প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মানিকগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি-দুর্ভোগে বানভাসি লাখো মানুষ

সোহেল হোসাইন, মানিকগঞ্জ: [২] আবারও পদ্মা-যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মানিকগঞ্জের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। জেলার বৃহৎ এই দুই নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে অভ্যন্তরীণ নদী কালিগঙ্গা, ধলেশ^রী, ইছামতি ও গাজীখালি নদীর পানি হুরহুর করে বাড়ছে। ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।

[৩] এ দিকে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর ফসলি জমি, বাড়িঘর, রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজারসহ ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আর পানি বন্ধি হয়ে পরেছে দুইড লাখেরও বেশি মানুষ আর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে অন্ত্যত ৩০ হাজার পরিবার। বন্যার কারণে বিপাকে পরেছে খেটে খাওয়া মানুষ। তবে জেলার তিনটি উপজেলা দৌলতপুর, শিবালয় ও হরিরামপুর উপজেলার চরাঞ্চলের মানুষদের দুর্ভোগ সীমাহীন। বন্যার পানিতে এরই মধ্যে তলিয়ে গেছে বসতবাড়িসহ রাস্তা-ঘাট। পরিবারের সদস্য আর গবাদি পশু নিয়ে এসব এলাকার মানুষগুলো মানবেতর দিন যাবন করছে। তিনটি উপজেলার কয়েক লাখ বানভাসি মানুষদের আর্তনাদ শোনা যেন কেউ নেই।

[৪] বন্যায় প্লাবিত হওয়া এসব এলাকায় রয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি, শিশু খাদ্য, শুকনো খাবার এবং গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চরাঞ্চলের প্রায় প্রত্যেকটি বাড়িতেই পালন করা হয় গরু। সারাবিশ^সহ দেশের কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে খেটে খাওয়া দিন মজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষদের জীবন-জীবিকা থেমে গিয়েছে। এরপরেও এসব মানুষগুলো একটু ভালো থাকায় জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছে। একে তো করোনা ভাইরাস এর উপর আবার বন্যা। প্রকৃতির এমন দুর্বিশহে হাঁপিয়ে উঠেছে এই মানুষ গুলি।

[৫] সিংগাইর উপজেলা ছাড়া বাকি ছয়টি উপজেলায় লাখো মানুষ পানিবন্দি। এরমধ্যে শিবালয়, ঘিওর, সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ সদর এলাকার নিম্নাঞ্চলের ঘর-বাড়িতে বন্যার পানি ঢুকে পরায় চরম বিপাকে দিন পার করছেন বানভাসিরা। গত কয়েক দিনে জেলা শহর, পৌর এলাকায় পানি ঢুকে পারায় তলিয়ে গেছে কাচাঁ-পাকা সড়কসহ বসতবাড়ি।

[৬] পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক ফারুক হোসেন বলেন, যমুনার পানি আবারও বৃদ্ধির কারণে জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানি ঢুকছে। এতে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। যমুনার নদীর পানি আরিচা পয়েন্টের পানি ৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৮০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

[৭] মানিকগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী বিল্লাল হোসেন বলেন, গত কয়েকদিনের পানি বৃদ্ধির ফলে পৌরসভার ১০টি সড়কের ১২ কিলোমিটার এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এদের মধ্যে ৩টি সড়কে এখনও ঝুকি নিয়ে গাড়ী চলাচল করলেও অন্য সড়কগুলোয় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পরেছে। তিনি বলেন,. বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি প্যাকেজে একটি বক্সকালভার্টসহ ২৮ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে মাস খানেক আগে। বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পানিতে তলিয়ে যাওয়া এই ১২ কিলোমিটার সড়কের কার্পেটিং ও খোড়া উঠে যাবে যা সংস্কার করতে খরচ হবে প্রায় দশ কোটি টাকা। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত