শিরোনাম
◈ ড্যাপের নতুন সংশোধনীতে বুড়িগঙ্গার তীরে ভারী শিল্পের অনুমোদন, বন্যাপ্রবাহ এলাকায় আবাসন প্রকল্পের সুযোগ ◈ যুক্তরাষ্ট্রে ভিসার মেয়াদ পেরিয়ে অবস্থান করলে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, ফৌজদারি মামলার হুঁশিয়ারি মার্কিন দূতাবাসের ◈ ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থী-তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর, পরিচ্ছন্নতায় জোর দিতে নির্দেশনা ◈ বাংলাদেশে টমেটো ও আলুর সংগ্রহ-পরবর্তী বিভিন্ন পর্যায়ে নষ্ট এক-তৃতীয়াংশ ধানে ১০.২৪% ◈ ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথম ম‌্যাচ সন্ধ‌্যায়, মু‌খোমু‌খি বাংলা‌দেশ ও জিম্বাবু‌য়ে ◈ মেসি-পরবর্তী যুগে আর্জেন্টিনার প্রথম দুই প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত ◈ আগামী ২৪ ঘণ্টায় যেসব বিভাগে বৃষ্টি হতে পারে ◈ উত্তরায় কিশোর গ্যাংয়ের দাপট, মাদক সিন্ডিকেট ও দখলদারি নিয়ন্ত্রণে ‘দে লাড়া’ গ্রুপ (পিচ্চি সানি) ◈ ইমরান খান, ক্যালিস, ও সোবার্সের তালিকায় সাকিব আল হাসান ◈ ভারত কোটি টাকা আয় করবে, আর বঞ্চিত হ‌বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ?

প্রকাশিত : ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ০৭:১৬ সকাল
আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ০৭:১৬ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সেই সুলতান এই সুলতান যোগ দিন সংসদে

নঈম নিজাম :  সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ কি জাতীয় সংসদে যোগ দেবেন? সুলতান ভাইয়ের অবস্থান সংসদে যোগদানের পক্ষে। তার নির্বাচনী এলাকার মানুষও তাকে সংসদে দেখতে চান। গণফোরামের আরও একজন এমপি রয়েছেন। তার নাম মোকাব্বির। তিনি সিলেটের বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জের এমপি। একসময় এই আসনের এমপি ছিলেন বিএনপির ইলিয়াস আলী। ভীষণ জনপ্রিয়তা ছিল তার। কিন্তু রাজনীতির মারপ্যাঁচে ইলিয়াস নিখোঁজ। তার পরও সাধারণ মানুষ আজও তাকে ভুলতে পারছে না। আর সে কারণেই বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জে জয়ী গণফোরামের উদীয়মান সূর্য। মোকাব্বিরের আলাদা কোনো ক্যারিশমা ছিল না।

ভোটের আগে ইলিয়াস আলীর পুত্র মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। আর ইলিয়াসপত্নী ভোট করতে পারেননি আদালতের আদেশে। সঙ্গে সঙ্গে ভাগ্য খুলে যায় মোকাব্বিরের। লন্ডন থেকে এসে শখের বশে রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। গণফোরাম থেকে ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষ চেয়ে পাননি। দাঁড়ালেন উদীয়মান সূর্য নিয়ে। ভোটের শখ বলে কথা। বাস্তবতা বুঝে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে চেয়েছিলেন। গিয়েছিলেনও ডিসি অফিসে। কিন্তু একটু বিলম্বে যাওয়ার কারণে প্রত্যাহার করা হলো না। সময় ফুরিয়ে গিয়েছিল। উপায় না থেকে উদীয়মান সূর্য নিয়ে মাঠে নামেন মোকাব্বির। ইলিয়াসপত্নীর সমর্থনে জয়ীও হন। আর গণফোরাম এই প্রথমবারের মতো তাদের প্রতীকে আসন পেল সংসদে। এরই নাম কপাল! তার পরও সেই মোকাব্বিরকে নিয়ে সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না গণফোরাম।

ড. কামাল হোসেন বলছেন, তার দল সংসদে যাবে না। মোস্তফা মহসীন মন্টুরও একই সুর। এ অবস্থায় এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। সুলতানের সামনে দুই পথ খোলা- এক সংসদে যাওয়া। আরেকÑ সংসদে না যাওয়া। দেশবাসী তাকিয়ে আছে সুলতানের দিকে। ব্যক্তিগতভাবে সুলতান ভাইকে দীর্ঘ সময় থেকে জানি। ছাত্রলীগের সভাপতি থাকার সময় থেকে এই সম্পর্কের বন্ধন। অনেকের মাঝে সুভাষ সিংহ রায় ও আমাকে তিনি স্নেহ করতেন। তার সঙ্গে অনেক স্মৃতি। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বলতেন রিকশায় ওঠো। তিনি পালাতে যেতেন নয়াপল্টনের একটি হোটেলে। সঙ্গী-সাথী আমরা দু-এক জন। অনেক সময় খবর পাঠাতেন খুব ভোরে ঢাকা মেডিকেলের হোস্টেলে যাওয়ার জন্য। সেখানে থাকতেন তিনি। যেতাম। আমার সঙ্গে কথা বলতেন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। তারপর বের হতাম একসঙ্গে। সেই সুলতান ভাইয়ের সঙ্গে আজকাল কথা কম হয়। তার কথা বলার ধরন সব সময় একরকম। তাই টেলিফোন রেকর্ডের এই যুগে যত কথা কম তত ভালো। তবে মানুষটার জন্য শুভ কামনা সব সময়। তাকে নিয়ে অনেকের সমালোচনা দেখি। তাতে আমার কিছু যায়-আসে না। এই লম্বা সময়ের রাজনীতিতে এমন সৎ, নিষ্ঠাবান মানুষ খুব কম দেখেছি।। দীর্ঘ সময় রাজনীতি করছেন, অথচ একটি গাড়িও নেই তার। এই শহরে পারিবারিক টাকায় কেনা ছোট্ট একটি ফ্ল্যাটে থাকেন মগবাজারে। মেয়ের বিয়ের সময়ও দেখেছি আর্থিক টান। সুলতানের সততা তিনি ভিতরে-বাইরে এক। জটিলতায় জড়িয়ে নিজেকে আড়াল করতে পারেন না। কুটিলতা তাকে স্পর্শ করে না। অনেকে ভিতরে এক বাইরে আরেক। সুলতান ভাই তা নন। রাজনীতিটাই করেন গভীর মমতা দিয়ে। চেষ্টা করেন টিকে থাকার জন্য। আর টিকে থাকতেই সুলতান গণফোরামে। তার পরও সুলতানের হাতে ধানের শীষ আমারও ভালো লাগেনি। কথাটা তাকে ভোটের আগে বলেও ছিলাম। আমাদের অনেক বন্ধু আমাকে বলেছেন, সুলতান ভাই কাজটা কী করলেন? জবাব দিয়েছিলাম, তিনি তো বিএনপিতে যাননি।

 

গণফোরামে গেছেন। ড. কামাল হোসেন তো বঙ্গবন্ধুর অনুসারী। সুলতান ভোটের জোটে গেছেন। চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। মন তার পড়ে আছে বঙ্গবন্ধুর টুঙ্গিপাড়ায়। নিয়মিত কুলাউড়ার ভোটের খবর নিতাম। স্থানীয় আওয়ামী লীগাররা গোপনে সুলতান মনসুরের পক্ষে- খবর পেতাম। আর স্থানীয় বিএনপি গোপনে এম এম শাহীনের পক্ষে। বাস্তবতা সুলতানও বুঝতেন। তাই মুুজিবকোট পরেই ভোটের প্রচারণায় অংশ নিতেন। জয় বাংলা বলে বক্তব্য শেষ করতেন। এক মুহূর্তের জন্যও মনের আবেগ থেকে সরতে পারেননি। আদর্শিক চিন্তা থেকে সরেননি। এ নিয়েও সমালোচনার ঝড় ছিল। সামাজিক গণমাধ্যমে ধোলাই ছিল। সিলেটে হামলার শিকার হন। কেউ কেউ তার মুজিবকোট ছিঁড়ে ফেলারও চেষ্টা করেন। সব দেখেও সুলতান এক মুহূর্তের জন্য মুজিবকোট খোলেননি। সমালোচকদের জবাব দিয়েই সুলতান জয়ী হয়েছেন। মানুষ তাকে ভোট দিয়েছে এই কঠিন চ্যালেঞ্জের সময়ও। তার পরও প্রশ্ন উঠেছে- সুলতান সংসদে যাবেন কিনা?

প্রিয় সুলতান ভাই সংসদে আসুন। মানুষের কথা বলুন। আপনি একাই সংসদ জমিয়ে রাখতে পারবেন। ইতিহাস হতে পারবেন। ছাত্রলীগের সভাপতি, ডাকসুর ভিপি থাকাকালে আপনার সঙ্গে অনেক কথা শেয়ার হতো। অনেক বিষয়ে আপনি আমাদের মতামত নিতেন। এখন আপনার বয়স হয়েছে। আমাদেরও বয়স হয়েছে। আপনি সংসদের বাইরে থাকলে আপনার এলাকার মানুষ বঞ্চিত হবে। হতাশ হবে। ব্যথিত হবে। পাঁচ বছর সংসদে কাটান। তারপর আপনার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আপনি নিন। সংবিধান অনুসারে আপনার সংসদে যোগদান ফ্লোর ক্রসিং হবে না। নিয়মও ভঙ্গ হবে না। আইনগত কোনো বাধা নেই। সঙ্গে মোকাব্বিরকে নিন। রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসবে। আপনার রাজনৈতিক আদর্শ ১০ জনের সঙ্গে মিলবে না। এখন বিএনপির সঙ্গে হিসাব-নিকাশ মিলিয়ে লাভ নেই। বিএনপির রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ জটিল হয়ে উঠছে। বিএনপি একটা ভুল রাজনীতির মাঝে সময় অতিবাহিত করেছে। অনেক ভুলের খেসারত তাদের এখন দিতে হচ্ছে। ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে এত ভেজালের দরকার ছিল না। সাদামাটাভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করে ভোটে গেলেই অনেক সমস্যা তৈরি হতো না। ওয়ান-ইলেভেনও আসত না। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা নিয়ে বিএনপি আজ অবধি তার অবস্থান পরিষ্কার করতে পারেনি। চট্টগ্রামে ট্রাকে ট্রাকে অস্ত্র আনার ঘটনায় কী কারণে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা জড়াতে গেল সেই অবস্থানও পরিষ্কার হয়নি আজও। ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে খালেদা জিয়া কেন পূর্বনির্ধারিত সাক্ষাৎ বাতিল করলেন, সেই কাহিনীও রহস্যজনক।

রাজনীতির একটা হিসাব-নিকাশ থাকে। সেই হিসাবে একবার ভুল হলে অনেক দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। বিএনপি অনেক ভুল করেছিল। এখন সেই ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে। এখন বিএনপিকে অপেক্ষা করতে হবে। হোমওয়ার্ক করতে হবে নিজেদের নিয়ে। সময় বলে দেবে নেতিবাচক রাজনৈতিক চিন্তা কখনো ইতিবাচক কিছু বয়ে আনে না দীর্ঘমেয়াদে। দেখতে দেখতে অনেক বেলা গেল। দল থাকবে, মত থাকবে, সমালোচনা থাকবে। কিন্তু সবাইকে এবার দেশ নিয়ে ভাবতে হবে সম্মিলিতভাবে। বাংলাদেশ নিয়ে সবাইকে একটি চিন্তায় আসতে হবে। জাতির জনক, সংবিধান, মানুষের অধিকার, আইনের শাসন নিয়ে কোনো আপস নয়। সবাইকে নিয়েই ঢেলে সাজাতে হবে বাংলাদেশকে। মত-পথের ভিন্নতা, সমস্যা ছিল, আছে, থাকবে। তার মাঝেই পরিকল্পনা নিতে হবে দীর্ঘমেয়াদি। এগিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে সবকিছু স্বাভাবিক হয় না। ইতিহাস তা-ই বলে। মালয়েশিয়াকে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে আজকের অবস্থানে আসতে হয়েছে। মালয়েশিয়া যখন সিঙ্গাপুরকে ছেড়ে দিয়েছিল সাংবাদিকদের সামনে লি কুয়ান ইউ বলেছিলেন, ‘ওরা আমাদের রাখল না। সিঙ্গাপুরকে তার ভাগ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’ লি কুয়ান ইউর সেই সিঙ্গাপুর আজ কোথায়? সারা বিশ্বের ব্যবসায়িক রাজধানী এখন সিঙ্গাপুর। ভূ-রাজনীতির হিসাবে বাংলাদেশের পরতে পরতে সম্ভাবনা। আমাদের দরকার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা আর সুশাসন। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সুশাসন ছাড়া কোনো কিছুই এগিয়ে যেতে পারে না। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতেই জবাবদিহিতা অপরিহার্য। সংসদ হতে পারে জবাবদিহিতার তীর্থস্থান। ঐক্যফ্রন্টের আসন সীমিত। তার মাঝেও কথা বলা যায়। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে লুকিয়ে থাকা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করা যায়। কথা বলা যায় খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়েও। সরকারের উন্নয়ন কাজের ভুলগুলোও সামনে আনা যায়। মিডিয়া সংসদকে গুরুত্ব দেবে সত্যিকারের বিরোধী পক্ষ থাকলে। আর বিরোধী পক্ষ থাকলেই উন্নয়ন বাস্তবায়নেও অনিয়ম ও দীর্ঘসূত্রতা থাকে না। উন্নয়ন কাজের ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও সময়সীমা থাকা দরকার। আনিসুল হক ঢাকার মেয়র থাকার সময় জবাবদিহিতা চালু করেছিলেন। তার স্টাইলটা ছিল অনেকটা প্রয়াত কামরুল ইসলাম সিদ্দিকের মতো। একদিন বনানী কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সাইনবোর্ড আমার চোখে পড়ল। দেখলাম এতে লেখা রয়েছে, প্রকল্পের ব্যয়ের টাকার পরিমাণ, কাজ শুরুর তারিখ। শুধু তাই নয়, কাজ কবে শেষ হবে তাও উল্লেখ রয়েছে। প্রতিটি কাজেরই জবাবদিহিতা দরকার। উন্নয়ন মানে যা খুশি তা নয়। প্রকল্পের বাস্তবায়ন নির্ধারিত সময়ে শেষ হলে ব্যয় বাড়ে না। আর জবাবদিহিতা মানুষ পছন্দ করে।

প্রিয় সুলতান ভাই, আপনি আদর্শবাদী রাজনীতি নিয়েই জীবন শুরু করেছিলেন। ১৯৭৫ সালের পর বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ জানাতে যোগ দেন কাদের সিদ্দিকীর বাহিনীতে। আপনি ও শেখ মারুফ একসঙ্গে ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতি আপনার আবেগ আছে, আবার দলের প্রতি অভিমান আছে। ব্যক্তিজীবনে অভিমান থাকা ভালো। ছোট্ট এই জীবনে কম দেখা হলো না। এখন চারদিকে তাকালেই কেবল আওয়ামী লীগ দেখি। অন্য কোনো কিছু চোখে পড়ে না। এত আওয়ামী লীগ কোথায় ঠাঁই পাবে জানি না। বেশি খাবারে বদহজমও হয়। আগাছার সমাহারে ভূমি হলে নষ্ট হয়ে যাবে অনেক কিছু। রাজনীতির নানা হিসাব-নিকাশ আছে। সেই হিসাবের পথ ধরেই আওয়ামী লীগের আজকের অবস্থান। বেশিদিন আগের কথা নয়। আপনি ছাত্রলীগ সভাপতি থাকাকালে টুঙ্গিপাড়ায় গিয়েছিলাম জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে। এর আগে আমি টুঙ্গিপাড়ায় যাইনি। ঢাকা থেকে বাসে গোপালগঞ্জ পৌঁছলাম খুব সকালে। ইঞ্জিনচালিত নৌকায় চড়ে গেলাম টুঙ্গিপাড়ায়। সাদামাটা বাড়ি বঙ্গবন্ধুর। সমাধিও বলতে চারপাশে পাকা। বলা যায় সাদামাটাই। গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা নিয়ে দাঁড়িয়ে জিয়ারত সারলাম। কথা হলো বৈকুণ্ঠনাথের সঙ্গে। বঙ্গবন্ধুর বাড়ির কেয়ারটেকার। আমার সঙ্গে অনেক গল্প করলেন। পরিচয় করিয়ে দিলেন একজন মানুষের যিনি বঙ্গবন্ধুর লাশ দাফনে ছিলেন। তার কাছে বর্ণনা শুনলাম ৫৭০ সাবান দিয়ে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধুর শেষ গোসল করানো ও দাফনের। দুই চোখজুড়ে অশ্র“ রাখতে পারিনি সেইদিন। পরে দেখা হলো শেখ মুসা মিয়ার সঙ্গে। তিনি শেখ শহীদুল ইসলামের পিতা। শহীদ ভাইয়ের ছোট ভাইয়ের সঙ্গেও পরিচয় হলো। এরপর আরও অনেকের সঙ্গে কথা হলো। খাবারের আয়োজন করতে চাইলেন বৈকুণ্ঠনাথদা। কিন্তু আমি চলে গেলাম পাটগাতী বাজারে দুপুরের খাবার খেতে। তাজা মাছ ফ্রাই খেলাম মন ভরে। রাতে টুঙ্গিপাড়ায় থাকার ইচ্ছা ছিল। থাকার মতো কোনো কিছু ছিল না। বিকালেই ফিরে আসি গোপালগঞ্জে। তারপর ঢাকায়। টেকেরহাটে তখন ফেরি ছিল। আসা-যাওয়ার পথে যাত্রীরা টেকেরহাটে রাতের খাবার খেতেন। টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনকের সমাধি ঘুরে আমি ‘এই সময়’ নামের একটি সাপ্তাহিক কাগজে প্রচ্ছদ প্রতিবেদন লিখেছিলাম। কাগজটির সম্পাদক ছিলেন বঙ্গবন্ধুর প্রিয়ভাজন সাংবাদিক আমির হোসেন। এই লেখাটির পর মধুতে দেখা সুভাষ সিংহ রায়ের সঙ্গে। সুভাষ বলল, আপনাকে খুঁজছেন সুলতান ভাই। ডাকসু ভবনে বসে আপনি বললেন, ইতিহাসের মহানায়ককে নিয়ে কাজ করে যাও।

জীবন নদীর স্রোতে কত কিছু পেছনে ফেলে আসি। নানা দুঃখ-কষ্ট, ভালো-মন্দ হারিয়ে যায় স্রোতের টানে। মাঝে মাঝে মনে হয় এই জীবন নদীর পাঠশালায় এখনো অনেক কিছু দেখার বাকি। মানুষ এক জীবনে সবকিছু পায় না। সব আশা পূর্ণও হয় না। জ্বলে-পুড়ে মানুষ চায় আপন মহিমায় এগিয়ে চলতে। স্বপ্ন ও কল্পনার মাঝামাঝি কিছু পেলেই মানুষ তাকে সাফল্যের চূড়ান্ত হিসেবে ধরে নেয়। আবার কিছু মানুষ অন্যের সাফল্য দেখে স্থির থাকতে পারে না। ভিতরে ভিতরে পুড়তে থাকে। নিজের সবকিছু বাদ দিয়ে অন্যের বিরুদ্ধে কুৎসা নিয়েই থাকে ব্যস্ত। সামাজিক গণমাধ্যমের অপব্যবহার এখন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ভয়াবহভাবে প্রকাশ পাচ্ছে অনেকের অশ্লীল ও নীচু মানসিকতা। ছোট মানসিকতার মানুষগুলো সিঁড়ি বেয়ে আর ওপরে উঠতে পারে না। তারা নিজেরা সস্তা চাওয়া-পাওয়ার হিসাব মেলাতে চারপাশটাকে জটিল করে তোলে। নোংরা ও বাসের অযোগ্য করে ফেলে। সারা জীবনের ব্যর্থতার গ্লানি চাপিয়ে দেয় অন্যের ওপর। নিজের ভালোটা বোঝার ক্ষমতাও ওদের নেই। জগৎ জীবনে এমন মানুষের সংখ্যাই বেড়ে চলেছে। সুবিধাবাদকে এখন সবাই এক ধরনের ক্রেডিটই মনে করে। অশুভ প্রতিযোগিতা গ্রাস করে নিচ্ছে আমাদের সমাজ ও রাজনীতিকে। অসুস্থ প্রতিযোগিতা বাড়ছে জীবনের পথপরিক্রমায়। মাঝে মাঝে মনে হয় সব ছেড়ে-ছুড়ে চলে যাই দূর সীমানায়। আকাশজুড়ে জ্যোৎস্নার ছায়ায় গন্ধরাজের ছোঁয়ায় প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যাই। হয় না। তাই অসত্যের বিপক্ষেই লড়ে যাই ক্ষীণ তালে। এ লড়াইটা আপনাদের কাছ থেকেই পাওয়া সুলতান ভাই। এ কারণে আপনাকে, আপনাদেরকে এখন অনেক কিছুর বাইরেই মনে করি। আর মনে করি বলেই বলছি, আপনি সংসদে আসুন। কথা বলুন মানুষের পক্ষে। সংসদের বাইরে করার কিছু থাকলে ঐক্যফ্রন্ট করুক।

এই সংসদে অনেক কিছু করার আছে। বাংলাদেশের মানুষ আগের মতো রাজপথের আন্দোলনকে নেবে না। কারণ অর্থনীতির গতি বদলের মুহূর্তে মানুষের চিন্তারও পরিবর্তন হয়। মানুষ এখন একটি পরিবর্তনশীল সমাজে বাস করছে। এ সমাজের সঙ্গেই সবাই খাপ খাইয়ে চলার চেষ্টা করছে। তাই রাজনীতিকে নিয়েও নতুন করে ভাবনায় আসতে হচ্ছে রাজনীতিবিদকেই।

লেখক : সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন।

  • সর্বশেষ