প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় ভেন্টিলেটর না থাকলে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাবে, বললেন বিশেষজ্ঞরা

শাহীন খন্দকার : [২] কোভিড-১৯ সংক্রমণে আক্রান্তদের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ১৮ শতাংশ রোগীর ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) ও ভেন্টিলেশন সার্পোট প্রয়োজন হতে পারে বলে জানালেন জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক (কার্ডুওলজী) ও উপপরিচালক ভারপ্রাপ্ত ডা. সমীর কুমার কুন্ডু।

[৩] তিনি বলেন এর মধ্যে ৫ শতাংশ রোগীর আইসিইউ আর ১৩ শতাংশ রোগীর অক্সিজেনসহ ভেন্টিলেটর সার্পোট প্রয়োজন হবে। কিন্তু কোভিড-১৯ ভাইরাসের রোগীর চিকিৎসার জন্য নিদ্রিষ্ট পাঁচটি হাসপাতালে আইসিইউ বেড রয়েয়ে ২৯ টি। এর সবই ঢাকায়। রাজধানীর বাইরে আইসোলেশনের ব্যবস্থা রাখা হলেও এর কোথাও এখন পর্যন্ত আইসোলেশন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানা নেই বলে জানালেন।
তিনি বলেন যে হারে লাফিয়ে লাফিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে আইসিইউ গুলো ব্যবহার করা যাবে কি না যথেষ্ট উদ্বিগ্ন এই চিকিৎসক।
তবে বিশেষজ্ঞদের অভিমত এই মুহূর্তে যদি দেশে ভেন্টিলেশন পর্যাপ্ত পরিমাণে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের জন্য বাড়ানো না হয় তাহলে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটতে পারে চিকিৎসা ক্ষেত্রে!

[৪] বিশেষজ্ঞরা আরো হাসপাতালসহ প্রয়োজনে সরকারি যে সব প্রতিষ্ঠান নির্মাণ হয়েছে কিন্তু হস্তান্তর হয়নি সরকারি কোয়ার্টার গুলো আইসোলেশনের জন্য এবং হাসপাতাল হিসাবে ও ব্যবহার করতে পারেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

[৫] এদিকে স্বাস্থ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসার জন্য দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৪ হাজার ৫১৫ টি আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে এসবের আইসিইউ সুযোগ সুবিধা নেই। দেশে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয় ৮ মার্চ, মৃত্যু ১৮ মার্চ। ১০ এপ্রিল শুক্রবার মৃত্যু মোট ২৭ জন, নতুন আক্রান্ত ৯৪, মোট আক্রান্ত ৪২৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন কোভিড-১৯ সংক্রমণ মোকাবেলার ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়।

[৬] শুধু আইসিইউ বা ভেন্টিলেশনের স্বল্পতাই নয়, সংক্রমণ শনাক্তকরণ পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরি, জনবল ও পরীক্ষায় টেকনিশিয়ান এর ও ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন।পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৮ সালের প্রতিবেদনে প্রকাশ দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৪৬ লাখ। এরমধ্যে ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষের বয়স ৬০ থেকে ৭৫ বছরের মধ্যে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমীক্ষায় এপর্যন্ত কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে প্রবীণরা।

[৭] সূত্র বিবিসি বাংলা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ -পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক বলপন করোনা ভাইরাসের সব রোগীর হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন হবে না। যাদের লক্ষণ – উপস্বর্গ মৃদু, তাদের বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হয়।

[৮] এধরনের রোগীর সংখ্যা ৮০ থেকে, ৮২ শতাংশ হয়। বাকী ১৯/২০ শতাংশ রোগীকে হাসপাতাল এ রেখে চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে। যারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাবেন, তাদের সবারই ভেন্টিলেশন প্রয়োজন হতে পারে। এর মধ্যে যাদের অবস্থা ক্রিটিকাল তাদের আইসিইউ সাপোর্ট লাগবে। এরকম রোগীর সংখ্যা ৫ শতাংশ হতে পারে। বাকী ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ রোগীর ভেন্টিলেশন সার্পোট লাগতে পারে।

[৯] তিনি আরও বলেন, করোনা ভাইরাসের আক্রান্তের অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ডিস ট্রেস সিনড্রোম (এআরডিএস) হলে তাকে ভেন্টিলেটর নিতে হবে। কারণ এআরডিএস হলে রোগী স্বাভাবিক শ্বাস – প্রশ্বাস নিতে পারবে না।তখন শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে অক্সিজেন প্রয়োজন হবে। তিনি বলেন শুধু অক্সিজেন দিয়ে ও হবে না, এজন্য হাসপাতালে যে শয্যা থাকবে প্রতিটি র সঙ্গে একটি ভেন্টিলেটর সংযোগ করে দিতে হবে। আমাদের দেশের সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে যে পরিমাণ আইসিইউ আছে, এর সবগুলোয় করোনার রোগীর চিকিৎসায় দেওয়া যাবে না। কারণ এতে ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি আছে। একারণেই করোনা কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য যে সব হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে, প্রতি টি শয্যার সঙ্গে ভেন্টিলেটর যুক্ত করে দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন চিকিৎসক বিশেষজ্ঞরা।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত