প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইয়াবা-ফেনসিডিল আসছেই, থামছে না মাদকের কারবার

নিউজ ডেস্ক: মোটরসাইকেলের তেলের ট্যাঙ্ক, ট্রাকের টুলবক্স, বাসের সিটের নিচে লুকিয়ে নানা কৌশলে পাচার হচ্ছে ইয়াবা। সড়ক, পাহাড়, সাগর পথেও আসছে ছোট বড় চালান। র‌্যাব-পুলিশের অভিযানেও চট্টগ্রাম অঞ্চলে থামছে না মাদকের কারবার। সীমান্ত পথে আসছে ফেনসিডিলসহ হরেক মাদক। হাত বাড়ালে মিলছে নেশা। নেশার নীল ছোবলে ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ। মাদকাসক্তের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অপরাধ। পরিবার, সমাজে বাড়ছে অস্থিরতা।

মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ কোন অভিযান না থাকলেও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে। এ অভিযানে প্রতিদিনই ইয়াবা আর ফেনসিডিলের চালান ধরা পড়ছে। তবে যে পরিমাণ মাদক ধরা পড়ছে তার কয়েকগুণ নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছে। মিয়ানমার থেকে এসে ঢাকা-চট্টগ্রামে বাসা ভাড়া নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন মাদক কারবারিরা।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে মাদকের চাহিদা বাড়ছে। তাই নানা প্রচেষ্টার পরও মাদকের আগ্রাসন থামছে না। অভিযানে কিছু মাদক বহনকারী ধরা পড়ছে। মূলহোতারা আড়ালে থাকায় তাদের নেটওয়ার্ক অক্ষত থেকে যাচ্ছে।

মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত শক্তিশালী অপরাধী সিন্ডিকেট। এর সাথে রাজনৈতিক দলের এক শ্রেণির নেতা ও ক্যাডার মাস্তানদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। আছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যও। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ সিন্ডিকেট ভাঙ্গা যাচ্ছে না বলেই মাদকের কারবার এবং আগ্রাসন থামছে না। মিয়ানমার থেকে নানা কৌশলে আসছে ইয়াবার চালান। ভারত থেকে আসছে ফেনসিডিল, গাঁজাসহ হরেক মাদক। সমুদ্রপথে আসছে বিদেশি মদ, হেরোইন।

বিগত ২০১৮ সালের মে মাস থেকে দেশব্যাপী মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু হয়। এ অভিযানে কক্সবাজারসহ বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে অসংখ্য মাদক কারবারি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ প্রাণ হারায়। কয়েকশ মাদক কারবারি আত্মসমর্পণও করেন। তবে মাদক সম্রাট বা গডফাদার হিসাবে চিহ্নিতরা আড়ালেই থেকে যায়।
করোনায় লকডাউনে এপ্রিল থেকে অভিযান কিছুটা শিথিল হলে মাদকের কারবারিরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। টানা লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধের মধ্যেও নানান রুটে নিত্যনতুন কৌশলে ইয়াবা, ফেনসিডিল পাচার হয়ে আসে। কক্সবাজারের টেকনাফ শামলাপুর ফাঁড়ির চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যার ঘটনার পর কক্সবাজারে মাদকবিরোধী অভিযান থমকে যায়। ইতোমধ্যে জেলার সব সদস্যকে বদলি করা হয়েছে। নতুনভাবে সাজানো হয়েছে পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা থেকে থানার কনস্টেবল পর্যন্ত। এ সময়টাতে পাচারকারিরা আরো সক্রিয় হয়ে উঠে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।

সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে আসা ইয়াবার ছোট বড় চালান ধরা পড়ার ঘটনাও বাড়ছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রতিদিনই ইয়াবা ধরা পড়ছে। নানা কৌশলে এসব মাদক পাচার হচ্ছে। মিয়ানমারে তৈরি ইয়াবার চালানা সাগর, সড়ক ও পাহাড়ি পথে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। মিয়ানমারের নাগরিকদের সহযোগিতায় মাদক কারবারিরা বড় বড় চালান নিয়ে আসছে। অনেকে আবার বাংলাদেশে এসে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
গত রোববার নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে মাদক বিক্রির এক কোটি ১৭ লাখ টাকা এবং পাঁচ হাজার ইয়াবাসহ এক দম্পতিকে পাকড়াও করে র‌্যাব। র‌্যাব জানায়, মো. শওকত ইসলাম ও মোরজিনা দীর্ঘদিন থেকে বাসা ভাড়া নিয়ে ইয়াবার ব্যবসা করে আসছিল। জানা যায়, এ দম্পতির মত আরো অনেকে ইয়াবার ব্যবসা করছে।

সর্বশেষ গত আগস্টের শেষদিকে সাগর পথে পাচারের সময় ১৩ লাখ ইয়াবার বিশাল একটি চালান উদ্ধার করে র‌্যাব-১৫ এর সদস্যরা। ৬৫ কোটি টাকা মূল্যের ওই চালানের সাথে গ্রেফতার দুইজনের একজন ছিল মিয়ানমারের নাগরিক। র‌্যাব-পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, পাচারকারিরা কৌশল পাল্টে ছোট ছোট চালানে ইয়াবা আনছে। এ ধরনের চালান ধরাও পড়ছে। এদিকে ভারত থেকেও ফেনসিডিলের চালান আসছে। কুমিল্লার সীমান্ত দিয়ে আসা বেশ কয়েকটি চালান সম্প্রতি র‌্যাবের হাতে ধরা পড়ে। ইনকিলাব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত