প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বগুড়া শহরে এক দিনের ব্যবধানে পৃথক দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এক সপ্তাহে রহস্য উদঘাটন নেই

আরএইচ রফিক, বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়া শহরে এক দিনের ব্যবধানে দিনে দুপুরে নিজ বাড়িতে মারুফ ইসলাম ওরফে পাভেল (৩৩) নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যা ও গৃহবধূ জিন্নাত ফারজানা তালুকদার এলমা (৪০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য গত এক সপ্তাহেও রহস্য উদঘাটন হয়নি। ফলে চাঞ্চাল্যকর এই দুটি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

যদিও পুলিশ পাভেল হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক কারণ হিসাবে পারিবারিক ও জমাজমি সংক্রান্ত ষড়যন্ত্র এবং জিন্নাত ফারজানা তালুকদার এলমা হত্যাকাণ্ডকে পরকীয়া হিসাবে উল্লেখ করছে। এঘটনায় পাভেলের দুলাভাই ও দুই সৎ বোনকে এবং গৃহবধূ এলমা হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন ১জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাটিয়েছে। মারুফ ইসলাম ওরফে পাভেল হত্যা ঘটনায় তার আপন বোন নাসরিন টুম্পা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দয়ের করেন। ওই মামলায় আটক সৎ বোনজামাই আবু বক্কর সিদ্দিক সৎ মা আয়সা, দূর সম্পর্কের মামা ইব্রাহীম এবং দুই সৎবোন মাহবুবা আক্তার ও ফরিদা পারভীনকে এজাহার নামীও আসামী হিসাবে এবং অজ্ঞাত হিসাবে আরো ৪/৫ জনকে আসামী করা হয় ।

এদিকে ব্যবসায়ী মুকুলের স্ত্রী এলমা হত্যাকাণ্ড ঘটনায় নিহতের প্রথম পক্ষে মেয়ে নূসরাত নূর ওরফে মৌ বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় শহরের নামাজগড় এলাকার বাসিন্দা মৃত রিয়াজ উদ্দিনের পুত্র সুরুজ মিয়া(৫৩ ) সন্দেহভাজন হিসাবে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে।

উল্লেখ্য গত ১৪ মে মঙ্গলবার দুপুরে শহরের দক্ষিন চেলোপাড়া এলাকার ইসলামীয়া মিশন বালিকা বিদ্যালয় (নাইট স্কুল রোড)সড়কে। নিজ বাড়িতে দুষ্কৃতিকরীদের গুলিতে নিহত হন মারুফ ইসলাম ওরফে পাভেল (৩৩)। নিহত মারুফ হোসেন পাভেল উত্তর চেলোপাড়া এলাকার মৃত মোকবুল হোসেনের একমাত্র ছেলে। ওই ঘটনায় হত্যাকারীদের এখনো সনাক্ত করা যায়নি। একই সাথে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তল বা রিভলভার উদ্ধারে পুলিশ এখন পর্যন্ত কোন তথ্য উদ্ধার করতে পারেনি।

এদিকে এর আগের দিন সোমবার বিকালে শহরের মালতিনগর এসপি ভবন সংলগ্ন এলাকায় নিজ বাড়িতে নৃশংস ভাবে খুন হন ফল ব্যবসায়ী মকুলের স্ত্রী জিন্নাত ফারজানা ওরফে এলমা নামক এক গৃহবধূ। দিনে দুপুরে দুষ্কৃতিকরীরা বাড়িতে ঢুকে তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে খুন করে পালিয়ে যায়।

এবিষয়ে মারুফ ইসলাম ওরফে পাভেল হত্যাকাণ্ড মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা সুমন এর সাথে কথা বলা হলে তিনি প্রাথমিক তদন্তে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে জমিজমা সংক্রান্ত ও পারিবারিক আধিপত্যকে দায়ী করছেন। তবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র যা দিয়ে পাভেলকে নিজ বাড়িতে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এবং কিলারদের ব্যাপারে কিছু বলতে পারেননি ওই তদন্তকারী কর্মকর্তা। তিনি অবশ্য আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, অচিরেই গ্রেপ্তারকৃত নিহতের ২ সৎবোন ও দুলাভাইকে পুলিশ রিমাণ্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে ।

অন্যদিকে গৃহবধূ এলমা হত্যাকাণ্ডকে পরকীয়া ঘটনা উল্লেখ করে মামলার তদন্তকারী অফিসার আব্দুর রহিম বলে ওই ঘটনায় আটক সুরুজ মিয়াকে রিমাণ্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ