প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বিশ্বে একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে ফাঁসিতে ঝুলে ইতিহাস হয়েছেন লেসলি হিলটন

স্পোর্টস ডেস্ক : [২] লেসলি হিলটনের নামটা ক্রিকেট ইতিহাসে আলাদাভাবে লক্ষ্য করার কোনো কারণ নেই। খুবই সাধারণ একজন বোলার ছিলেন তিনি, ৬ টেস্টে নিয়েছেন মাত্র ১৬ উইকেট। নগন্য ক্রিকেটার হওয়ার পর কিন্তু তারপরেও হিলটন স্মরণীয় হয়েই আছেন! লেসলি হিলটন ফিক্সিং বা ম্যাচ পাতানো নয়, তার অপরাধ ছিল আরও বড়। নিজের স্ত্রীকে খুন করেছিলেন তিনি। শাস্তি হিসেবে ফাঁসিও হয় তার।

[৩] ১৯০৫ সালের ২৯ মার্চ জ্যামাইকাতে জন্ম হয় লেসলি জর্জ হিলটনের। টেস্ট অভিষেক ৩০ বছর বয়সে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। শুরুটা হলো স্বপ্নের মতো, প্রথম ৩ টেস্টে নিলেন ১৩ উইকেট। চতুর্থ টেস্টে উইকেটই পেলেন না, সেই সাথে ছিটকে গেলেন দলের বাইরেও। চার বছর পরে ইংল্যান্ড সফরের দলে ডাক পেলেন আবার, সেই সিরিজের প্রথম ২ টেস্টে নিলেন মাত্র ৩ উইকেট। বাকি সিরিজের জন্য তো বাদ পড়লেনই, জাতীয় দলের দরজা পুরোপুরিই বন্ধ হয়ে গেল তার জন্য।

[৪] ক্রিকেট ছাড়ার পরে ফোরম্যান হিসেবে সরকারি চাকরি শুরু করেন হিলটন। এ সময়ই তার পরিচয় হয় লার্লিন রোজের সাথে। লার্লিন ছিল জ্যামাইকার পুলিশ ইন্সপেক্টরের মেয়ে, দুই পরিবারের মধ্যে ব্যবধান ছিল বিস্তর। হিলটনের সাথে মেয়ের বিয়েতে একেবারেই রাজি ছিলেন না লার্লিনের বাবা, এমনকি হিলটনের বিপক্ষে কোনো পুলিশ কেস আছে কি না, সেই খোঁজ নিতেও ভুল হয়নি তার।

[৫] কিন্তু তারপরেও বিয়েটা হয়েই যায় লার্লিন আর হিলটনের, সেটা ১৯৪২ সালের কথা। ১৯৪৭-এ গ্যারি নামে এক সন্তানও হয় তাদের। গল্পটা এরকম ‘অতঃপর তারা সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিল’ ভাবেও শেষ হতে পারতো। কিন্তু যেমনটা ভাবা হয়, সেরকমটা হয় না অনেক ক্ষেত্রেই। লার্লিন আর হিলটনের ক্ষেত্রেও তাই হলো। ‘হ্যাপি এন্ডিং’ এর বদলে ট্র্যাজেডিতে পরিণত হলো তাদের জীবন। আর হিলটন হয়ে গেলেন ট্র্যাজিক হিরো।

[৬] পোশাক ডিজাইন করার একটা ব্যবসা শুরু করে লার্লিন, এ কারণে নিয়মিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে হতো তাকে। সেখানে ১৯৫৪ সালে তার সাথে পরিচয় হয় রয় ফ্রান্সিস নামের একজন লম্পটের। খুব তাড়াতাড়িই তার সাথে একটা সম্পর্কে জড়িয়ে যায় লার্লিন। বাকি গল্পটা হৃদয়হীনতার, বাকি গল্পটা বিশ্বাসঘাতকতার, বাকি গল্পটা প্রতিশোধের।

[৭] হিলটনের কাছে একটা চিঠি আসে একদিন। চিঠিতে রয় ফ্রান্সিসের সাথে তার স্ত্রীর গোপন প্রেমের ব্যাপারে লেখা ছিল। চিঠিটা পেয়ে সরাসরি স্ত্রী লার্লিনকে জিজ্ঞেস করেন হিলটন, এরকম কিছুর কথা অস্বীকার করেন লার্লিন। স্ত্রীর কথা বিশ্বাস করেন হিলটন।

[৮] কিন্তু কয়েকদিন পরেই তার সেই বিশ্বাস ভেঙে খানখান হয়ে যায়, যখন জানতে পারেন, জনৈক রয় ফ্রান্সিসকে চিঠি লিখেছে লার্লিন, একজন চাকরকে দিয়ে সেই চিঠি পোস্ট অফিসে পাঠিয়েছে সে। সাথে সাথে পোস্ট অফিসে ছুটে যান হিলটন, কিন্তু পোস্ট অফিস থেকে জানানো হয়, চিঠিটা এখন ক্রাউনের সম্পত্তি বিধায় তার হাতে দেয়া সম্ভব নয়।

[৯] সেদিন রাতে আরেকবার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেন হিলটন। এবার ফুঁসে ওঠে লার্লিন, চিঠি পাঠানোর ব্যাপারটা লুকানো সম্ভব নয় বুঝতে পেরে পুরো ব্যাপারটা স্বীকার করে নেয় সে। স্বীকার করে নেয় রয় ফ্রান্সিসের সাথে তার প্রেম আর শারীরিক সম্পর্কের কথা, সেই সাথে এটা জানিয়ে দিতেও ভোলে না, হিলটনের মতো নিচু শ্রেণীর একজনকে বিয়ে করাটা ছিল অনেক বড় ভুল।

[১০] এরপরে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন হিলটন। পিস্তল টেনে নিয়ে খালি করে ফেলেন লার্লিনের উপরে। মোট ৭টি গুলি করে স্ত্রীকে খুনের পরে শান্তভাবে পুলিশকে ফোন দেন। পুলিশ এসে গেপ্ততার করে তাকে। ১৯৫৪ সালের অক্টোবরে বিচার শুরু হয় হিলটনের। হত্যাকাণ্ড নিয়ে কোনো সংশয়ই ছিল না জুরিদের। তবে জুরিরা তাকে ক্ষমা করার সুপারিশ করলেও সে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। দোষী সাব্যস্ত হন হিলটন, মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয় তাকে।

[১১] ১৯৫৫ সালের ১৭ মে, এক সুন্দর সকালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়ে যায় লেসলি হিলটনের! সেদিন বার্বাডোজের কেনসিংটন ওভালে টেস্ট চলছিল অস্ট্রেলিয়া আর স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপেনার জন হোল্টের ফর্ম খারাপ যাচ্ছিল খুব, ব্যাটে রান ছিল না, স্লিপেও ক্যাচ ফেলেছিলেন বেশ কয়েকবার। গ্যালারিতে নাকি সেদিন ‘হোল্টকে ঝোলাও, হিলটনকে বাঁচাও’ এই রকম ব্যানারও দেখা গিয়েছিল! সূত্র : রোর মিডিয়া, উইকিপিডিয়া।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত