প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জাতীয় সংসদে গৃহপালিত বিরোধীদলের মঞ্চস্থ জাতি মেনে নেবে না: এম এ সামাদ

রফিক আহমেদ : বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি- মার্কসবাদীর সাধারণ সম্পাদক ও গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের সমন্বয়ক ডা. এম এ সামাদ বলেছেন, জাতীয় সংসদে গৃহপালিত বিরোধীদলের মঞ্চস্থ জাতি মেনে নেবে না। অচিরেই এ সরকার জনরোষে পড়বে, গণঅভ্যুত্থানের পরিস্থিতি দেশে বিরাজমান। রোববার সকালে রাজধানীর তোপখানা রোডস্থ দলের প্রধান কার্যালয়ে আমাদের সময় ডট কমকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

বাম ঐক্যের সমন্বয়ক বলেন, একে তো জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে, তারপর আবার জাতীয় সংসদ নিয়ে তামাশা শুরু করেছেন, এটা জাতি বেশি দিন বরদাশত করবে না, হুমকি ধামকি ভয় ভীতি দেখিয়ে জনগণকে বেশি দিন দাবিয়ে রাখা যাবে না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাসদ ও ওয়ার্কাস পার্টিসহ মহাজোট সরকারে যে সমস্ত দল নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন সরকার, তাদেরকে এখন বলছেন, আপনারা বিরোধীদলে যান। তাহলে শরিক দলগুলোকে কেন? বিরোধীদলে দিতে চাইলে আওয়ামী লীগের ১০০ সাংসদকে তো বিরোধীদলে বসিয়ে দিলেই পারেন। জাতীয় পার্টিকে বিরোধীদলে পাঠানো হয়েছে! জাতীয় পার্টি তো মহাজোটেরই অংশ, জাতীয় পার্টি কয়দিন আগেই বললেন আমরা সরকারে থাকবো না বিরোধীদলে থাকবো এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণ করবেন।

ডা. এম এ সামাদ আরো বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়্যারমান কে হবেন তাও প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণ করবেন। এখন তারা যে বিরোধীদল হিসেবে বিরোধিতা করবেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিদিন ড্রাফট করে দিতে হবে তারা সরকারের বিরুদ্ধে কী কী বলবে! এমন ন্যক্কারজনক অভিনয় মহান জাতীয় সংসদে স্বজ্ঞানে যারা মঞ্চস্থ করছেন জাতি তাদেরকে দেশের ও জাতির শত্রু হিসেবেই চিহ্নিত করবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট যে ৮টি আসন পেয়েছে একমাত্র তারাই বিরোধী দল হতে পারে আর কেউ নয়, গৃহপালিত সাজানো বিরোধীদল জাতীয় সংসদে যারা করতে চাচ্ছে, ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না।

তিনি বলেন, এখন জাতির প্রশ্ন হলো সরকার কি অনুভব করছেন জাতীয় সংসদে বিরোধীদল থাকা উচিত, তাহলে জাতির কাছ থেকে তারা এত আসন, এতো ভোট নিলেন কেন? একটু কমিয়ে নিলেই পারতেন! আর বিরোধীদলের উপর এতো দমন-পীড়ন নির্যাতন চালিয়ে বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করছেন কেন? তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে কেন?

তিনি আরো বলেন, ছোট বেলায় গ্রামে আমরা ১০-১২ জন মিলে মাঠে ফুটবল খেলতে যেতাম, তারপর বড় ভাই ভাগ করে দিতেন ক’জন আবাহনী আর ক’জন মোহামেডানে, মিলে খেলা শুরু হলে কতক্ষণ পরে আবার কাউকে কানে ধরে মোহামেডান থেকে পাঠিয়ে দিতেন আবাহনীতে, মনে চাইলে আবাহনী থেকে মোহামেডানে অর্থাৎ বড় ভাইয়ের ইচ্ছার উপরই নির্ভর করতো কে কোন দলে কতক্ষণ খেলবে? এখন দেখছি মহান জাতীয় সংসদেও সরকার বলে দিচ্ছেন কে? কে? বিরোধীদলে অভিনয় করবেন কি কি ডায়ালগ দিবেন! মহান জাতীয় সংসদ নিয়ে এমন প্রহসন করা জাতির জন্য শুধু লজ্জাজনকই নয় আন্তর্জাতিক বিশ্বেও বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র হাস্যরসের সৃষ্টি করবে। বাংলাদেশের সন্মান ক্ষুণ্ণ হবে। জাতি মহাজোট এর প্রার্থীদের ভোট দিয়েছেন! সরকার গঠন করার জন্য তাহলে জাতির অনুমতি না নিয়ে একটি অংশকে বিরোধীদলে দেওয়ার অধিকার সরকারের আছে কি না? ভেবে দেখা দরকার।

ডা. এম এ সামাদ সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, দেশটাকে মগের মুল্লুক বানাবেন না, একদিন জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। সামনে উপজেলা নির্বাচনের নামে সরকারের অনুগত নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার যে কায়দায় ভোট ডাকাতি করিয়েছেন একইভাবে ভোট ডাকাতির সকল আয়োজন সম্পূর্ণ করেছেন। ইতোমধ্যে সকল রাজনৈতিক দল ঘোষণা করেছে এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না, তাহলে কেন? সরকার এদেশের ভুখা নাঙ্গা মেহনতি মানুষের শত শত কোটি টাকা খরচ করে নির্বাচনের নামে প্রহসন করতে যাচ্ছে! সরকার কি শফী হুজুরের! দোয়ায় কিয়ামত পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার গ্যারান্টি পেয়েছে?

বাম ঐক্যের সমন্বয়ক বলেন, এবার আর সরকার জঙ্গি জামায়াত- বিএনপি রাজাকার ও পাকিস্তানের ভয় দেখিয়ে কোন ফায়দা লুটতে পারবে না, কারণ এই জঙ্গি জামায়াত- বিএনপি জোটকে নিজের প্রয়োজনেই জাতি তালাক দিয়েছে ও ছুঁড়ে ফেলেছে। কিন্তু আগামীতে জনগণ অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিবে, এদেশের কৃষক শ্রমিক ছাত্র জনতা ও মেহনতি মানুষের বন্ধু দেশপ্রেমিক অকুতোভয় বামপন্থী কমরেড গণ। কাজেই মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীশক্তি বা জঙ্গি বানানোর কোনো সুযোগ আওয়ামী লীগ পাবে না, জঙ্গি জামায়াত- বিএনপি জোটের মতো নব্য এই ফ্যাসিবাদ ভোট ডাকাতদেরও জনগণ প্রত্যাখান করবে, সেদিন দূরে নয়। বর্তমান সরকারের ভোট ডাকাতি, লুটপাট, দুঃশাসন ও অর্থ পাচারসহ সকল অপকর্মের বিচার এই বাংলার মাটিতেই হবে, জনতার জয় হবে, বীর জনতা লাল সালাম ও মেহনতী মানুষের জয় হোক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত