শিরোনাম
◈ মাটির নিচেই গোটা গ্রাম, ২০০ বছরের পুরোনো বাড়িতে আজও বসবাস করছেন হাজারো মানুষ! ◈ ৩৫৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা আছে কি না, জানতে চাইল পুলিশ সদর দপ্তর ◈ দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ও জনশৃঙ্খলা রক্ষায় আনসার সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে তুরস্কের বিশেষজ্ঞ দল ◈ রাজনৈতিক দলগুলোর এত টাকা আসে কোথা থেকে, দল চালাতে কত টাকা লাগে: টিআইবির গবেষণা ◈ কাঙ্ক্ষিত দামে বিক্রি না হওয়ায় আবুধাবিতে ফেরত যাচ্ছিল ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকার স্বর্ণের ডিম, আটক ৬টি ◈ ওয়ারীতে বাসায় কুশ চাষ ও মাদক সরবরাহ, যুক্তরাষ্ট্রফেরত ২২ বছর বয়সী তৌসিফ গ্রেপ্তার ◈ বারে মদ্যপান শেষে প্রেমিকার সঙ্গে বিরোধের পর হেরোইন খুঁজতে টঙ্গীর মাঠে যান তাহসিফ: রিমান্ডে দীপের বয়ানে চাঞ্চল্যকর তথ্য ◈ দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ◈ ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির পর হ্যাকাররা সেগুলো দিয়ে কী করে? কীভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনে? ◈ ভারত থেকে আসা ১৮ কোচগুলোতে যা যা বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে, আগামী সপ্তাহেই পরীক্ষামূলক চলাচল

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ, ২০২০, ১০:০৭ দুপুর
আপডেট : ২৬ মার্চ, ২০২০, ১০:০৭ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] সিলেটে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তির মৃত্যু

মানবজমিন : [২] সিলেটে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা এক বৃদ্ধের মৃত্যু নিয়ে তোলপাড় চলছে। ছেলে এবং ছেলের স্ত্রী এসেছিলেন বৃটেন থেকে। প্রবাসী ওই দম্পতির থাকার কথা ছিল হোম কোয়ারেন্টিনে। কিন্তু তারা অসুস্থ পিতাকে নিয়ে গিয়েছিলেন কিডনি ডায়ালাইসিস করাতে। ডাক্তার রোগীর সঙ্গে প্রবাসী থাকায় ডায়ালাইসিস না করে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেয়। এরপর পরপর তিন দফা ডায়ালাইসিস না করায় গত মঙ্গলবার রাতে মারা যান ওই বৃদ্ধ। হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা বৃদ্ধের মৃত্যু হওয়ার পর স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে দাফন করা হয়েছে। পরীক্ষা করা হলো না তিনি আসলেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন কিনা।

[৩] তবে- স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- ডায়ালাইসিস মিস করার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা তাকে সরকারিভাবে কোয়ারেন্টিনে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিলেও তিনি হননি। ওই বৃদ্ধের নাম গিয়াস উদ্দিন। বয়স ৬৫ বছর। তিনি সিলেট নগরীর ৪০ হাউজিং এস্টেটের বাসিন্দা। কিডনি রোগসহ নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি।

[৪] বাসায় থেকেই তিনি চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। পারিবারিক সূত্র জানায়- গত ১৪ই মার্চ বৃটেন থেকে বাড়ি আসেন তার ছেলে ও ছেলের বউ। বাড়ি আসার পরদিনই তার ছেলে বৃদ্ধ পিতাকে নিয়ে কিডনি রোগের ডায়ালাইসিস দিতে কিডনি ফাউন্ডেশনে নিয়ে যান। এ সময় ডাক্তাররা লন্ডন ফেরত ছেলের সঙ্গে পিতাকে দেখে হতবাক হন। হোম কোয়ারেন্টিনে না থাকার কারণে বৃদ্ধ পিতাকে ডায়ালাইসিস না করেই তারা ফিরিয়ে দেন। এবং জানান, হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। ডাক্তারদের এমন কথা শুনে গিয়াস উদ্দিনকে বাড়ি নিয়ে আসা হয়। খবরটি শুনেন স্থানীয় কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদি। তিনি তাৎক্ষণিক বিষয়টি সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে অবগত করেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিনের বাসায় যান। এবং ওই বৃদ্ধকে সরকারিভাবে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে কোয়ারেন্টিনে ভর্তি হওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু গিয়াস উদ্দিনের পরিবার তাকে ভর্তি করেননি। এই অবস্থায় লন্ডন ফেরত সন্তান বেসরকারিভাবে তাকে চিকিৎসা এবং ডায়ালাইসিস করাতে ব্যর্থ হন। অবশেষে পিতাকে অসুস্থ রেখেই গত ২১শে মার্চ বৃটেনে চলে যান ছেলে এবং ছেলের বউ। পারিবারিকভাবে সতর্কতার অংশ হিসেবে গিয়াসউদ্দিনকে বাসাতেই কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। এই অবস্থায় গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে বাসাতেই মারা যান গিয়াস উদ্দিন। তার মৃত্যুর খবর শুনে বিষয়টি নিয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করেন কাউন্সিলর কয়েস লোদী। এ সময় জেলা প্রশাসক লাশ দ্রুত দাফনের পরামর্শ দেন। বিষয়টি নিয়ে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এই অবস্থায় সিদ্ধান্ত নিতে বেকায়দায় পড়েন কাউন্সিলর। পরে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা ক্রমে গতকাল ওই বৃদ্ধের লাশ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।

[৫] কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী জানিয়েছেন- গিয়াস উদ্দিন আক্রান্ত ছিলেন কিনা কেউ জানেন। ফলে তার দাফন নিয়ে সবাই বিব্রত ছিলেন। পরে গতকাল বাদ জোহর দাফন করা হয়েছে। এদিকে- স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের সহকারী কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানিয়েছেন- ওই রোগী পরপর তিন দফা কিডনি ডায়ালসিস করাতে পারেননি। এ কারণে আমরা ধারণা করছি- কিডনির জটিলতার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া তাকে সরকারিভাবে কোয়ারেন্টিনে আসার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি আসেননি। ভাতিজা ওমর মাহবুবের স্ট্যাটাস: চাচা গিয়াস উদ্দিনের মৃত্যুর পর ঘটনাটি জানিয়ে ভাতিজা ওমর মাহবুব ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছে। এতে তিনি উল্লেখ করেন- ‘আমার চাচা দীর্ঘদিন যাবৎ কিডনি ও নানাবিদ রোগে আক্রান্ত। তিনি নিয়মিত সিলেট কিডনি হাসপাতালে ডায়ালাইসিস দিয়ে আসছেন। ২৩শে মার্চ উনার ডায়ালাইসিস দেয়ার তারিখ ছিল। উনার চার ছেলে, চারজনই বৃটেনে থাকেন। একজন ছেলে এসেছিলেন বাবাকে দেখার জন্য। দুর্ভাগ্যক্রমে বাবার প্রতি ভালোবাসায় ডায়ালাইসিস দেয়ার জন্য উনি নিজেই বাবাকে কিডনি হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবে ডায়ালাইসিস দিতে বিলম্ব হলে শ্বাসকষ্ট অনুভূত হয়। ছেলে বৃটেন ফেরত আর বাবার শ্বাসকষ্ট দেখে ডাক্তাররা ডিক্লেয়ার করে দিলেন উনার করোনা ভাইরাস ও সব হাসপাতালে মেসেজ দিয়ে দিলেন উনাকে ডায়ালাইসিস না দেয়ার জন্য। উনি দীর্ঘ ৫ দিন অসহায়ের মতো বিনা চিকিৎসায় ছটফট করে গতকাল রাত ৯টায় মৃত্যুবরণ করেন। উনার যদি করোনা ভাইরাস থাকতো তাহলে উনার স্ত্রী ৬০ বছর ও উনার শাশুড়ির ৮৫ বছর বয়স্ক উনার পাশে ছিলেন তাহলে তারাও করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হতেন।

  • সর্বশেষ