Skip to main content

আওয়ামী লীগের আয়ু শেষ! কী হবে এবার?

অসীম সাহা : না, এটা যার-তার কথা নয়, স্বয়ং ড. কামাল হোসেনের মতো বিজ্ঞ মানুষ বলেছেন। তিনি আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে বলেছেন, “সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। এমন কিছু ভালো কাজ করুন, যাতে আপনাদের মোবারকবাদ দিতে পারি।” তার মানে আওয়ামী লীগের জন্য এখনও কিছুটা হলেও দরদ তাঁর মনে অবশিষ্ট আছে? তিনি আওয়ামী লীগের একজন শুভানুধ্যায়ী হিসেবে তাদের রক্ষা করার জন্য সুপরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু সুপরামর্শ দিয়ে কী লাভ? ড. কামাল যেখানে জানেন, আর ২০ দিনের মধ্যে যাদের “আয়ুহীন দীপমুখে শিখা নিভু নিভু/আঁধারের গ্রাস হতে কে টানিছে তারে” অবস্থা, মানে আইসিইউতে যাদের লাইফ সার্পোর্টে রাখা হয়েছে, তারা কী করে ভালো কাজ করবেন? মৃত্যুপথযাত্রীর কাছ থেকে ভালো বা মন্দ কোনো কিছু আশা করা কি যুক্তিকসঙ্গত? অতএব ড. কামাল কী হিসেবে এমন একটি কথা বললেন, সেটা আমাদের মতো অর্ধশিক্ষিত লোকদের পক্ষে বোঝা সত্যি কঠিন হয়ে গেলো!\\ একথার পর এখন আওয়ামী লীগ কী করবে? আইসিইউ থেকে পালাবে, নাকি যে-ভড়ং করে তারা চোখ বুজে আছে, সেখান থেকে যে কোনো উপায়ে ভ্যানিস হয়ে গিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করবেন? কিন্তু চাইলেই কি আওয়ামী লীগারদের পক্ষে তা সম্ভব হবে? বিএনপির পক্ষের অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বা বিএনপি নিশ্চিত জিতবে বুঝে আওয়ামী লীগাররা নাকি বাক্স-প্যাটরা গোছাতে শুরু করেছেন! যাদের পাসপোর্ট-ভিসা ছিলো না, তারা সেটাও করে ফেলেছেন। নির্বাচনের ফলাফল বেরুতে শুরু করলে এবং যুক্তফ্রন্ট বা বিএনপির বিজয় দেখতে শুরু করলেই তারা উর্ধগামী ধানের শীষের ধারালো আঘাতে ধরাশায়ী হবার আগেই প্রাণ নিয়ে কোনো রকমে পালাতে পারলেই হলো! তার প্রক্রিয়া নাকি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। কিন্তু গোল বাঁধাচ্ছে বিএনপির সপক্ষেরই কিছু লোক।\ \ বিজয় যেখানে নিশ্চিত, সেখানে অন্য কোনো কথা বলা যে যুক্তিসঙ্গত নয়, এটা বিএনপির বুদ্ধিঢিবিদের কে বোঝাবে? বিএনপির তাত্ত্বিক, সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ, যিনি এক সময় মাওলানা ভাসানীর চ্যালা ছিলেন, তিনি এখন অন্যান্য পিকিংপন্থিদের মতো বিএনপির পরার্মশদাতা হওয়া সত্ত্বেও বলেছেন, “ঐক্যফ্রন্টকে নির্বাচনের বাইরে রাখার চেষ্টা চলছে।” আয়ু শেষ হবার মুহূর্তে আওয়ামী লীগ তা হলে সেটা করার ক্ষমতা রাখে? অন্যদিকে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বরিশালি ভাষার প্রমিত উচ্চারণে বলেছেন, “পুলিশের আশ্রয় ছাড়া আওয়ামী লীগের মানুষের কাছে যাওয়ার উপায় নেই। তা হলে ব্যাপারটা কী দাঁড়ালো? ড. কামাল একরকম, মাহফুজউল্লাহ আরেকরকম এবং দুলালের ঘরের আলাল এই তিনজন তিন রকমের কথা বলে ফেললেন! তাদের চেয়ে আরো জোরালো ভাষায় আরেক সাবেক ভামপন্থী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন “৩০ ডিসেম্বর ভোটের মাধ্যমে সরকারকে জবাব দেবে জনগণ।” যেখানে আওয়ামী লীগ আইসিইউতে ধুঁকে ধুঁকে মরছে, সেখানে তারা ৩০ তারিখ পর্যন্ত টিকে থাকবে বলে মনে হয়? বরং এসব এলোমেলো কথা বাদ দিয়ে ড. কামাল, মাহফুজউল্লাহ, আলাল এবং নজরুল ইসলাম খান যদি সম্মিলিতভাবে আওয়ামী লীগকে শুধু একটি তওবা করার কথা বলে নিজেরা আওয়ামী লীগের জানাজা পাঠের জন্য প্রস্তুত হন, তা হলে সবচাইতে ভালো হয়। কারণ আওয়ামী লীগের মতো দলের মরণদশা যখন শিয়রে ঘোরাঘুরি করছে এবং তারা সব চাওয়া-পাওয়ার উর্ধ্বে চলে গেছে, তখন না হয় বিএনপির লোকেরা একটু উদার হয়ে এবারের মতো আওয়ামী লীগকে মাফ করে দিক। আল্লাহই বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সকল নেতাকে বেহেস্ত নাজিল করবেন!\ \ লেখক : কবি ও সংযুক্ত সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়

অন্যান্য সংবাদ