মহসীন কবির : বকেয়া বেতন, মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবিতে বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগের ডাকে ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘট ও প্রতিদিন চার ঘণ্টা করে রাজপথ-রেলপথ অবরোধের কর্মসূচির শেষ দিনে বৃহস্পতিবার খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর নতুন রাস্তা মোড় এলাকায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ঘংর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শ্রমিকরা নতুন রাস্তা মোড়ে পুলিশ বক্সে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করেন। সংঘর্ষে চার পুলিশসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন।

কেএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান মিঠু বলেন, হঠাৎ করেই শ্রমিক-পুলিশ উত্তজনার পর শ্রমিকরা দৌলতপুর পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা করে। ফাঁড়িতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হামলার কারণ জানার চেষ্টা চলছে। শ্রমিক নেতা খলিলুর রহমান বলেন, ভুল বোঝাবুঝি থেকে পুলিশের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা ঘটেছে। যা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচ শ্রমিক আহত হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।

গত দু’দিনের মতো আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজপথ-রেলপথ অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। তারা দৌলতপুরের নতুন রাস্তা মোড়ে অবস্থান নেন। এ সময় পুলিশ তাদের নিয়ন্ত্রণের জন্য ধাওয়া দিলে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ। পরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ অবরোধের ফলে খুলনা-যশোর মহাসড়ক, নতুন রাস্তা মোড় থেকে সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড সড়ক, বিআইডিসি সড়কে যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। রেল চলাচলও ভোর থেকে বন্ধ করে দেয় রয়েছে। শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল, টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও সমাবেশ করছেন। শ্রমিকদের আন্দোলনে খুলনার খালিশপুর ও আটরা শিল্পাঞ্চল এবং যশোরের নওয়াপাড়া শিল্পাঞ্চল উত্তাল হয়ে উঠেছে। সড়ক অবরোধ থাকায় মহাসড়কের যাত্রীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
শ্রমিক নেতা খলিলুর রহমান জানান, সরকার ঘোষিত জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন-২০১৫ সুপারিশ বাস্তবায়ন, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক কর্মচারীদের পিএফ-গ্র্যাচুইটি ও মৃত শ্রমিকের বিমার বকেয়া প্রদান, টার্মিনেশন, বরখাস্ত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল, শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়োগ ও স্থায়ী করা, পাট মৌসুমে পাটক্রয়ের অর্থ বরাদ্দ, উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিলগুলোকে পর্যায়ক্রমে বিএমআরই করাসহ ৯ দফা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু আমাদের দাবিগুলো এখনও বাস্তবায়ন না হওয়ায় রাজপথের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি।