতে হলে তার হাতকে আমাদের শক্তিশালী করতেই হবে। বঙ্গবন্ধুর আকাক্সক্ষার বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে দিয়েই বাস্তবায়ন সম্ভব। কারণ বঙ্গবন্ধু কী চেয়েছিলেন, শেখ হাসিনাই কেবল খুব ভালো করেই বোঝেন। অন্য যে কারও চেয়ে তিনিই বঙ্গবন্ধুকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন। ফলে শেখ হাসিনাকে আমাদের অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে যেতে হবে।

[৩] কিছু চ্যালেঞ্জ আমাদের সামনে আছে, তা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মোকাবেলা করতে হবে। কেননা বিশ^ অর্থনীতি মন্দার কবলে পড়তে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ^ অর্থনীতি এখন নিম্নগামী। পাশের দেশ ভারতের প্রবৃদ্ধি সাম্প্রতিকালের মধ্যে সবচেয়ে নিম্ন। যেসব নীতিমালা আমাদের জন্য আগে খুব ইতিবাচক ফল দিয়েছে, সেগুলোর প্রতি নতুন করে দৃষ্টি দিতে হবে।

[৪] পদ্মা সেতুতে আমরা ১.২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে পেরেছি, অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে। একসময় আমাদের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিলো মাত্র ১ বিলিয়ন ডলার। এখান থেকেই তা বোঝা যায়, আমাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা কতোটা বেড়েছে। বিশ^ব্যাংকসহ যারা আমাদের বিব্রত করতে চেয়েছিলো, তারা নিশ্চয়ই অবাক বিস্ময়ে ভাবছেন, কীভাবে এই সক্ষমতা, কোথা থেকে এলো। আরও ১০টা পদ্মা সেতু তৈরিতে ফরেন এক্সচেঞ্জ সাপোর্ট দেওয়ার মতো সক্ষমতা এখন আছে বাংলাদেশের।

[৫] পদ্মা সেতু চালু হলে অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটবে। দক্ষিণ বাংলার অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। ইতোমধ্যেই সড়ক-মহাসড়ক, সমুদ্রবন্দর, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেডসহ অভূতপূর্ব অবকাঠামোগত পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। মহাসড়কগুলো বিশ^মানের হচ্ছে। দারিদ্র্যতা কমে যাবে। মানুষের আয় রোজগার বাড়বে। কাজের জন্য আর ঢাকামুখী হবে না। প্রচুর কর্মসংস্থান হবে। বিনিয়োগ পরিবেশ আরও বেড়ে যাবে। ছোটখাটো উদ্যোক্তা, মাঝারি ও বড় উদ্যোক্তারা এখন কাজের সন্ধান করবে।

[৬] দক্ষিণ বাংলার ছোট-বড় সকল উদ্যোক্তা যেন যথেষ্ট প্রণোদনা পায় সেই ব্যবস্থা করা উচিত বাংলাদেশ ব্যাংকের। আমরা এখন যে প্রণোদনা কর্মসূচি চালু করেছি, সেখান থেকে যেন অর্থ দক্ষিণ বাংলায় যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেন নির্দেশ দেয়। কারণ দক্ষিণ বাংলা তৈরি হচ্ছে সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের অংশীদার হওয়ার জন্য। তাদের দিকে যেন আমরা নজর দিই।

[৭] বাংলাদেশ অন্য অনেক দেশের মতোই এই মুহূর্তে সংকট মোকাবেলা করছে। তাদের চেয়ে অপেক্ষাকৃত ভালো আছে এবং ভালো করছে বাংলাদেশ। তার বড় কারণ গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ যে অর্থনৈতিক কৌশল করছে, সেটি খুব কাজে লেগেছে। ৫০ বছরের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে কৃষি থেকে। একসময় ফসলে আমরা পিছিয়ে থাকলেও এখন প্রায় স্বয়ম্ভর। আমাদের কৃষির আধুনিকায়ন হয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। কৃষিতে অর্থায়ন অনেক বেড়েছে। ব্যাংকগুলো এখন কৃষিতে বিনিয়োগ করতে চাইছে। কৃষিতে রূপান্তর এসেছে। এখন ফসলি কৃষি নয়। কৃষি বলতে এখন মাছ বোঝায়, পোল্ট্রি ফার্ম বোঝায়, লাইভস্টক বোঝায়। কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াকরণ করে দেশ-বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা হচ্ছে। এসব জায়গায় আমাদের বিজ্ঞানীরা বিরাট ভূমিকা পালন করেছেন।

[৮] আমাদের কৃষিবিজ্ঞানী গবেষকেরা জলবায়ুর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য নতুন ভ্যারাইটির ধান ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনের ব্যবস্থা আবিষ্কার করেছেন। এবার বন্যার মধ্যেও কৃষি উৎপাদন কমেনি। বরং কোনো কোনো জায়গায় জলবায়ু সহিষ্ণু ভ্যারাইটি ব্যবহার করে পানির নিচে থাকা ধানও জেগে উঠেছে। সেই উৎপাদন করে কৃষক এ বছর হাসিমুখে ধান কেটেছেন। এ বছর আমন ধানের উৎপাদন ভালো। একইসঙ্গে ধানের দামও ভালো। ধানের দাম পাওয়ায় তাদের কাছে অর্থ যাচ্ছে। অর্থ দিয়ে গ্রামীণ চাহিদা তৈরি হচ্ছে। খেয়ে পরে মানুষ গ্রামে ভালো আছে। এটা কৃষির জন্যই সম্ভব হয়েছে। ই-কমার্স ব্যবহার করে ছেলেমেয়েরা গ্রামের সবজি, গ্রামের মাছ শহরে পাঠানোর ব্যবস্থা করছে। মহামারিতে থাকার বড় রক্ষাকবচ আমাদের কৃষি। কৃষকেরাই আমাদের ভরসার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। গ্রাম ও শহরে এখনো কর্মসংস্থানের সমস্যা আছে। বিশেষ করে যুবকদের মধ্যে। আমাদের জাতীয় বেকারত্ব যখন ৪ শতাংশ, যুবকদের বেকারত্ব তখন ১০ শতাংশের মতন। আমাদের শিক্ষিত বেকারত্ব প্রবল। তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরির একটা চ্যালেঞ্জ আমাদের গ্রহণ করতে হচ্ছে।

[৯] কৃষকদের মূল্যায়ন করছে সরকার। তা না হলে প্রতিবছর ৯ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি অব্যাহত রেখেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। কৃষিতে ভর্তুকির লাগাম টানার কথা অনেকেই বলেন। বিশেষ করে বিশ^ব্যাংক এবং অন্য অনেক প্রতিষ্ঠান বললেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেদিকে কান দেননি। কৃষকেরা যাতে ন্যায্যমূল্যে উপকরণ পান, এজন্য কৃষি মন্ত্রণালয়কে শক্তিশালী করেছেন। কৃষি সম্প্রাসারণ বিভাগকে অনেক শক্তিশালী করেছেন। কৃষি বিপণন জোরদার করেছেন। অনলাইন ফ্ল্যাটফরমে কৃষি পণ্য বিক্রি হচ্ছে। সরকার কৃষির প্রতি নজর রাখছে না তা নয়, তবে আরও বেশি নজর রাখা যায়। তবে সরকার একা করবে কেন, আমাদের সকলকে মনোযোগ দিতে হবে।

[১০] ৭শ’র মতো গার্মেন্টসশিল্পকারখানা গড়ে তোলেছি। এই গার্মেন্টস শিল্পের মালিকদের হাতে প্রচুর টাকা। তারা কেন উদ্বৃত্ত পুঁজি আধুনিক কৃষির দিকে নিয়ে যাচ্ছেন না? কৃষিতে কেন বিনিয়োগ করবেন না? শুধু গার্মেন্টেসে না থেকে আধুনিক কৃষিতেও গার্মেন্টস মালিকেরা বিনিয়োগে আসা উচিত। এখন অনেক শিক্ষিত ছেলেমেয়ে আধুনিক কৃষিতে যুক্ত হচ্ছে। একসময় লাইভস্টক পাশের দেশ থেকে আমদানি না করলে গরুর মাংস কেনাই যেতো না। এখন তো সেটা লাগছে না। আমরা এখন নিজেরাই গরুর মাংস সরবরাহ করতে পারছি। আমাদের পোল্ট্রিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছি। মাছে বিপ্লব ঘটেছে। ফল চাষের বিপ্লব ঘটে গেছে। আধুনিক কৃষকেরা বাংলাদেশের অর্থনীতির চেহারাটাই বদলে ফেলেছেন। কৃষি গবেষণায় সরকার প্রতিবছর অর্থ বরাদ্দ করছে। আমাদের কৃষি বিশ^বিদ্যালয়গুলো কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করছেন। আমাদের তো মনে হয়, কৃষির প্রতি সরকারের নজর কমেনি, বরং বেড়েছে।

[১১] কৃষিতে অনেক লাভ আছে। গার্মেন্টস মালিকেরা কৃষিতে বিনিয়োগ করতে পারেন। কৃষিতে বিনিয়োগ করলে আমাদের কৃষি আরও আধুনিক হবে। তারা যদি কন্ট্রাক ফার্মিংয়ের মাধ্যমে কৃষি পণ্য উৎপাদন করেন। কৃষি পণ্য উৎপাদনের চেয়েও বেশি সমস্যা আমাদের কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াকরণে। তারা যদি কৃষি প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্টগুলো তৈরি করেন তাহলে কৃষি কিংবা কৃষকেরা অনেক বেশি লাভবান হবেন। প্রচুর কৃষিপণ্য বিদেশেও রপ্তানি হবে। আর আমাদের দেশের ভেতের নিরাপদ খাবারের ভালো পরিবেশ তৈরি হবে। আমার মনে হয়, সরকারের পাশাপাশি অন্যান্য উদ্যোক্তাদেরও কৃষির দিকে নজর দেওয়া উচিত।

[১২] মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষিত বেকারদের উদ্দেশে বলেছেন যে, তোমরা শিক্ষিত হয়ে চাকরি খোঁজো না। তোমরা চাকরি দেবে, সে রকম কাজ করো। এই মহামারি সময়ে অনেক ছেলেমেয়ে গ্রামে চলে গেছে। গ্রামে গিয়ে শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা নানা ধরনের কৃষি কিংবা অকৃষি কর্মে যুক্ত হয়েছে। আমরা একটা গবেষণায় দেখেছি, মহামারি সময়ে জামালপুর ১২শ’রও বেশি নকশীকাঁথার উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে। তারা এখন প্রায় ১৫-২০ হাজার নারী কর্মীকে কাজ দেয়। এই যে পণ্যগুলো তৈরি হচ্ছে, তা যেন দেশ-বিদেশে বিক্রি করা যায়, সেজন্য শিক্ষিত ছেলেমেয়েকে জেলা প্রশাসন ভলান্টিয়ার হিসেবে নিয়েছে। তাদের দিয়ে ছবি তোলাচ্ছে। তারপর ফেসবুকে আপলোড করছে। এই ছেলেমেয়েগুলোকে যদি উদ্যোক্তা করতে চাই, তাহলে তাদের একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিলে উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করতে পারি। ১০-২০ হাজার টাকা দিয়েও তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে আমরা তৈরি করতে পারি। এই ছেলেমেয়েগুলো তখন এই শিল্পকে সহযোগিতা করবে। এভাবে প্রচুর কাজ করা যায়। এটা কৃষি কিংবা অকৃষিতেও করা সম্ভব।

[১৩] বাংলাদেশ ব্যাংক মহামারিকালে অনেক ইতিবাচক কাজ করেছে। প্রণোদনা প্যাকেজ, সিআরআর এবং এসএলআর কমিয়ে লিকুইডিটিটা বাজারে রেখে দিয়েছে। মন্দাকালীন কিংবা কোনো দুঃসময়ে যদি লিকুইডিটি সমস্যা না হয়, তাহলে ইকোনোমি সচল থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংক সেটা বজায় রেখেছে। তারা কৃষি ও এসএমইর জন্য যে সমস্ত ঋণ মাত্র ৪ শতাংশে প্রণোদনা প্যাকেজ হিসেবে দেওয়ার ঘোষণা করেছে, তা যেন বাস্তবায়ন হয় সেজন্য তারা মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করেছে। তারা একটি ডিজিটাল বুথ তৈরি চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক তার বিভিন্ন শাখার মাধ্যমে আশেপাশের ব্যাংকগুলোকে মনিটর করছে। যে সমস্ত উদ্যোক্তাদের টাকাগুলো দেওয়ার কথা ছিলো, সেগুলো কি তারা দিচ্ছে? নিয়মিত মনিটর করে তা রিপোর্ট করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক যথেষ্ট কাজ করছে। একইসঙ্গে কর্মসংস্থান ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকও এ ধরনের ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকগুলোর জন্য একটা নতুন প্যাকেজ তারা দিয়েছে। এতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। কমংস্থান ব্যাংক বলেছে, গত কয়েক মাসে ৩২ হাজার নতুন উদ্যোক্তাকে ১-৫ লাখ টাকা দিতে পারছে। তাদের লক্ষ্য এ বছর নতুন দুই লাখ কর্মসংস্থান তৈরি করবে। ব্যাংকিং খাতে আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রো-অ্যাক্টিভ। অনেক কাজ করছে। একথাও ঠিক ব্যাংকিং খাতে অনেক দুষ্টু লোকও আছেন, যারা টাকা নিয়ে ফেরত দেয় না। আমার সেদিকে সতর্ক থেকে নতুনদের, মাঝারি উদ্যোক্তাদের কী করে টাকা দেওয়া যায়, সেই পথ বের করতে হবে।

[১৪] আমাদের মেয়েরা ই-কমার্সের মাধ্যমে অনেক ছোট ছোট ব্যবসা করছে। তাদের ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় নেই। কারণ তারা একটা ফ্ল্যাটে বসে ব্যবসাটা করছে। ঘরে বসে ব্যবসা করলে তো ট্রেড লাইসেন্স পাবে না। বাণিজ্যিক এলাকার ঠিকানা লাগবে। আমরা কি এরকম একটা ছাড় দিতে পারি না, যারা ই-কমার্স করছে, তারা যে ব্যাংক একাউন্ট খুলছেন, এই রিটেইল ব্যাংক একাউন্টাই একটা বিজনেস্ ব্যাংক একাউন্টে পরিণত করার দিকে নজর দেওয়া যায় না? যদি বিজনেস্ একাউন্টে পরিণত করা যায়, তাহলে সেটাই একটা ট্রেড লাইসেন্স হিসেবে কাজ করবে। ছেলেমেয়েরা টাকা চায় না, নিয়মনীতি সহজ করে দিলে তারা অনেক উৎসাহী হবে। দ্বিগুন উৎসাহে কাজ করবে।

[১৫] বাংলাদেশের অর্থনীতি পুরোপুরি ভারসাম্যপূর্ণ- এ কথা কেউ বলবে না। তবে বাংলাদেশের অর্থনীতির একটা বড় শক্তি হলো, বিগত এক যুগ ধরে আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি কৌশল গ্রহণ করেছে। যার কারণে কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কাছে তারা নানাভাবে অর্থ ও বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে অর্থনীতির দিকের পাটাতনটা মোটামুটি শক্তিশালী করেছে। সেদিক থেকে অর্থনীতির নিচের পাটাতনটা শক্তিশালী হয়েছে। প্রতিদিন ঢাকা শহর থেকে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা কেবল মুঠোফোনেই যাচ্ছে। ব্যাংকগুলোর লাখ লাখ এজেন্ট তৈরি হয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লাখো এজেন্ট তৈরি হয়েছে। যদি ১০ লাখ এজেন্ট থেকে থাকে, তারা যদি একটা করে লোকও বাড়তি নিয়োগ করে থাকে, তার মানে ২০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়ে গেছে। এটা ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল। আমাদের অর্থনীতি অনেকটাই ডিজিটালাইজড করে ফেলেছি। সেজন্য অন্য ১০টা অর্থনীতির চেয়ে অনেক স্থিতিশীল। অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ।

[১৬] করোনার প্রথম ঢেউয়ে মোটামুটি সাঁতরে তীরে উঠেছি অর্থনীতি নিয়ে। দ্বিতীয় ঢেউ আমরা ভালোভাবে সামাল দিতে পারবো। কারণ গত ধাক্কায় আমরা অনেক কিছু শিখেছি। প্রথম ঢেউয়ের সময় আমরা পরিস্থিতি মোকাবেলা করে সাঁতার শিখেছি। দ্বিতীয় ঢেউয়ে আমরা খুব বড় কোনো বিপদে পড়বো না। আমরা শক্তভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানি, আমরা যদি মাস্ক পরি, তাহলে এতো বিপদে পড়বো না। ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যেতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য লকডাউন করার চিন্তা একদমই করা যাবে না। মাস্ক না ব্যবহার করলে জরিমানার বিধানটা অব্যাহত রাখতে হবে। যাতে মানুষ মাস্ক পরতে বাধ্য হয়। আগামী জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি নাগাদ যদি টিকা এসে যায়, এই টিকা যাতে সকলকে দেওয়া যায়, প্রস্তুতি এখন থেকেই গ্রহণ করতে হবে। আগামী ১-২ মাসের মধ্যে করোনার টিকা পাওয়া যাবে, এ খবরটিই অর্থনীতিকে চাঙা রাখার জন্য যথেষ্ট। দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে এখনই এতো ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।

[১৭] প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অনেক বড় শক্তি। ফলে প্রবাসীদের যাতে কোনোরকম সমস্যা না হয়, তাদের সুযোগ-সুবিধাগুলোর দিকে নজর রাখতে হবে আমাদের কূটনৈতিক মিশনগুলোকে। কারণ তাদের মূল্যায়ন আমাদের অর্থনীতি আরও বেশি শক্তিশালী হতে পারে। তাদের উৎসাহিত ও উজ্জীবিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। নাগরিক মর্যাদা ও অবদানের স্বীকৃতি দিতে হবে। এই স্বীকৃতি নানাভাবে দেওয়া যেতে পারে। এটা তাদের প্রাপ্য।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত