প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নিমিষেই বার্তা পৌঁছে যাবে পৃথিবী থেকে মহাবিশ্বে

মাজহারুল ইসলাম : ভারতের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রে গ্রাউন্ড কন্ট্রোল রুম থেকে একটা সুইচ টিপে পাঠানো হলো একটা টেলিফোন বা ফ্যাক্স-বার্তা, কিংবা মোবাইল মেসেজ। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই অ্যালার্ম বেজে উঠল ৪ আলোকবর্ষ দূরে থাকা নক্ষত্রমণ্ডল আলফা সেনটরিতে। তবে ‘প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই’ অর্থ আলফা সেনটরিতে ওই অ্যালার্ম ঘড়িটার বাজতে সময় লাগবে ৪ বছরের সামান্য বেশি।অথবা, ধরা যাক, খুব জটিল একটা অঙ্ক, যেটা কষতে এখনকার কম্পিউটারের লাগতো হাজার কোটি বছর, সেটাই এবার করা যাবে এক সেকেন্ড বা তারও ভগ্নাংশ সময়ে। সূত্র : ভোরেরকাগজ

ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের গবেষণায় এসব আশা আরও জোরালো হয়েছে। ওই গবেষণা দেখালো, বিশেষ অভিনব এক পদ্ধতিতে একটি কম্পিউটার চিপ থেকে অনেক দূরে থাকা অন্য একটি কম্পিউটার চিপে অত্যন্ত দ্রুত বার্তা পাঠানো যায়। যুগান্তকারী এ আবিষ্কারের গবেষণাপত্রটি প্রকাশ হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল নেচারফিজিক্সের সা¤প্রতিক সংখ্যায়।

জানা যায়, বার্তা পাঠাতে ব্যবহার করা হয়েছে দুটি সিলিকন চিপ। ১০ মিটার দীর্ঘ তার এবং আলোর কণা বা ফোটন। ফোটন কণাটি এক সিলিকন চিপ থেকে দূরত্বে থাকা আরেকটি সিলিকন চিপে পাঠানো সম্ভব হয়েছে ১০ মিটার দীর্ঘ সংযোগকারী তারের মাধ্যমে। এরআগে এতো অল্প সময়ে তা সম্ভব হয়নি। বিজ্ঞানের পরিভাষায় এর নাম কোয়ান্টাম টেলিপোর্টেশন। কোনও জিনিসকে বাক্স বা পার্সেলে পুরে আমরা অনেক দূরে পাঠাতে পারি। একে বলে ট্রান্সপোর্টেশন। তবে আরও এক প্রকারে কাজটি করা যায়। এই পদ্ধতিকে বলা হয় কোয়ান্টাম টেলিপোর্টেশন। যেখানে দূরত্বটা কোনও বড় বাধা নয়।

ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা জানান, তারা টেলিফোনের লাইন কাটেননি। ফোনে কথা বলতেও কোনও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেননি। তবে টেলিফোনে যাতে কম বাক্যালাপেই কাজটা হয়ে যায়, তার ব্যবস্থা করেছেন। সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন আলোককণা ও পদার্থের অবস্থার বিশেষ একটি চরিত্র।

এ প্রসঙ্গে এলাহাবাদের এইচআরআইয়ের পদার্থবিজ্ঞানী উজ্জ্বল সেন বলেন, কম্পিউটারের দুটি চিপের মধ্যে এই বার্তা পাঠানোর পরীক্ষা এর আগে সফল হয়নি। সেই অর্থে এটি যুগান্তকারী আবিষ্কার। এতো অল্প সময়েও এতো বেশি বার্তা পাঠানো এর আগে সম্ভব হয়নি।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত