শিরোনাম
◈ পিআর পদ্ধতি কী, কেন প্রয়োজন ও কোন দেশে এই পদ্ধতি চালু আছে?" ◈ ইসরায়েলি হামলায় ৪৩৭ ফুটবলারসহ ৭৮৫ ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদের মৃত্যু ◈ পশ্চিম তীরে দখলদার ইসরায়েলিদের সাথে তাদেরই সেনা জড়ালো সংঘর্ষে! (ভিডিও) ◈ আমদানি-রপ্তানিতে এনবিআরের নতুন নিয়ম: বাধ্যতামূলক অনলাইন সিএলপি দাখিল ◈ জুলাই স্মরণে শহীদ মিনারে ছাত্রদলের মোমবাতি প্রজ্বলন (ভিডিও) ◈ জুলাই বিদ্রোহ: কোটা সংস্কার থেকে গণঅভ্যুত্থান ◈ ভারতের বাংলাদেশ সফর নিয়ে যা বললেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল ◈ ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ, ক্যাডার পদে মনোনয়ন পেলেন ১৬৯০ জন ◈ ১৮ জুলাই নতুন দিবস ঘোষণা ◈ ডিসি-এসপি কমিটি ও ইভিএম বাদ, ভোটকেন্দ্র স্থাপনে নতুন নীতিমালা জারি করলো ইসি

প্রকাশিত : ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৯, ০৩:৫৮ রাত
আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৯, ০৩:৫৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ঢাকার দুই সিটির ভোটে ৩৫ হাজার ইভিএম প্রস্তুত

নিউজ ডেস্ক : ঢাকার  দুই সিটিতে ত্রুটিমুক্ত নির্বাচন করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনই (ইভিএম) তাদের একমাত্র ভরসা। ইসির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ইভিএম ব্যবহারে সুফল মিলেছে। তাই ইভিএম ধরে রাখা হয়েছে। দুই সিটিতে প্রায় ১৫ হাজার ভোট কক্ষে ব্যবহারের জন্য ইতিমধ্যে ইসির পক্ষ থেকে ৩৫ হাজার ইভিএম প্রস্তুত রাখার কথা জানানো হয়েছে। সমকাল

সংশ্নিষ্টরা বলছেন, দেশের চলমান নির্বাচন ব্যবস্থায় অনিয়ম-কারচুপির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। এসব বন্ধে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছিল ইসি। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরেই নতুন অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসছে। এর মধ্যে আগেই ব্যালট বাক্স ভর্তি করা, কেন্দ্র দখল করা, প্রতিপক্ষের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণ অন্যতম। তাদের মতে, ইভিএম ব্যবহারে বিএনপিসহ নিবন্ধিত একাধিক রাজনৈতিক দলের আপত্তি থাকলেও এ মুহূর্তে ইসির হাতে বিকল্প কিছু নেই। কারণ রাতারাতি দেশের নির্বাচনী সংস্কৃতি বা প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আনা যাবে না। যদিও আলোচিত নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সংস্কারের দাবি তুলেছেন। নির্বাচন বিশ্নেষকরা মনে করেন, ইভিএম ব্যবহারে নির্বাচনী অনিয়ম অনেকাংশে দূর করা সম্ভব। কারণ সব প্রার্থীর এজেন্ট কেন্দ্রে থাকলে ইভিএমে অনিয়ম বা কারচুপির আশ্রয় নেওয়া সহজ হবে না। তবে যন্ত্র পরিচালনায় যারা থাকবেন তাদের আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ সমকালকে বলেন, কাগজের ব্যালটের তুলনায় ইভিএম ব্যবহারে কিছু সুবিধা পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে আগে কেন্দ্রে ব্যালট বা বাক্স পাঠানোর প্রয়োজন হয় না। ফলে আগে সিল মারার অভিযোগ থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, ভোটের অন্তত পনেরো দিন আগে থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু নির্বাচন সহায়ক করতে হবে। সব দল ও মতের প্রার্থীর জন্য প্রচারে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা না গেলে সাধারণ ভোটাররা কেন্দ্রমুখী হবে না। সব প্রার্থীর এজেন্টদের উপস্থিতি নিশ্চিত না করা গেলে ইভিএমেও অনিয়মের সুযোগ থাকবে। ভোটারদের উপস্থিতি ও ব্যাপক অংশগ্রহণ ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা যাবে না।

ইভিএমের প্রস্তুতি সম্পর্কে ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম জানান, প্রথমবারের মতো ?পুরো ঢাকা মহানগরে একসঙ্গে ইভিএমে ভোট করতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। দুই সিটিতে দুই হাজার চারশ'র বেশি কেন্দ্র রয়েছে। আর ১৪ হাজার ছয়শ'র মতো ভোটকক্ষ থাকছে। তাই সব মিলিয়ে রিজার্ভসহ ৩৫ হাজার ইভিএম রাখা হবে। প্রতি কেন্দ্রেই ব্যাকআপ হিসেবে একটি করে ইভিএম রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা অবশ্য জানিয়েছেন, ইভিএম ব্যবহার ছাড়া নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে ইসির নতুন কোনো পদক্ষেপ নেই। বাস্তব কারণে উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়াও সম্ভব নয়। কারণ যে কোনো নির্বাচনেই ইসিকে বিপুল সংখ্যক প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়। তাই ইসি চাইলেই রাতারাতি অনেক কিছু বদলে ফেলা সম্ভব নয়।

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী সমকালকে বলেন, সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিতে ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে থাকবেন। কোনো প্রার্থী এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলে এবং তা দৃশ্যমান হলে কমিশন অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। নির্বাচনী অনিয়ম সম্পর্কে তিনি বলেন, আগে সিল মেরে রাখার অভিযোগ এই কমিশনের আমলে নয়। এক সময় এ দেশেই একজনের চার থেকে পাঁচটি ভোট দেওয়ার সংস্কৃতি চালু ছিল। সেই অভিযোগ এখন আর নেই। সময়ের সঙ্গে নির্বাচনী অনিয়মেও পরিবর্তন হচ্ছে। এবারের ভোটে সব দলের প্রার্থী এজেন্ট দেবে- এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কমিশনকে অনেকের ওপর নির্ভর করতে হয়। এর সবাই কমিশনের নিজস্ব জনবল নয়। তবে কমিশনের কাছে অনিয়মের অভিযোগ এলে তা সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করা হয়। এই নির্বাচনেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। এ ব্যাপারে কমিশন সদস্যরা একমত হয়েছেন।

ইভিএম প্রস্তুতি :ঢাকার দুই সিটিতে ৩০ জানুয়ারি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে। ইভিএম ব্যবহারের ব্যাপক প্রস্তুতিও নিয়েছে ইসি। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহারের কারিগরি সহায়তা দিতে দু'জন করে সেনা সদস্য রাখা হচ্ছে। ১৯টি পয়েন্ট থেকে প্রশিক্ষণ, ডেমোনেস্ট্রেশন, মক ভোটিং ও কেন্দ্রে বিতরণের জন্য ইভিএম রাখা হবে। এর মধ্যে উত্তরের ইভিএম থাকবে আটটি পয়েন্টে, আর দক্ষিণে ১১টি পয়েন্টে। এবারই প্রথম দুই সিটির সবক'টি কেন্দ্রে মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ইভিএমে ভোট নেওয়া হবে। ১৪ জানুয়ারির মধ্যে ইভিএমগুলো দুই সিটির নির্ধারিত পয়েন্টে পৌঁছে দেওয়া হবে। এসব স্থানে গিয়ে ভোটাররা ইভিএমে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া জানতে পারবেন।

ইসি সংশ্নিষ্টরা জানিয়েছেন, ইসির দেওয়া স্মার্ট আইডি কার্ড বা সাধারণ আইডি কার্ড নিয়ে ভোট দিতে যাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে সংশ্নিষ্ট ভোটারের ভোট কোন কেন্দ্রে, কত নম্বর কক্ষে তা আগেই নিশ্চিতভাবে জেনে যাওয়াই ভালো। আইডি কার্ড ছাড়াও ইভিএমে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকছে। এমনকি ফিঙ্গারপ্রিন্ট না মিললেও প্রিসাইডিং অফিসার বা সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিতে পারবেন। তবে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা কত ভাগ ভোট ফিঙ্গারপ্রিন্টের মিল ছাড়া দেওয়ার সুযোগ রাখবেন তা কমিশন থেকে নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন বলেন, প্রার্থিতা চূড়ান্ত, প্রতীক বরাদ্দ এবং প্রচার শুরুর পরে এসব বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশনার শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী জানান, বিষয়টি নিয়ে এখনও কমিশন সদস্যদের মধ্যে আলাপ হয়নি। সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। তবে এটা শতকরা ৫ ভাগের বেশি হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ইভিএমে প্রাথমিক ব্যয় বাড়ছে :২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল একসঙ্গে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটির ভোট অনুষ্ঠিত হয়। ব্যালটে অনুষ্ঠিত ওই তিনটি নির্বাচন পরিচালনার জন্য ইসির বাজেট ছিল ৪৫ কোটি টাকা। আর ৩০ জানুয়ারি ইভিএমে অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ সিটি নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য বাজেট প্রায় ৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেছনে খরচ হবে ৪০ কোটি টাকার মতো। বাকি ১০ কোটি ইভিএম প্রশিক্ষণ, মক ভোটিং, প্রতিকেন্দ্রে ইভিএমে কারিগরি সহায়তা বাবদ সম্ভাব্য খরচ ধরা হয়েছে। ব্যালটের চেয়ে ইভিএমে ব্যয় বেশির কারণ সম্পর্কে কমিশনার শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রশিক্ষণ, মক ভোটিংয়ে কিছুটা খরচ হয়তো বাড়ছে। তবে খরচ অনেক কমে যাবে।

এবার ঢাকা উত্তর সিটিতে সাধারণ ওয়ার্ড সংখ্যা ৫৪টি, সংরক্ষিত ওয়ার্ড সংখ্যা ১৮টি। মোট ভোটার ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ৬২১ জন। আর সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র এক হাজার ৩৪৯টি, ভোটকক্ষ সাত হাজার ৫১৬টি। ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৭৫টি সাধারণ ও ২৫টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড রয়েছে। এক হাজার ১২৪টি ভোটকেন্দ্রের ৫ হাজার ৯৯৮টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ হবে। মোট ২৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৮ ভোটার এ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়