প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষে আহত ২০

মোহাম্মদ সোহেল: [২] নোয়াখালীর সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয় করমূল্যা বাজার রণক্ষেত্রে পরিনত হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০জন আহত হয়েছে এবং আব্দুল হক (হকসাব মাঝি) নামে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের অনেকেই নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

[৩] বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের করমুল্যা বাজারে পূর্ব শক্রতার জের ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর থেকে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ওসির নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বেলাল হোসেন ও মো. বেলাল নামের দুইজনকে আটক করে।

[৪] স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এওজবালিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান এবং করমূল্যা বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবুল ডাক্তারের সাথে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র বিরোধ চলে আসছে। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে বাবুল ডাক্তারের গ্রুপের আনোয়ার, আলামিন ও রিয়াজের নেতৃত্বে সঙ্গবদ্ধ দল হঠাৎ ইউপি সদস্য আবদুল মান্নানের কার্যালয়ে হামলা চালায়।

[৫] এসময় আবদুল মান্নানের ফুফাতো ভাই আব্দুল হক (হকসাব মাঝি) বাঁধা দিতে গেলে হামলাকারীরা তাকে মাথায় আঘাত করে গুরুত্বর আহত করে। পরে আবদুল মান্নান গ্রুপের লোকজন জড়ো হলে উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাঁধে।

[৬] সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে স্থানীয় আমিন উল্যার ছেলে আবদুল হক (৪৮), আমিন উল্যার ছেলে মো. সিরাজ মাঝি (৫৫), আলী আহম্মদের ছেলে মো. লিটন (৩০), সাইদুল হকের ছেলে কামাল উদ্দিন (৩২), মজিবুল হকের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩৫), গনু মিয়ার ছেলে আবদুস শহীদ (৪২), মোখলেছুর রহমানের ছেলে আবদুল হাসিম (৫২), আবুল মান্নানের ছেলে কামরুল ইসলাম কচি (২৮), ওবায়দুল্ল্যার ছেলে আবদুর রহমান (৫০), নুর আলমের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (২৫), আব্দুল কাদের ছেলে সালা উদ্দিন (১৯), আব্দুল বেচুর ছেলে সিরাজ (৪৫) কে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

[৭] করমূল্যা বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার বাবুল জানান, তাদের বাড়ি লোকজন বাজারে আসলে মান্নান মেম্বারের লোকজনের সাথে কটু কথা নিয়ে বাকবিতন্ডা হয়। এনিয়ে মান্নান মেম্বারের লোকজন তাদের লোকজনের উপর হামলা চালিয়ে তাদের ৭জন লোককে আহত করে। তিনি জানান, মান্নান মেম্বারের সাথে তাদের কোন পূর্ব বিরোধ নাই। বাজারে চাঁদাবাজি নিয়ে সোহেল গ্রুপের সাথে মেম্বার গ্রুপের বিরোধ চলছে।

[৮] ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কমমূল্যা বাজারসহ আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে বাবুল ডাক্তারের লোকজন। এনিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি তাদেরকে একাধিকবার সতর্ক করে আসছেন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাতে বাবুল ডাক্তারের গ্রুপের আনোয়ার, আলামিন ও রিয়াজের নেতৃত্বে ৩০/৩৫ জনের সঙ্গবদ্ধ সন্ত্রাসীরা হঠাৎ তার অফিসে অর্তকিত হামলা চালায়। সন্ত্রাসীদের হামলায় তার ১৩জন লোক গুরুত্বর আহত হয় বলে দাবি করেন তিনি।

[৯] সুধারাম মডেল থানার ওসি নবীর হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে তিনিসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে এখন পর্যন্ত দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোন পক্ষ থানায় অভিযোগ দায়ের করেননি। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সম্পাদনা: সাদেক আলী

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত