প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১]ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ডিএমপির নির্দেশনা

সুজন কৈরী: [২] আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। ফলে কোরবানির পশুর হাট, বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল এবং রেলস্টেশন কেন্দ্রিক নিরাপত্তায় নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

[৩] কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে পশুর হাট কেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কোরবানির হাটের জন্য স্বাস্থ্য বিধিমালা, কাঁচা চামড়া পাচার রোধ এবং ক্রয়-বিক্রয়কালে ব্যবস্থা, বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল এবং রেলওয়ে স্টেশন কেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ঈদ পরবর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ডিএমপি।

[৪] বুধবার আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃখলা রক্ষা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থা সংক্রান্ত সমন্বয় সভায় এসব নির্দেশনা দেয়া হয়।

[৫] পশুর হাট কেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে থাকবে:
১। কোরবানির পশুর হাট কেন্দ্রিক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
২। পশুর হাট কেন্দ্রিক সাদা পোশাকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।
৩। প্রতিটি পশুর হাটে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হবে।
৪। প্রতিটি পশুর হাটে অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হবে।
৫। পশুর হাট কেন্দ্রিক মানি এস্কর্ট ব্যবস্থা থাকবে।
৬। কন্ট্রোলরুম এবং প্রতিটি থানায় মানি এস্কর্ট টিম স্ট্যান্ডবাই থাকবে।
৭। কোরবানির পশুর হাটে জাল নোট সনাক্তকরণ মেশিন স্থাপন করা হবে।
৮। পশুর হাটের চৌহদ্দির বাহিরে হাট বসতে দেয়া হবে না।
৯। বলপূর্বক পশুবাহী ট্রাক/নৌকা আটকিয়ে অন্য হাটে নামানো যাবে না।
১০। নির্ধারিত হারে হাসিল আদায় নিশ্চিত করতে হবে।
১১। হাসিলের হার বড় ব্যানার/ফেস্টুনের মাধ্যমে দৃশ্যমান রাখতে হবে।
১২। জাল টাকার বিস্তার রোধ ও পশুর হাটে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, পকেটমার ও অন্যান্য অপরাধীদের তৎপরতা বন্ধ করতে কার্যকারী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
১৩। পশুর বিক্রয়লব্ধ টাকা ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশ তৎপর থাকবে।
১৪। অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোলরুম ও ওয়াচ টাওয়ারে জন সচেতনতামূলক ব্যানার স্থাপন করা হবে।
১৫। পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং প্রবেশ মুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা ও জীবাণুনাশক চেম্বার স্থাপন করা।
১৬। করোনা সংক্রমন ঝুঁকি এড়াতে অনলাইন ভিত্তিক বিক্রয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে নিবন্ধিত হয়ে পশু বিক্রির জন্য উৎসাহিত করা।
১৭। সার্বক্ষণিক মেডিকেল টিম ও ভেটেরিনারী অফিসার (পশুর ডাক্তার) নিয়োজিত রাখতে হবে।
১৮। হাট এলাকার পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।
১৯। পশুর হাট কেন্দ্রিক নিরাবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা এবং ফায়ার টেন্ডার মোতায়েন রাখতে হবে।
২০। ইজারাদারদের প্রতি কিছু দায়িত্ব পালনে দেয়া নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে- নির্ধারিত তারিখের পূর্বে হাটে পশু না আনা, চৌহদ্দির বাঁশ দিয়ে ঘিরে রাখা, চৌহদ্দির বাহিরে হাট না বসানো, পশু বহনকারী ট্রাকের সামনে হাটের নাম ব্যানারে লিখে রাখা, এক হাটের পশু অন্য হাটে না নামানো, নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত হাসিল আদায় না করা, হাট এলাকায় সিসিটিভি স্থাপন ও মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের স্বাস্থবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করা, জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা, পর্যাপ্ত সংখ্যক সেচ্ছাসেবক দৃশ্যমান আইডি কার্ডসহ নিয়োগ করা, টাকা পরিবহনে পুলিশের মানি এস্কর্ট সেবা গ্রহণ, হাটের মধ্যে স্থায়ী খাবারের দোকান স্থাপন করা এবং কোরবানির পশু ব্যবসায়ীদের মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টি সম্পর্কে সচেতন করতে লিফলেট দেয়া ও মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা।

[৬] কোরবানির হাটের জন্য স্বাস্থ্য বিধিমালাঃ

১। প্রতিটি হাটের প্রবেশ ও বাহিরের রাস্তা পৃথক করতে হবে।
২। হাটে প্রবেশের মুখে প্রয়োজনীয় সংখ্যক হাত ধোয়ার জন্য বেসিন, পানির ট্যাংক ও সাবান এবং পৃথকভাবে হ্যান্ড সেনিটাইজার রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।
৩। হাটে প্রবেশের মুখে প্রয়োজনীয় সংখ্যক তাপমাত্রা মাপার যন্ত্রসহ লোক রাখতে হবে।
৪। কোনক্রমেই ফেস মাস্ক ছাড়া কোনো লোককে হাটে ঢুকতে দেয়া যাবে না।
৫। হাটে সামাজিক দূরত্ব কমপক্ষে ৩ ফুট কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে।
৬। করোনা উপসর্গ নিয়ে কোনো ব্যক্তি কোনক্রমেই হাটে প্রবেশ করতে পারবে না।
৭। যত কম সময়ে সম্ভব কোরবানীর পশু কিনে হাট ত্যাগ করতে হবে।
৮। একজন বিক্রেতার কাছে বেশী ক্রেতা অযথা ভিড় করা যাবে না।
৯। অসুস্থ প্রাণী কোনোভাবেই হাটে বেচাকেনার জন্য আনা যাবে না।
১০। শিশু ও ষাটোর্ধ ব্যক্তিদের হাটে প্রবেশে নিরুৎসাহিত করতে হবে।
১১। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিধি অমান্যকারীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

[৭] কাঁচা চামড়া পাচার রোধ এবং ক্রয়-বিক্রয়কালে ব্যবস্থাঃ

১। নগদ অর্থ বহনকালে যানবাহন সরবরাহ সাপেক্ষে মানি এস্কর্ট প্রদান করা হবে।
২। চামড়া ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ নিয়ে নিরাপদ স্থানে রাত্রি যাপনের করতে হবে।
৩। কাঁচা চামড়া পাচার রোধে ঢাকা থেকে বহিঃগমন পথগুলো থাকবে চেকপোস্ট এবং নদী পথে থাকবে নৌ-টহলের ব্যবস্থা রাখা হবে।
৪। ঢাকার বাহির থেকে শুধু মাত্র কাঁচা চামড়াবাহী যানবাহন ঢাকায় প্রবেশ করবে। কোনো কাঁচা চামড়াবাহী যানবাহন ঢাকা থেকে বাহিরে যেতে পারবে না।
৫। চামড়া ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যাপারে কেউ যাতে সিন্ডিকেট করতে না পারে তার ব্যবস্থা করা হবে।
৬। আমিন বাজার টার্মিনালের পাশে রাস্তার উপর কাঁচা চামড়া রাখা যাবে না।
৭। হাজারী বাগ এলাকায় রাস্তার উপর রাত ১১ টার পর কাঁচা চামড়া রাখা যাবে না।
৮। কোরবানির বর্জ্য দ্রæত অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

[৮] বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল এবং রেল স্টেশন কেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাঃ

১। চালক, হেলপার ও যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
২। যানবাহনের ফিটনেস, ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন ইত্যাদি টার্মিনাল ছাড়ার আগে যাচাই করতে হবে।
৩। অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন রোধ, পণ্যবাহী ট্রাকে যাত্রী পরিবহন বন্ধ, বাস ও ট্রেনের ছাদে ভ্রমন নিষেধ।
৪। টিকেট কালোবাজারি ও যাত্রী হয়রানি রোধ করা হবে।
৫। প্রতিটি বাস টার্মিনালে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হবে।
৬। প্রতিটি বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল এবং রেল স্টেশনে পুলিশ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে।

[৯] ঈদ পরবর্তী রাজধানীর নিরাপত্তাঃ

১। ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি আবাসিক ও বানিজ্যিক এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
২। স্বর্ণের দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসা-বাড়ির ভাড়াটিয়াদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতামূলক পরামর্শ প্রদান করা হবে।
৩। বাসা, এ্যাপার্টমেন্ট, প্রতিষ্ঠান মালিকদের সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রাইভেট নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ করতে হবে।
৪। ঈদের ছুটিকালীন আবাসিক ও বানিজ্যিক এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকান্ড প্রতিরোধে দৃশ্যমান পুলিশিং (মোবাইল পেট্রোল, ফুট পেট্রোল, চেকপোস্ট) বৃদ্ধি করা হবে।

[১০] সভায় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, বাংলাদেশ ব্যাংক, ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশন, বাংলাদেশ রেলওয়ে, ফায়ার সার্ভিস, র‌্যাব, নৌ পুলিশ, বাংলাদেশ সড়ক-পরিবহন মালিক সমিতি, পশুর হাটের ইজারাদার ও বাংলাদেশ টেনারী এসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত