প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নয়ন বন্ডের বাসার কাজের মহিলাসহ ৩ সাক্ষী গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেন আদালতে

মাজহারুল ইসলাম : বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় গতকাল দায়রা আদালতে ৩ সাক্ষী মো. হেলাল সিকদার, মো. দুলাল খানঁ ও নয়ন বন্ডের বাসার কাজের বুয়া মোসা. ফুলি বেগমের সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান তাদের সাক্ষ্য ও জেরা রেকর্ড করেন। এ ছাড়া শিশু আদালতেও ২জন সাক্ষ্য দিয়েছে। এ নিয়ে এই মামালায় গতকাল পর্যন্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ২৫ এবং শিশু আদালতে ৯ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

সাক্ষ্য শেষে হেলাল সিকদার বলেন, নয়ন বন্ড আর আমি ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে এসএসসি পর্যন্ত বরগুনা জেলা স্কুলে পড়াশোনা করেছি। এরপর একসঙ্গে কম্পিউটার শিখেছি। নয়ন বন্ড ২০১৮ সালের শেষ দিকে মিন্নিকে বিয়ে করে। ২০১৯ সালে বরগুনা ইউটিডিসি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের পূর্ব পাশে নয়ন বন্ড জম্মদিন পালন করে। আমি ওই অনুষ্ঠানে ছিলাম। মিন্নি একটি ফুলের তোড়া নিয়ে সেখানে আসে। রিফাত ফরাজি, তানভির, নাঈমসহ ১০ থেকে ১৫ জন সেখানে উপস্থিত ছিলো। মিন্নি নয়ন বন্ডকে কেক খাইয়ে দেয়ার দৃশ্য আমি মোবাইল ফোনে ধারণ করে ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দেই। হত্যার ২দিন আগে সকাল ১০টায় রিফাত শরীফের সঙ্গে আমার মিষ্টি পট্টির রোডে দেখা হয়। রিফাত আমাকে বলে তোর সঙ্গে কথা আছে, দেখা করিস। একইদিন বরগুনা প্রেসক্লাবের সামনে রিফাতের সঙ্গে আমার আবারও দেখা হয়। তখন রিফাত শরীফ আমাকে তার মোটরসাইকেলে করে জেলা স্কুলে নিয়ে বলে, নয়ন বন্ডের জম্মদিনের ভিডিও তুই ছাড়ছোস কেন। এটা বলে রিফাত আমার মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। এরপর এ ঘটনাটি আমি নয়ন বন্ডকে জানাই। তারপর নয়ন বন্ড ঘটনাটি ফোনে মিন্নিকে জানিয়ে বলে, রিফাত শরীফ যেনো ফোনটি ফেরত দিয়ে দেয়। নয়ন বন্ডের কথা মতো মিন্নি ওই ফোনটি ফেরত দিতে বললে রিফাত শরীফ তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে মিন্নিকে চড়-থাপ্পড় দেয়।

সাক্ষ্য শেষে নয়ন বন্ডের বাসার কাজের মহিলা মোসা. ফুলি বেগম বলেন, প্রায় ২ বছর নয়ন বন্ডের বাসায় কাজ করি। নয়ন বন্ডের বাসায় আনুমানিক দেড় বছর আগে নয়ন আর মিন্নির বিয়ে হয়। ওই সময় আমি এই বাসায় ছিলাম। বিয়ের পর নয়নের মা সবাইকে মিষ্টি খাওয়ান। আমিও মিষ্টি খাই। বিয়ের পরদিন নয়ন ও মিন্নি কুয়াকাটা যায়। এক সপ্তাহ পর কুয়াকাটা থেকে তারা ফিরে আসে। তখন থেকেই মিন্নি প্রতিদিন নয়নের বাসায় আসতো এবং রাতেও এক সঙ্গে ঘুমাতো। ওই সময় প্রায়ই মিন্নির মা নয়নেরমাকে ফোনে বলতেন, বেহাইন গোসলের জন্য আমার মেয়েকে গরম পানি করে দিবেন, ও ঠান্ডা লাগাতে পারে না। ফুলি বেগম বলেন, রিফাত শরীফ হত্যার আগের দিন মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ১০টায় মিন্নি নয়নের বাসায় এলে আমি দরজা খুলে দেই। নয়ন তখন তার রুমে ঘুমাচ্ছিলো। ওই সময় রুমের দরজায় টোকা দিলে নয়ন দরজা খুললে মিন্নি রুমের ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। প্রায় দেড়ঘণ্টা পর মিন্নি ওই রুম থেকে বের হয়। মিন্নি প্রত্যেকদিনই নয়নের বাসায় আসতো। প্রায় রাতেও মিন্নি নয়নের বাসায় ঘুমাতো। তার জামাকাপড় নয়নদের বাসায়ই থাকতো। কিন্তু তখন পর্যন্ত নয়নের মা এবং আমি জানতাম না যে, মিন্নিকে রিফাত শরীফ বিয়ে করেছে। রিফাত শরীফ খুন হওয়ার পর শুনছি মিন্নি আবার বিয়ে বইছে।

অপর সাক্ষী রিকশাওয়ালা দুলাল খাঁন সাক্ষ্য শেষে জানান, ২৬ জুন সকাল ক্যালিক্স একাডেমির সামনে যাত্রী নামিয়ে আমি অপেক্ষা করার সময় দেখি ৭/৮ জন মিলে এক ছেলেকে কিল-ঘুষি মারছে। এরমধ্যেই দুজন ২টি দা নিয়ে এসে ওই ছেলেকে কোপাতে থাকে। এর কিছুক্ষণ পর ওই ছেলেটিই রক্তাক্ত অবস্থায় আমার এসে বলে, আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাও। তাকে নিয়ে রওনা হয়ে একটু দূরে আসার পরে একটি মেয়ে আমার রিকশায় ওঠে পড়ে। আমি তাকে কাটা জায়গাটা চেপে ধরতে বলি। এ সময় রক্তে রিকশা ভিজে যায়। এমন অবস্থায় তাদের নিয়ে আমি বরগুনা হাসপাতালে যাই।

আসামি পক্ষের ৭ আইনজীবী ওই ৩ সাক্ষীকে জেরা করেন। আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, আদালতে যেভাবে সাক্ষ্য দিয়েছে, তাতে আসামিরা ন্যায়বিচার পাবেন। রাষ্ট্রপক্ষের পিপি ভুবন চন্দ্র হাওলাদার বলেন, যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন, তারা সকলেই গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি বাদী ন্যায়বিচার পাবেন। মিন্নি যে রিফাত হত্যাকাÐে জড়িত, নয়নের বাসার কাজের মহিলা সাক্ষ্যই তা প্রমাণ করে।
একইদিন সকালে কারাগার থেকে ৯ শিশু আসামিও আদালতে উপস্থিত হয়। এদের মধ্যে শিশু আদালতে মঞ্জুরুল আলম জন ও আনোয়ার হোসেন মৃধার সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান তাদের সাক্ষ্য রেকর্ড করেন। তাদের জেরা করেন ১০জন আইনজীবী।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত