প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেশি মুরগীর ৫০০ খামার বগুড়ার শেরপুরে, আড়াই হাজার মানুষের জীবিকা

সালেহ্ বিপ্লব : একটি উপজেলায় ৫০০ মানুষ স্বাবলম্বী হয়েছে, এটা চাট্টিখানি কথা নয়। ৫০০ খামারের ভালোমন্দের সাথে ৫০০ পরিবার শুধু নয়, আরো দু’হাজার পরিবার জড়িয়ে আছে, যারা এই দেশি মুরগির খামারগুলোতে চাকরি করেন। একটি উপজেলায় উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের এই অবস্থান তৈরি হতে বেশিদিন লাগেনি। মাত্র চার বছর। অনেকের শুরু একদম নাটকীয়! বাসস

মাত্র একটি মুরগির বাচ্চা দিয়ে  খামার শুরু করেন উপজেলার ধড় মোকামতলার সুমাইয়া আখতার। এখন তার খামারে পাঁচ শতাধিক মুরগি। সুমাইয়া জানান, এক সময় তার ঘরে খাবারের খরচ জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হতো। প্রানিসম্পদ বিভাগের ভেটেরিনারী সার্জন ডা. মো. রায়হানের কাছে প্রশিক্ষন নিয়ে এখন তিনি সফল খামারি। তার খামারে ৫ জনকে চাকরি দিয়েছেন। পাল্টে গেছে তার জীবনমান।

ডা. মো. রায়হানের উদ্যোগেই দেশি মুরগির এই বিপ্লব ঘটেছে শেরপুরে। তিনি মানুষকে উৎসাহিত করেছেন, শিখিয়েছেন। ২০১৫ সালে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে দুটি মুরগির (অরগ্যানিক) খামার দিয়ে যাত্রা শুরু। পর্যায়ক্রমে  বিস্তৃতি ঘটেছে।
স্বল্প পুঁজিতে স্বাবলম্বি হওয়ার গল্প শুনে ও দেশি মুরগির খামার দেখে জাকারিয়া হোসেন, সুমাইয়া আখতার, হারুন অর রশিদ প্রমুখ আগ্রহি হন। পরে তাদেরকে দেখে অন্যরাও এগিয়ে আসেন।
স্নাতক (সম্মান) পাশ করে কোথাও চাকরি না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়া জাকারিয়া মাত্র ১০টি মুরগির বাচ্চা দিয়ে খামার শুরু করেন। এরপর জাকারিয়াকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এখন তার খামারে ৫টি শেডে ৮শ’ মুরগি। প্রতিমাসে তার আয় ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা।
শেরপুর টাউন কলেনীর হারুন অর রশিদ ১০ হাজার টাকা দিয়ে খামার শুরু করেন। এখন তার খামারে দেড়লাখ টাকার মুরগি আছে। প্রতিমাসে তিনি ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় করেন।
সম্প্রতি, বাজারে দেশী মুরগির চাহিদা ও দাম বেশি হওয়ায় মানুষ বিকল্প খুঁজছেন। বাজারে দেশি মুরগী প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা থেকে ৫৩০ টাকায়। আর বানিজ্যিক ভিত্তিতে দেশি (অরগ্যানিক) খামারের মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৩৫০ টাকায়।
খামারিরা জানান, সম্পূর্ণ এন্টিবায়টিক ও স্টেরয়েড মুক্ত ভাকে চাষ হচ্ছে এই দেশি (অরগ্যানিক) মুরগি। তাই এই মুরগির চাহিদা বাড়ছে। তারা আরও জানান, তাদের অনেকেই বাচ্চা ফোটানো, কেউ মাংস অথবা ডিম উৎপাদনের ব্যবসা করেন। একসঙ্গে একাধিক কার্যক্রমও চলে কিছু খামারে।

শেরপুর উপজেলা প্রানিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. রায়হান বলেন, দেশি মুরগির (অরগ্যানিক) খামার সম্ভাবনাময় খাত। স্বল্প বিনিয়োগে বেকারদের বিকল্প কর্মসংস্থান হচ্ছে। পাশাপাশি নিরাপদ মাংস ও ডিমের চাহিদাও পূরণ হচ্ছে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত