প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নরসিংদীতে জঙ্গি আস্তানায় ‘গর্ডিয়ান নট’ এর অভিযান চলছে

খন্দকার শাহিন, মাধবদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি: নরসিংদীর মাধবদীতে জঙ্গী আস্তানায় চলমান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অপারেশনের নাম দেয়া হয়েছে “গর্ডিয়ান নট”। এ সম্পর্কে দুপুর পৌনে ১ টায় পুলিশ মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী সাংবাদিকদের অভিযানের নাম বলেন। তিনি আরো বলেন, সোয়াত টিম ও জঙ্গীদের মধ্যে এ পর্যন্ত দফায় দফায় ব্যাপক গোলাগুলি হলেও এখন পর্যন্ত কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি কিংবা কেউ আটক হয়নি। এছাড়া সম্পূর্ণ আইনী প্রটোকল মেনেই এ অভিযান সম্পন্ন করা হবে।

এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে জানা যায়, সোয়াট সদস্যরা অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নেওয়ার পর মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা সিলেট মহাসড়কের পাশে শেখেরচর ভগিরথপুরে সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানার দিক থেকে থেমে থেমে গুলির শব্দ আসে। দুপুরে দেড়টা পর্যন্ত কয়েক দফা গুলির শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। পুলিশ সকালেই বাড়ি দুটির আশপাশের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয় ৫০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। মাইকিং করে কাউকে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে রয়েছেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন।

এ আগে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও র‌্যাব সদস্যরা দুটি এলাকা ঘিরে রেখেছেন। মাধবদীর গাংপার ও ভগিরথপুরে উপস্থিত রয়েছে ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি, এম্বুলেন্স ও চিকিৎসকদল। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম সকাল ১০ টায় নরসিংদীতে পৌঁছে ভগিরথপুরে এ অভিযান শুরু করে। এ আগে সাংবাদিকদের বলেন, “একাধিক জঙ্গি আছে সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। তাদের কাছে কী ধরনের অস্ত্র বা বিস্ফোরক থাকতে পারে সে বিষয়ে আমাদের একটি ধারণা আছে।”

ঢাকা মহানগর পুলিশের এই অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, আশপাশের লোকজনের যাতে ক্ষতি না হয় সে বিষয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সোয়াট অভিযান শুরুর আগে ‘জঙ্গিদের’ সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে তারা আত্মসমর্পণ করে।

নরসিংদীর পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন জানান, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও পুলিশ সদরদপ্তরের ল ফুল ইন্টারসেপশন সেলের (এলআইসি) সদস্যরা সোমবার রাত ৯টার দিকে ওই বাড়ি দুটি ঘিরে ফেলে। পরে র‌্যাব তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। মঙ্গলবার ভোরে সোয়াট সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এর মধ্যে মাধবদী পৌরসভার ছোট গদাইরচরের সাত তলা নিলুফা ভিলার মালিক হাজী মো. আফজাল হোসেন নামের এক ব্যক্তি। ওই ভবনের পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটে জঙ্গিরা অবস্থান করছে বলে পুলিশের ধারণা। ভবনটির প্রথম থেকে তৃতীয় তলা পযন্ত রয়েছে মিফতাহুল জান্নাহ মহিলা মাদ্রাসা।

আর শেখেরচরের ভগিরথপুরের পাঁচ তলা বাড়িটির মালিক বিল্লাল হোসেন নামের এক কাপড় ব্যবসায়ী। ওই ভবনের পঞ্চম তলায় এক নারীসহ দুই জঙ্গি অবস্থান করছে বলে খবর রয়েছে পুলিশের কাছে।

ভগিরথপুরের বাড়িটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক থেকে তিনশ মিটারের মধ্যে। সেখান থেকে মোটামুটি দুই কিলোমিটার দূরত্বে মাধবদীর ছোট গদাইরচ(গাংপার) এর বাড়িটি। দুটি বাসাই এ মাসের ৭ তারিখে ভাড়া নেওড়াা হয়েছে বলে বাড়ির মালিকদের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়েছে।

অভিযানের আগে, আশপাশের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার পর সকালে দুই বাড়ির গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি এনে রাখা হয় দুই বাড়ির কাছাকাছি।

সকালে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি আবদল্লাহ আল মামুন এবং নরসিংদীর সিভিল সার্জন ভগিরথপুরে আসেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ