শিরোনাম
◈ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় যে ক্ষতি হয়েছে, সেজন্য দুঃখিত: জ্বালানি মন্ত্রী ◈ চলতি অর্থবছরে রাজস্ব বাড়াতে এনবিআরের ‘থ্রি আর’ কৌশল ◈ তুষভান্ডারে বগি রেখে ইঞ্জিন ছুটল একা, মহাসড়কে ঘণ্টাব্যাপী যান চলাচল বন্ধ ◈ জাসদ কার্যালয় থেকে আটক ২৭৮ জনের ২৪৯ জনই মুক্ত, যাচাই চলছে ২৯ জনের ◈ আপনি যার কথা বললেন, অসংলগ্ন এবং ভারসাম্যহীন কথাবার্তা বলা সম্ভবত তাঁর অভ্যাস: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ ময়মনসিংহে ড্রামে লাশ: আপত্তিকর ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেইল, অটোরিকশা মালিককে হত্যার অভিযোগে শামীম গ্রেপ্তার ◈ রাড্ডায় ভাঙচুরে শাহ আলী থানার ওসির দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (ভিডিও) ◈ অবকাঠামোগত কাজ শেষ হলেও কোনোটিতেই বসেনি যানবাহন চলন্ত অবস্থায় ওজন মাপার যন্ত্র ডব্লিউআইএম স্কেল ◈ সরকার বা দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে ছাড় পাবে না: মাহদী আমিন

প্রকাশিত : ১১ জুন, ২০২০, ০৭:২২ সকাল
আপডেট : ১১ জুন, ২০২০, ০৭:২২ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কাজী হানিয়াম মারিয়া : একমাত্র বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরাই মনে হয় করোনাকালে নিজেদের মানবিকবোধটা ব্যাংকে জমা রেখেছেন!

কাজী হানিয়াম মারিয়া : নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর কাছে যখন সাংবাদিকরা জানতে চাইলেন, করোনামুক্তের প্রথম অনুভূতি কী? তখন উনি বললেন যে, ‘I did little dances’। তিনমাস কঠোর লকডাউনের পর নিউজিল্যান্ড তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেলো। আমাদের মতো সাধারণ ছুটি নামক লকডাউন তারা খেলে নাই। জেসিন্ডা সংবাদ সম্মেলনে সুন্দর করে সব বলে গেছেন কতো টেস্ট করেছেন, কবে লাস্ট পজেটিভ পেয়েছেন, কবে পজেটিভদের আইসোলেশন শেষ হয়েছে। কিন্তু সেই বক্তব্যে অন্য দেশের সাথে কোনো তুলনা ছিলো না। কারণ জেসিন্ডার মতো নেতার চিন্তা শুধু নিজ দেশের ভালো কীভাবে করা যায়। আমার দেশের নেতারা কথাই বলেন অন্যদের সাথে তুলনা করে।

 

অন্য দেশ থেকে করোনা পরিস্থিতি বেশি নিয়ন্ত্রণে আছে। অন্য দেশটা কোনটা আসলে? এই দুনিয়ার কোথায় আছে সেই দেশটা যেটা থেকে আমাদের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। যেদিন জেসিন্ডার দেশে একজনও পজেটিভ ছিলো না সেদিন আমাদের দেশে সর্বোচ্চ পজেটিভ এবং সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে। আমরাও ঠিক সময়ে সাধারণ ছুটি নামক আধখেচরা একটা কিছু তিনমাস আগে শুরু করেছিলাম। কিন্তু কোনো নিয়ম ফলো করা হয়নি।
যে জাতি যেমন তার প্রশাসকও তেমন। ফলাফল আমাদের আজকে কোভিড পজেটিভ হাতেগোনা রোগী থেকে সত্তর হাজার পার হয়ে গেছে। কী ভয় লাগছে। করোনায় মৃত এখন শুধু ডাক্তাররা নয়, পুলিশ, ম্যাজিস্ট্র্ট, ব্যাংকার হয়ে এখন ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে। আপনার-আমার ঘরে এই নক করলো বলে। সংক্রমণের এই কঠিন সময়ে এলাকা লকডাউন খুবই খেলো মনে হচ্ছে। অনেকটা ছাদ থেকে পরে যাওয়া শুরু করার পর ছাদের কার্নিশ দেয়ার মতো। এতোদিন এই বুদ্ধিগুলো কোথায় ছিলো? প্রতিদিন কেউ না কেউ দায়িত্বরত ডাক্তার, আমলার মৃত্যুসংবাদ শুনতে পাই। তারপরও আমরা নিয়ম মানছি না। এই লকডাউনে আমাদের মুখোশপরা চেহারা উন্মুক্ত হয়ে গেছে। একমাত্র বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরাই মনে হয় এই সময়টাতে নিজেদের মানবিকবোধটা ব্যাংকে জমা রেখেছেন বা বিসর্জন দিয়েছেন। গার্মেন্টস সেক্টর নিয়ে আর কিছু বলার নেই।

 

হ্যান্ড সেনিটাইজার, সেভলন, সাবান থেকে শুরু করে মাস্ক, পিপিই এবং অক্সিজেন নিয়েও ব্যবসা করে নিয়েছে। করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেটও একটা ব্যবসা হয়েছে। তারা ঐ টাকা যে নিজেদের দরকারে ব্যবহার করতে পারবে সেটার গ্যারান্টি আছে তো। তবে সেই লেভেলের বড়লোকরা যেন চার্টাড ভাড়া করে দেশ ছেড়ে চলে যেতে পারে তা প্রশাসন ইতোমধ্যেই নিশ্চিত করেছে। ভিআইপি রা আমাদের হসপিটালগুলোতে না হয় চিকিৎসা নিলো। বাকীরা কি করবেন? এখন আর কিছু করার নেই। তাই সীমিত আকারে করোনা আক্রান্ত হয়ে চুপ করে অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। যেখানে নিয়ম মেনে চললেই ভালো হয়ে যাবে সেখানে রোগ লুকিয়ে অবাধে বিচরন করছে। এখন তো শুধু জাপান সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলো। সামনে পুরো পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হবার জন্য একটি দেশের প্রায় সবাই দায়ী থাকবে। প্রশাসন থেকে শুরু করে সাধারন জনগণ পর্যন্ত। আমাদের মানবিক বোধগুলোও হারিয়ে যাচ্ছে। বোন অজ্ঞান ভাইকে ফেলে পালিয়ে যাচ্ছে, বাবাকে করোনা সন্দেহে ঘরে আটকিয়ে রাখছে। করোনা আক্রান্ত দম্পতিকে পরিত্যক্ত মুরগির খামারে থাকতে হচ্ছে। মানবিক বোধের কফিনে শেষ তালাটা হলো দায়িত্বরত অবস্থায় করোনায় আক্রান্ত কর্মকর্তার মৃতদেহ দাহ করতে না দেওয়া। এসব ব্যাপারে যতোটা উদ্যগী ততোটা যদি নিয়ম মেনে ঘরে থাকতো তাহলে আর কর্মকর্তার মৃত্যু হতো না। সবার বিবেক আবার জাগ্রত হোক। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ