প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তাৎক্ষণিক-সমাধানযোগ্য ত্রুটিতে প্রার্থীতা বাতিল অবাঞ্ছনীয়: সুজন

মারুফুল আলম : সুশাসনের জন্য নাগরিক(সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, যেসব ত্রুটির তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান সম্ভব, সেসব ত্রুটির জন্য প্রার্থীতা বাতিল হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন কিন্তু সব করার ক্ষমতা রাখে। এক্ষেত্রে একটু এদিক সেদিক হলেই আইনের মারপ্যাঁচে প্রার্থীতা বাতিল করা ঠিক নয়। মঙ্গলবার চ্যানেল ২৪ এর টক’শোতে তিনি এ কথা বলেন।

হলফনামার স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যবশত হলফনামাতে অনেক তথ্য গোপন করা হয় এবং অনেক বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দেয়া হয়। ২০০৫ সাল থেকেই আমাদের এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা রয়েছে। এখন পর্যন্ত যতটুকু মনে হচ্ছে তথ্যগুলো পুরোপুরি সঠিকভাবে দেয়া হয়নি। তবে এবারেরটা প্রসেসিং-এ আছে, এখনও পূর্ণ-চিত্র পাইনি।

তিনি আরো বলেন, সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকলে সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা থাকে না এবং সংসদ সদস্য থেকে বাদ যাবে। এরকম বহু রাজনীতিবিদ বর্তমানে সরকারের সঙ্গে আছে এবং সাবেক এবং বর্তমান বহু সংসদ-সদস্য আছে, যাদের সঙ্গে সরকারের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আছে। তাদের একজনের ব্যাপারেও বিধি-প্রয়োগের কথা এই পর্যন্ত শুনিনি।

সুজন সম্পাদক বলেন, রেজা কিবরিয়া সাহেবের প্রার্থীতা যে ঋণের কারণে বাতিল করা হয়েছে ওটা কিন্তু ঋণ নয়, ওটা হচ্ছে মেম্বারশিপ ফি। ক্লাসিফায়েড লোন হলে কথা ছিলো। ওটা ঋণ ছিলো না, বিলও ছিলো না। এটা সরকারি বিল-খেলাপীর পর্যায়েও পড়ে না। মোফাজ্জল হোসেন মায়া এবার প্রার্থী হিসেবে যোগ্য হলেও এই মায়া-ই কিন্তু কনভিক্টেড অবস্থায় সংসদ সদস্য ছিলেন। বদি ৩ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও সংসদ সদস্য ছিলেন।

একইভাবে ৯৬-এ এরশাদ সাহেব দণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন এবং তার দণ্ড স্থগিত হয়নি। তারপরও নির্বাচন কমিশন ওনাকে নির্বাচন করতে দিয়েছে। মহিউদ্দিন খান আলমগীর কনভিক্টেড ছিলেন, দণ্ড স্থগিত হয়নি কিন্তু চেম্বার জর্জ উনাকে নির্বাচন করতে দিলেন। এরকম বিপরীতধর্মী রায় কিন্তু আছে।

সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে ‘যারা নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দুই বছরের বেশি দণ্ডপ্রাপ্ত হবেন, দণ্ড ভোগ করার পর থেকে ৫ বছর শেষ হওয়া পর্যন্ত তারা যোগ্য হবেন না’ উল্লেখ থাকলেও হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপীরা আইনের মারপ্যাঁচে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বলে মন্তব্য করেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ