প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অর্থবছরের প্রথম চার মাসে রপ্তানি কমেছে প্রায় ৭ শতাংশ

তন্নীমা আক্তার : জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যের ভিত্তিতে হালনাগাদ রপ্তানি পরিসংখ্যান গতকাল প্রকাশ করেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। ওই পরিসংখ্যানে জানা গেছে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমেছিল তৈরি পোশাকের রপ্তানি। পতনের এ ধারা অব্যাহত পরের মাসেও। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ কমে গেছে। একইভাবে কমেছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানিও। সব মিলিয়ে অর্থবছরের প্রথম চার মাসে সামগ্রিক রপ্তানি কমেছে ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ। বণিকবার্তা

দেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক থেকে। ইপিবির হালনাগাদ পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে পোশাক পণ্য রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৫৭ কোটি ৭৩ লাখ ডলারের। ১ হাজার ২০২ কোটি ৯২ লাখ ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এ হিসাবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় তো বটেই, আগের অর্থবছরের প্রথম চার মাসের তুলনায়ও সাড়ে ৬ শতাংশের বেশি কমেছে তৈরি পোশাকের রপ্তানি। যদিও গত অর্থবছরের প্রথম চার মাসে পোশাক রপ্তানিতে ২০ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল।

চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ওভেন ও নিট দুই ধরনের পোশাক রপ্তানিতেই ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে বেশি কমেছে ওভেন পণ্যের রপ্তানি। অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ওভেন পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৫০৩ কোটি ৯০ লাখ ডলারের। এ রপ্তানি আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ কম। এছাড়া এ সময়ে নিট পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৫৫৩ কোটি ৮৩ লাখ ডলারের, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ কম।

পোশাকের পাশাপাশি কমেছে অন্য প্রধান খাত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানিও। ইপিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি ৮ শতাংশের বেশি কমেছে। তবে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি। তার পরও অর্থবছরের প্রথম চার মাসে সামগ্রিক রপ্তানি কমেছে ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হয়েছে মোট ১ হাজার ২৭২ কোটি ১২ লাখ ডলারের পণ্য। গত অর্থবছরের একই সময়ে যেখানে পণ্য রপ্তানি হয়েছিল ১ হাজার ৩৬৫ কোটি ১৭ লাখ ডলারের। এ হিসাবে মোট রপ্তানি কমেছে ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, টাকার অ্যাডজাস্টমেন্ট হতে পারে। আমি ডিভ্যালুয়েশন বলতে চাই না, রিভ্যালুয়েশন দরকার। আমরা যেহেতু আমদানি নির্ভর দেশ, তাই বিকল্প পথ খোঁজা হচ্ছে; যাতে করে আমদানির ওপর প্রভাব কম পড়ে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আজ বুধবার সভা আহ্বান করা হয়েছে। অর্থ সচিব, এনবিআর চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ পোশাক শিল্পসংশ্লিষ্ট নেতারা থাকবেন সেখানে। খাতসংশ্লিষ্টরা সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরবেন। এখন যা হচ্ছে তার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কী হতে পারে, তা-ও বলবেন তারা। সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ইপিবির পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম চার মাস ছাড়া কখনই রপ্তানিতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়নি। ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথম চার মাস শেষে রপ্তানিতে ৩৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। পরের অর্থবছরও ২০ দশমিক ৭৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল রপ্তানিতে। ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রথম চার মাস শেষে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমলেও ঋণাত্মক হয়নি।

২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম চার মাস শেষে আবারো দুই অংকের ঘরে ১৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয় রপ্তানিতে। এরপর ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশের নিচে ছিল। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম চার মাস শেষে ৪ দশমিক ৯৫ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরের একই সময়ে ৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয় রপ্তানিতে। ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে যথাক্রমে ৭ দশমিক শূন্য ৩ ও ১৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়।
টিএ/এসবি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত