বিদেশি বন্দরে জাহাজ ভিড়লে বাংলাদেশি নাবিকদের পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। গত ৬ বছরে বিভিন্ন জাহাজ থেকে ৩৭ জন বাংলাদেশি নাবিক পালিয়েছেন।
এর ফলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি বিদেশি অনেক জাহাজ বাংলাদেশি নাবিকদের নিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই খাতটি সংকুচিত হয়ে পড়ছে। দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট থেকে বছরে প্রায় দুই হাজার নাবিক পাস করে বের হলেও দেশের জাহাজে তাদের সুযোগ সীমিত, আর পালিয়ে যাওয়ার বদনামের কারণে বিদেশি জাহাজেও তাদের চাকরি হচ্ছে না।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ ও ২০২০ সালে ৬ জন করে, ২০২১ সালে ২ জন, ২০২২ সালে ১৩ জন, ২০২৩ সালে ৭ জন এবং ২০২৪ সালে ৩ জন নাবিক পালিয়েছেন। বন্দরে নেমে নাবিকদের নিরুদ্দেশ হওয়ার ঘটনায় এখন বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ইউরোপ-আমেরিকাসহ অনেক দেশে পৌঁছালেও নাবিকদের তীরে নামার ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের সি-ম্যান্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে কোনো নাবিক এ ধরনের কাজ করলে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে বিদেশের বন্দরে অবস্থানকালে জাহাজ থেকে পালিয়ে যাওয়া ১৯ জন বাংলাদেশি নাবিকের বিরুদ্ধে নৌ পরিবহণ অধিদপ্তর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। সূত্র: ডিবিসি নিউজ