প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উন্মুক্ত স্থানে থার্টি ফার্স্টে নিষেধাজ্ঞা, চলবে মাদকবিরোধী অভিযান

মঈন মোশাররফ : ইংরেজি নববর্ষের প্রথম প্রহর থার্টি ফার্স্ট নাইটে উন্মুক্ত অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে৷ শুধু তাই নয়, রাত ৮টার পর সড়কে চলবে তল্লাশী, বন্ধ থাকবে বার । চলবে মাদকবিরোধী অভিযান । ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬ টা থেকে ১ জানুয়রি সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই নিয়ন্ত্রণ বহাল থাকবে । থার্টি ফার্স্ট নাইটে ভুভুজেলা বাজানো, পটকা ফোটানো এবং আতশবাজি পোড়ানো যাবে না । ডয়চে ভেলে

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, হাতিরঝিল, গুলশান, বনানীসহ আরো কিছু এলকায় আমরা ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা থেকেই যানবাহন ও নগরবাসীর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবো ।  অন্যান্য এলাকায়ও আমরা পুলিশ টহল এবং নজরদারি বাড়াবো।  প্রয়োজনে অন্যান্য সড়ক এবং আবাসিক এলাকায়ও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করবো।

পুলিশের এ কর্মকর্তা  বলেন,  ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টার পর রাজধানীর কোথাও উন্মুক্ত স্থানে কোনো অনুষ্ঠান, কনসার্ট বা নাচ গানের আয়োজন করা যাবেনা । বিশেষ করে মাঠে, ফ্লাইওভারে, রাস্তার পাশে কোনো আয়োজন চলবেনা । আর বাড়িতে, হোটেলে বা ক্লাবে কোন আয়োজন করলে তা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে করতে হবে ।  আমাদের জানিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তারপর করতে হবে ।

নিরাপত্তা নিয়ে কোন হুমকি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, আমাদের কাছে এধরনের কোনো হুমকি নেই ।  থার্টি ফার্স্ট উপলক্ষ্য যেন কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সেজন্য আমরা এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছি । প্রতিবছরই আমরা এই ধরণের নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে থাকি । এটা নতুন নয় ।

জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১জানুয়ারি ভোর পর্যন্ত আবাসিক বাসিন্দারা ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবেনা । আবাসিক বাসিন্দারাদেও পরিচয়পত্র দেখিয়ে প্রবেশ করতে হবে।

থার্টি ফার্স্টকে সামনে রেখে ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর এবং ১ জানুয়ারি ঢাকাসহ সারাদেশে মদের বার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ফলে এই তিন দিন মদ কেনা-বেচা বন্ধ থাকবে ।

পাশাপাশি এ তিন দিন মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো অঞ্চলের প্রধান মুকুল জ্যোতি চাকমা বলেন,  পাঁচ তারকা হোটেলের বারগুলোকে আমরা খোলা বা বন্ধ রাখার বিষয়ে কিছু বলছিনা । তবে ওই বারগুলোর ওপর আমাদের নজরদারি থাকবে ।

তিন দিনের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান সম্পর্কে তিনি বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান একটি চলমান অভিযানা । তবে আমরা এই তিনদিনে আমাদের তৎপরতা আরো বাড়বো । যেখানেই মাদক পাব সেখনেই ধরবো । স্পটগুলো অভিযান হবে।  বিশৃঙ্খলা ঠোকাতে এবং থার্টি ফার্স্টে মাদকের অপব্যবহার রোধে এই ব্যবস্থা নিয়েছে অধিদপ্তর।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, নিরাপত্তা সতর্কতার কৌশলটিই হবে এমন যাতে থার্টি ফার্স্ট রাতে নগরবাসী দ্রুত বাসায় চলে যান। তাঁরা যাতে বাইরে অবস্থান করতে নিরুৎসাহিত বোধ করেন । এজন্য পুলিশ ও র‌্যাব বিকেল থেকেই সড়কগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ি তল্লাশী বাড়িয়ে দেবে৷ প্রয়োজনে দেহ তল্লাশীও করা হবে৷ তাই এই কাজে নারী পুলিশ দলও থাকবে । মাসুদুর রহমান জানান,  র‌্যাব পুলিশের নিরাপত্তা বেষ্টনি ছাড়াও নগরজুড়ে থাকবে সাদা-পোষাকের পুলিশ । আর থাকবে ভ্রাম্যমান নজরদারী ।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত