প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এফবিসিসিআইয়ের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

স্বপ্না চক্রবর্তী : ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)-এর বার্ষিক সাধারণ সভা ২০১৭-১৮ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি মো: শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমসহ অন্যান্য পরিচালকরা।

মো: শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন সভায় সদস্যদের উদ্দেশ্যে সংগঠনের বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ করেন। এফবিসিসিআই সভাপতি তাঁর বক্তব্যে বলেন, এফবিসিসিআই-এর সাধারণ পরিষদ সদস্যদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের বেসরকারি খাতের উন্নয়নে এফবিসিসিআই’র বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ নিয়মিত কার্যক্রম ছাড়াও বেশকিছু নতুন কার্যক্রম গ্রহন করেছে।

এসব কার্যক্রম সম্পাদনে সাধারণ পরিষদ সদস্যদের অকৃত্রিম সহযোগিতা এবং সমর্থনের জন্য তিনি তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আমরা দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামো উন্নয়নসহ দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে এফবিসিসিআই ইনস্টিটিউট স্থাপন করেছি।

দক্ষ শ্রমশক্তি গঠনে চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য আমরা এফবিসিসিআই ইনস্টিটিউট গঠনের উদ্যোগ নিই। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ টেকনিক্যাল এডুকেশন বোর্ড থেকে আমরা ইনস্টিটিউট স্থাপনের অনুমোদন পেয়েছি। খুব শীঘ্রই এর কার্যক্রম শুরু করতে পারবো বলে আমরা আশা করছি। এছাড়াও আমরা দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নে আমরা এসএমই ফাউন্ডেশনের সাথে যৌথ ভাবে গত এপ্রিল মাসে ৬ষ্ঠ এসএমই মেলার আয়োজন করি।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, শুধু তাই নয় এফবিসিসিআইয়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যাংক সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে নির্দেশনা দিয়েছে ব্যাংকগুলোকে। এছাড়া আমরা ভিয়েতনামের রাষ্ট্রপতি ত্রান দাই কুয়াং-এর বাংলাদেশ সফরকালে তার উপস্থিতিতে গত ৬ মার্চ, ২০১৮ তারিখে আমরা বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম বিজনেস ফোরামের আয়োজন করি।

এসময় তিনি এফবিসিসিআইয়ের ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, মন্দা কাটিয়ে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রাখার জন্য ২০১৮ সাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বছরের শেষ নাগাদ বিশ্বব্যাপী এই প্রবৃদ্ধি ৩.৯% হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

অর্থনৈতিক কার্যক্রমের বিদ্যমান শক্তিশালী গতিশীলতা, অনুকূল বাজার পরিস্থিতি, সুবিধাজনক আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারণমূলক আর্থিক নীতির এবং অনুকূল দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বিশ্ব অর্থনীতিতে এই প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে। তবে সম্প্রতি বিশ্বব্যাপি বিদ্যমান বাণিজ্য যুদ্ধ, জনপ্রিয় একতরফা বাণিজ্য নীতি সমর্থন ইত্যাদির প্রভাবে বিশ্ব বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি চলতি বছরে এক শতাংশ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এসময় এফবিসিসিআই নেতারা জানান, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আমাদের রপ্তানী আয় হয়েছে ৩৬.৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং প্রবৃদ্ধি ৫.৮১ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম ৪ মাসে রপ্তানী প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত আশা ব্যাঞ্জক যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮.৬৫ শতাংশ।

বিশেষ করে গত বছরের একই মাসের তুলনায় অক্টোবর, ২০১৮-তে রপ্তানী প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩০.৫৩ শতাংশ যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৩২.৬৮ শতাংশ বেশী। সমুদ্র ও স্থল বন্দরসমূহের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন গেন্ট্রি ক্রেন স্থাপনের ফলে রপ্তানী ইকো-সিস্টেমের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে আমদানী ব্যয় গত বছরের তুলনায় ২৫.২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮.৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ