প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ড. জিনাত হুদা বললেন, শুধু আইন করে ধর্ষণ বন্ধ করা যাবে না, এর বিরুদ্ধে একটা সামাজিক অবস্থান তৈরি করতে হবে

আমিরুল ইসলাম : ২০১৯ সালে এ পর্যন্ত ৪৬ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ২৯ জনের বয়স ১৮ বছরের নিচে। সমাজ থেকে এই অপরাধ দূর করার জন্য কী পদক্ষেপ নেয়া যায়? এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা বলেছেন, শুধু আইন করে ধর্ষণ কমানো যাবে না, এর বিরুদ্ধে একটা সামাজিক অবস্থান তৈরি করা দরকার।
এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন,সামাজিক অবক্ষয়, আকাশ সংস্কৃতির নামে কুৎসিত অপসংস্কৃতি, কদর্য সংস্কৃতি ও বিকৃত রুচি সমাজে ঢুকে গেছে। যেভাবে পাশ্চাত্য ভোগবাদী সমাজের কদর্য ঢুকে আমাদের সমাজে সেটার উৎস বন্ধ করতে না পারলে শুধু আইন করে ধর্ষণের মতো সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে না। কারণ মানুষের মধ্যে একটা কুপ্রবৃত্তি আছে। যেটা আমরা সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ায় শিক্ষা, সভ্যতা, মূল্যবোধ, রুচিবোধ এগুলো আমরা গ্রহণ করি। যখন আকাশ সংস্কৃতির ভেতর দিয়ে আমরা ফেসবুক, ইউটিউব, পর্নোগ্রাফি, টেলিভিশন, সিনেমার ভেতর দিয়ে আমরা বিভিন্ন কুপ্রবৃত্তি গ্রহণ করছি। এখন খুব দ্রুত এগুলো বেড়ে যাচ্ছে আমাদের সমাজের ভেতর। ভোগবাদী সমাজের বিভিন্ন বিষয়কে আমরা যখন গ্রহণ করছি তখন আমাদের সামাজিক মূল্যবোধে সেটা সহজভাবে নেয়া হচ্ছে না। কারণ আমাদের সমাজে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ রয়েছে। সবাই সব কিছুকে সহজভাবে নেয় না। পশ্চিমা পোশাকের একটা মেয়েকে আমাদের সমাজে সহজে গ্রহণ করার জন্য আমরা প্রস্তুত নই। স্বাভাবিকভাবেই এখন উল্টা ফল হচ্ছে। মানুষের মধ্যে পাশবিকতা বেড়ে যাচ্ছে। ধর্ষণ কমানোর জন্য অবশ্যই শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, কিন্তু শুধু শাস্তি দিয়েই এটা বন্ধ করা যাবে না। যতোক্ষণ পর্যন্ত মূল্যবোধের শিক্ষা, নৈতিকতার শিক্ষা, আমাদের সামাজিক অবকাঠামোগত অবস্থানের পরিবর্তন না আনা পর্যন্ত এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে, শিক্ষা দিতে হবে, নারীর প্রতি শ্রদ্ধার শিক্ষা আনতে হবে। এটা অনেক বড় একটা সমস্যা। এতো সহজে এটার সমাধান হবে সেটাও আশা করা যায় না।
ড. জিনাত হুদা আরো বলেন, সরকারের ওপর দায় পড়তেই পারে, কিন্তু আমি বলছি না এখানে শুধু সরকারের একার দায় রয়েছে। সমাস্যাটা তো সারা পৃথিবীতেই আছে। পুরুষশাসিত সকল সমাজেই এটা রয়েছে। পুরুষশাসিত সমাজের এটা একটা বিষাদ। পুরুষশাসিত সমাজের জিনিসগুলোকে উসকে দেয়ার ফলে এর ব্যাপকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটা জিনিস আমাদের করতে হবে, সেটা হচ্ছে বাইরের দেশের সকল চ্যানেল দেখা বন্ধ করতে হবে। পৃথিবীর আর কোনো দেশ নেই, যেখানে তিনশো টাকা দিয়ে আপনি সব চ্যানেল দেখতে পারবেন। অন্যান্য জায়গায় পে- চ্যানেলের ব্যবস্থা রয়েছে। আপনি যতো টাকা পে করবেন সে অনুযায়ী চ্যানেল দেখতে পারবেন। আপনার যেমন ইচ্ছা তেমন চ্যানেল দেখতে পারবেন। সমাজে ধর্ষণের মতো সমস্যা যখন মহামারি আকারে বেড়ে যায় তখন কোনো না কোনো ব্যবস্থা নিতেই হয়। এভাবে তো একটা সমাজ চলতে পারে না। শুধু প্রশাসন এটা বন্ধ করতে পারবে না । প্রশাসন তো যে শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে সেটা তো দিবেই। তার সাথে সাথে একটা মনসতাত্ত্বিক ও সামাজিক পদক্ষেপ নিতে হবে। পুরুষতান্ত্রিকতা নারী ও পুরুষ দু’জনের মধ্যেই গড়ে উঠেছে। শুধু পুরুষ নয়, অনেক নারীর মধ্যেও পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবের সৃষ্টি হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত