মাজহারুল ইসলাম : [২] কিছুদিন পর পর নতুনভাবে দেখা দিচ্ছে এই করোনা ভাইরাস। এ রোগের উৎস, কারণ নিয়ে ক্রমাগত গবেষণা চলছে। ক্রমাগত জিনের পরিবর্তন ঘটাচ্ছে করোনার জীবাণু। আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল ও প্রিভেনশন জানায়, কোভিড-১৯-এর উপসর্গের তালিকায় যুক্ত হয়েছে পেশী ও গিঁটে ব্যথা। সকলেরই যে এমন সমস্যাটি হয়, তা নয়। তবে ১৪.৮ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রেই এটা ঘটতে পারে বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের।
[৩] কোভিড-১৯ উপসর্গ হিসেবে এই ব্যথাকে এতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয় বলেই ভাবা হয়েছিলো প্রথমে। সম্প্রতি ভুল প্রমাণিত হলো সেই ধারণা। বিভিন্ন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা প্রমাণ পেলেন, কিছু ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা কতোটা জটিল হবে, তা নির্ধারণ করে এই উপসর্গটি। যতো মারাত্মক হয় ব্যথার প্রকোপ, ততো আশঙ্কা বাড়ে ফুসফুসের জটিলতম সমস্যা অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ডিসট্রেস সিনড্রোম বা এআরডিএসের।
[৪] জানা যায়, জ্বর থাকে ৮৭.৯ শতাংশ কোভিড রোগীর। শুকনো কাশি থাকে ৬৭.৭ শতাংশের। ক্লান্তি ৩৮.১ শতাংশের ও শ্বাসকষ্ট ১৮.৬ শতাংশের। পেশী ও গিঁটে ব্যথা (মায়ালজিয়া ও আর্থ্রালজিয়া) থাকে ১৪.৮ শতাংশ রোগীর। চীনের ৫৫ হাজার ৯২৪ জন রোগীর ওপর সমীক্ষা চালিয়ে উপসর্গের এই ক্রম তৈরি করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তালিকার আরও নীচে আছে গলা ব্যথা ১৩.৯ শতাংশ। মাথা ব্যথা ১৩.৬ শতাংশ এবং কাঁপুনি ১১.৪ শতাংশ।
[৫] কিছু কোভিড রোগীর ক্ষেত্রে পেশী ও গিঁটে গিঁটে ব্যথা মানেই কোভিড-১৯ নয়। বিশেষ করে এই ঋতু পরিবর্তনের সময়, যখন সাধারণ জ্বর-সর্দি, ফ্লু হচ্ছে বহু মানুষের। আর তার সঙ্গী হিসেবে প্রায় সকলেরই থাকছে কমবেশি পেশী ও গিঁটে ব্যথা। তবে কোভিডের সঙ্গেও এই ব্যথা কমবেশি থাকছে। বেশির ভাগ সময় তা এতো মৃদুভাবে থাকে যে মানুষ বুঝতেই পারছে না, এটি সাধারণ জ্বর-কাশি, না কি কোভিড-১৯। নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিছেন, যতো মারাত্মক পেশীর ব্যথা হবে, ততো বেশি আশঙ্কা ফুসফুসের ক্ষতির। আনন্দবাজার পত্রিকা, পূর্বপশ্চিম