প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চেন্নাইয়ের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার আশঙ্কা কলকাতার

***কলকাতা: ১৭২-৫ (রানা ৮৭, গিল ২৬, এনগিডি ২-৩৪)*** চেন্নাই: ১৭৮-৪ (গায়েকওয়াড় ৭২, রায়ুড়ু ৩৮, বরণ ২-২০)
ডেস্ক রিপোর্ট : রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ। বার বার ভাগ্য পরিবর্তন হচ্ছিল দুই দলের। কিন্তু শেষ হাসি হাসল চেন্নাই সুপারকিংস। রবীন্দ্র জাদেজার সৌজন্যে দুর্দান্ত একটি ম্যাচ জিতল চেন্নাই। সেই সঙ্গে চাপে পড়ে গেল কেকেআর। টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার আশঙ্কা এখন তাদের সামনে।

টসে জিতে এ দিন ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন চেন্নাইয়ের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। মনে করা হচ্ছিল, চেন্নাইয়ের নব রূপে সজ্জিত বোলিং লাইনআপ কেকেআরকে হয়তো আটকে দেবে। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। বরং শুভমন গিল এবং নীতীশ রানা সংবলিত ওপেনিং জুটি তরতর করে রান করতে শুরু করে।

স্যাম কারানের বিরুদ্ধে সে ভাবে হাত খুলতে পারেননি দুই ব্যাটসম্যান। কিন্তু দীপক চাহরকে থিতু হতেই দেননি। গিল আর রানার দাপটে ছয় ওভারেই পঞ্চাশের ঘরে ঢুকে যায় কেকেআর। তবে ওই ওভারেই গিলকে তুলে নেন কর্ণ শর্মা।

গিল আউট হতে কিছুটা ব্রেক লেগে যায় কেকেআরের রানের গতিতে। তিন নম্বরে সুনীল নারিনকে নামিয়ে ফের একটা ফাটকা খেলেছিল কলকাতা, ব্যর্থ হয়। মিচেল স্যান্টনারের বল বাউন্ডারির বাইরে পাঠাতে গিয়ে ব্যর্থ হন নারিন। রিঙ্কু সিংহকে খেলার এক্সপেরিমেন্টও সফল হয়নি এ দিন।

মাঝের ওভারগুলিতে বেশ কিছুটা চাপে পড়ে গিয়েছিল কেকেআর। কিন্তু অবিচল ছিলেন রানা। তিনি আরও একটা অর্ধশতরান পূর্ণ করেন। আর পঞ্চাশের পর আরও বেশি করে জ্বলে ওঠেন তিনি। ১৬তম ওভারে কর্ণ শর্মাকে পর পর তিনটে বলে তিনটে ছক্কা হাঁকান রানা। সেখান থেকেই গতিপ্রাপ্ত হয় কেকেআরের ইনিংস।

গত শনিবার দিল্লির বিরুদ্ধে শতরান মাঠে ফেলে এসেছিলেন রানা। এ দিনও সেটাই করলেন। সেঞ্চুরি থেকে ১৩ রান দূরে শেষ করলেন তিনি। তবে শেষের দুই ওভারে দীনেশ কার্তিকের ব্যাটে ঝড় কলকাতার স্কোরকে বেশ ভালো জায়গায় নিয়ে যায়।

টুর্নামেন্টে ধোনিবাহিনীর যা দশা হয়েছে তাতে এই স্কোরটা চেন্নাইয়ের পক্ষে যথেষ্ট বেশিই বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু চেন্নাই এ দিন যে ভাবে রান তাড়া করা শুরু করল, সেটা কার্যত আন্দাজই করা যায়নি।

ফাফ দু’প্লেসিকে বসিয়ে এ দিন শেন ওয়াটসনকে সুযোগ দিয়েছিল চেন্নাই। টুর্নামেন্টে রানের মধ্যে তিনি ছিলেন না। ওয়াটসন বেশি রান করতে পারেননি ঠিকই, কিন্তু ঋতুরাজ গায়কোয়াড়কে সঙ্গে নিয়ে একটা ভালো শুরু করিয়ে দেন দলকে।

রবিবার বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে অর্ধশতরান করে দলকে জিতিয়েছিলেন ঋতু। এ দিন ঠিক সেখান থেকেই নিজের ইনিংস শুরু করেন তিনি। তাঁর ব্যাটিং দেখে কখনোই মনে হয়নি যে সবে আইপিএল খেলা শুরু করেছেন তিনি। মনে হচ্ছিল, যথেষ্ট অভিজ্ঞ একজন ব্যাটসম্যান খেলে চলেছেন।

তবে ওয়াটসন নিজের সংক্ষিপ্ত ইনিংসের শেষ দিকে ঝিমিয়ে পড়েন। এর ফলে রানরেট ক্রমশ কমতে থাকে চেন্নাইয়ের। অষ্টম ওভারে আউট হন ওয়াটসন। ততক্ষণে চেন্নাইয়ের আস্কিং রেট পৌঁছে গিয়েছে দশে। তবে দ্রুত পরিস্থিতিকে আবার চেন্নাইয়ের অনুকূল করে দেন গায়কোয়াড় এবং অম্বতি রায়ুড়ু।

কেকেআরের দুই রহস্য স্পিনার সুনীল নারিন এবং সিভি বরুণকে আক্রমণ করারই সিদ্ধান্ত নেন দু’ জনে। এর ফলে তাঁদের রানের গতিও বাড়তে থাকে। আস্কিং রেট নেমে আসে ৯-এর নীচে। ঠিক যখন মনে হচ্ছিল, চেন্নাইয়ের পক্ষে ম্যাচ ক্রমশ সোজা হয়ে আসছে তখনই ধাক্কা দেন প্যাট কামিন্স। তবে কিছুটা বেপরোয়া শট খেলতে গিয়ে নিজের উইকেটটা দিয়ে আসেন রায়ুড়ু।

ফের একটা ম্যাচে রান পেলেন না ধোনি। ১৫তম ওভারে তাঁর উইকেট নিয়ে নেন বরুণ। এই নিয়ে টুর্নামেন্টের দু’ বার মুখোমুখি হয়ে দু’ বারই ধোনির উইকেট নিলেন বরুণ। পর পর দুটো উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় চেন্নাই। ফের বাড়তে শুরু করে আস্কিং রেট। শেষ চার ওভারে চেন্নাইয়ের প্রয়োজন হয়ে পড়ে ৪৫ রান।

কিন্তু চেন্নাইকে প্রবল ভাবে লড়াইয়ে রেখেছিলেন গায়কোয়াড়। উল্লেখ্য, টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার ঠিক মুখে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন ঋতু। করোনামুক্ত হতে একটু বেশিই সময়ে লেগেছিল তাঁর। করোনাকে হারিয়ে মাত্র এক মাসের মধ্যেই তুখোড় ফর্মে ঋতুর ব্যাটিং কিন্তু কোভিড আক্রান্ত মানুষদের কাছে খুব সদর্থক বার্তা দিতে পারে।

কিন্তু গোটা ইনিংস জুড়ে ঋতুর এই অদম্য লড়াই ১৮তম ওভারে এসে নিজের দোষেই শেষ হয়ে গেল। কামিন্সকে স্কুপ করতে গিয়ে নিজের স্টাম্প ছিটকে দিলেন তিনি। কেকেআরের হাতে অ্যাডভান্টেজ চলে এলেও চেন্নাই একদমই ম্যাচের বাইরে বেরিয়ে যায়নি। তবে কামিন্সের ১৮তম ওভারে দুর্দান্ত বল করে চেন্নাইয়ের পক্ষে লড়াই আরও কঠিন করে দেন কামিন্স।

১৯তম ওভারে দুর্দান্ত শুরু করেছিলেন ফার্গুসন। পরের পর ইয়র্কার দিয়ে রবীন্দ্র জাদেজা আর স্যাম কারানকে আটকে দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই ওভারের চতুর্থ ওভারেই ভুলটা করে বসেন ফার্গুসন। নো-বল আর তার প্রেক্ষিতে ফ্রি হিটের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেন জাদেজা। পরের বলটা বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে শেষ ওভারের প্রয়োজন মাত্র দশ রানে নামিয়ে আনেন জাড্ডু।

ততক্ষণে মূল বোলারদের কোটা শেষ কেকেআরের। সেই কারণে শেষ ওভারে কমলেশ নগরকোটির ওপরে ভরসা করতে হয় দলকে। নগরকোটিও কিন্তু শুরুটা খারাপ করেননি। প্রথম চার বলে আটকে দিয়েছিলেন জাদেজাকে। কিন্তু ওভারের শেষ দুই বলে দুটো ছক্কা হাঁকিয়ে চেন্নাইকে জিতিয়ে দেন জাদেজা।

ভালো জায়গা থেকেও ম্যাচটা হেরে গেল কলকাতা। সেই সঙ্গে আরও চাপে পড়ে গেল তাদের এই আইপিএলের ভাগ্য।
সূত্র- খবরঅনলাইন

সর্বাধিক পঠিত