প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] আধুনিকতার ছোঁয়ায় ফরিদপুর থেকে হারাতে বসেছে পুরনো ঐতিহ্যবাহী বেত ও বাঁশ শিল্প

হারুন-অর-রশীদ: [২] এক সময় এ দেশেরই বিস্তীর্ণ জনপদে বাঁশ-বেতে তৈরি হতো হাজারো পণ্য। ঘরের কাছের ঝাড় থেকে তরতাজা বাঁশ-বেত কেটে গৃহিণীরা তৈরি করতেন হরেক রকমের জিনিস। এক সময় কারুকাজ শিল্প ব্যবহার ছাড়া একটি পরিবার বা সামাজিকতা মোটেই চলা সম্ভব ছিলনা। আজ কালের বিবর্তে এখন সেই বাঁশ ও বেতের তৈরি পণ্যের আর কদর নেই বললেই চলে। ঐতিহ্য হারাতে বসেছে এই শিল্পটি।

[৩] খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এক সময় গ্রামীণ জনপদের মানুষ গৃহস্থালি, কৃষি ও ব্যবসা ক্ষেত্রে বেত ও বাঁশের তৈরি সরঞ্জামাদি ব্যবহার করত। বাসা-বাড়ি কিংবা অফিস-আদালত সবখানেই ব্যবহার করা হতো বাঁশ ও বেতের তৈরি আসবাবপত্র। এখন সময়ের বিবর্তনে বদলে গেছে সবকিছুই। এর ব্যতিক্রম নয় ফরিদপুর জেলাও। তারপরও ফরিদপুর জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার গুটি কয়েক মানুষ জীবন ও জীবিকার তাগিদে বাঁশ আর বেতের শিল্পকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। বর্তমান প্রযুক্তির ছোয়া লাগার যুগে ফরিদপুরে বাঁশ ও বেত শিল্পের তৈরি মনকারা বিভিন্ন জিনিসের জায়গা করে নিয়েছে স্বল্প দামের প্লাষ্টিক ও লোহার তৈরি পন্য। তাই বাঁশ ও বেতের তৈরি মনকারা সেই পন্যগুলো এখন হারিয়ে যাওয়ার পথে।

[৪] কদর না থাকায় গ্রামগঞ্জ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বাঁশের তৈরী বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় আকর্ষনীয় আসবাবপত্রও। অভাবের তাড়নায় এই শিল্পের কারিগররা দীর্ঘদিনের বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে আজ অনেকে অন্য পেশার দিকে ছুটছে। শত অভাব অনটনের মাঝেও জেলায় হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার আজও পৈতৃক এই পেশাটি ধরে রেখেছেন।

[৫] জেলার বিভিন্ন এলাকায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় এ অঞ্চলের অনেক মানুষ বাঁশ-বেত দিয়ে বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু বর্তমানে বাঁশ-বেত নেই বললেই চলে। প্রযুক্তি আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় বাঁশ-বেত শিল্প হয়তো আগামী দিনে এ অঞ্চলে খুঁজে পাওয়া যাবে না।

[৬] প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে মুক্তি পেতে আমাদের জন্য বাঁশ-বেত বাগান ও রিজার্ভ বন টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

[৭] বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সরকারি কোনো সহায়তা পেলে হয়তো ফিরে পেতে পারে গ্রামগঞ্জের হারিয়ে যেতে বসা এই চিরচেনা গুরুত্বপূর্ণ কারুকাজ শিল্পটি।

[৮] এ ব্যাপারে বাংলাদেশ অর্থনীতি শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো: রেজাউল করিম বলেন, বাঁশ ও বেত এর সাথে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে। আর এই শিল্পের সাথে জড়িয়ে থাকা বেশিরভাগ মানুষই নিম্ন আয়ের মানুষ। তাইতো সরকারের উচিত এ শিল্পের সাথে জড়িতদের প্রণোদনা দেওয়া ও সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা রাখা।

[৯] তিনি বলেন, আধুনিক যুগে প্লাস্টিক ও পলিথিনের ভীড়ে আজকাল নতুন প্রজন্ম এই শিল্পকে ভুলতে বসেছে। যদিও প্লাস্টিক ও পলিথিন পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাইতো সরকার বাঁশ ও বেত শিল্পের বাণিজ্যিক উপায়ে চাষ ও পণ্য ব্যবহারে উদ্বুদ্ধকরণে এগিয়ে আসতে পারে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত