প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খান আসাদ: বৈষম্য ও সহিংসতা বিরোধী আন্দোলনের লক্ষ্য ও কৌশল কী?

খান আসাদ: নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে যে ক্ষোভ ও বিক্ষোভ, এটা সামগ্রিক বৈষম্য ও সহিংস ব্যবস্থার বিলোপের চূড়ান্ত লক্ষ্য অভিমুখী হতে পারে। অথবা একটি বিচ্ছিন্ন প্রতিবাদ হিসেবে হারিয়ে যেতে পারে। প্রতিবাদের সাথে সংহতি জানাতে চায় অনেক মানুষ। একটি পোস্টে দেখলাম, বাসের কন্ডাক্টর ভাড়া নেয়নি। কারণ ওই যাত্রী যৌনসহিংসতা বিরোধী সমাবেশে ছিলো। বাস কন্ডাক্টর ভাড়া না নিয়ে কৃতজ্ঞতা ও সংহতি জানিয়েছে। প্রতিবাদের অনেক অনেক ধরণ আছে। সবাই রাস্তায় আসতে পারে না নানা কারণে। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে এরা সক্রিয়। যেমন প্রোফাইল কালো করে। আপনি সবজান্তা পণ্ডিত হতে পারেন কিন্তু এই প্রতিবাদের প্রতি আপনার সহানুভূতি ও সংহতি জানানো উচিত। বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজনে। ঐক্য আসলে ঘটে চেতনায়। অনুভূতিবাজরা ‘চেতনা’ নিয়ে বেশ বিপদে আছে। কিন্তু আসল কথা ওই চেতনাই। চিন্তা চেতনায় ঐক্য না থাকলে, বাস্তবে ঐক্য হয়না। চিন্তা চেতনায় ঐক্য আসবে কীভাবে?

আলাপ আলোচনায়, বিশ্লেষণে, মূল কারণ অনুসন্ধান নিয়ে মতামত বিনিময়ে। কিন্তু আপনার মতান্ধতা অথবা দলবাজির রাজনীতি যদি আগেই কাউকে ‘নিপীড়নের সহযোগী’ হিসেবে আর নিজেকে ফেরেশতা হিসেবে জাহির করেন, তখন আপনার বিরুদ্ধে অন্য মতান্ধ সমালোচনাও এড়াতে পারবেন না। ফলে, কোন দল কতোটি ধর্ষণ করেছে, এই নিয়ে বাহাসে জড়াবেন। মূল প্রশ্ন নারীর প্রতি সহিংসতা আড়াল করবেন। লক্ষ্য কী, তা নির্ধারণ করুন। কেন আন্দোলন করছেন? কী চান আশু সাফল্য? তা ঠিক করুন। সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলনে আমি তিনটি ধারা দেখেছি। একটি ভারতবিরোধী সাম্প্রদায়িক ধারা, ছিলো অতি ক্ষুদ্র সংখ্যায়। এদের লক্ষ্য সুন্দরবন রক্ষা না, সুন্দরবনকে উপলক্ষ্য করে, ভারত বিরোধিতা।

আরেকদল, বিএনপিপন্থী, এদের লক্ষ্য সরকার পতন। তৃতীয় ধারাটি ছিলো, বাংলাদেশের তেল, গ্যাস, প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার সামাজিক আন্দোলন। এরা এই আন্দোলন এখনো চালু রেখেছে এবং সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় একটি বিকল্প জাতীয় রূপকল্প তৈরি করেছে। যেটি আমাদের জাতির জন্য কাজে লাগবে। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রশ্নে, আন্দোলনের পাশাপাশি একটি বিকল্প জাতীয় নারীনীতি সামনে আনা যায়। সেই নারীনীতির প্রচার ও আলোচনা করা যায়। এই প্রক্রিয়ায় একটি সময় আসবে, যখন শত্রুমিত্র পরিষ্কার হয়ে যাবে। জাতীয় ঐক্য তৈরি হবে। আশু ও দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য ঠিক করুন। ধর্ষকের বিচার চাইলে সেটাই বলুন। সরকার পতন চাইলে সেটা বলুন। বাংলাদেশে পিতৃতন্ত্র নির্মুল করতে চাইলে, তাও বলুন। অথবা সব কয়টা একসাথে চাইলে তাও বলুন। মানে, কী চান সেটা নিজে পরিষ্কার হোন এবং অন্যদেরও পরিষ্কার করুন। নিজে অন্ধ হলে, অন্যকে কীভাবে আলোর দিশা দেবেন? ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত