প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় আতঙ্কিত ব্যবসায়ীরা

আদম মালেক: আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে চরম উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। সময় যত গড়াচ্ছে উত্তেজনা তত বাড়ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর অনমনীয়তা যেমন সংঘাতের জন্ম দিতে পারে তেমনি ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি। সৃষ্ট অনিশ্চয়তায় আতঙ্কিত ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলা ব্যর্থ হলে অর্থনীতির নিজস্ব পদক্ষেপগুলো ব্যবহারের সুযোগ ধীরে ধীরে সীমিত হয়ে আসবে। এতে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমবে, কমবে রাজস্ব আয়, বাড়বে রাষ্ট্রীয় ব্যয়। পাশাপাশি বাড়বে টাকা পাচার।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা আতঙ্কে রয়েছেন। রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পরিবহন ব্যবসায়ী ও হকার ও শ্রমিক শ্রেণি সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হন। যা থেকে বাদ পড়ে না সাধারণ ভোক্তারাও। তাই সহিংস কর্মসূচি পরিহার করে সব পক্ষের সঙ্গে সমঝোতায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চান তারা।

বাংলাদেশ নিটওয়ার প্রস্ততকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সহ-সভাপতি ফজলে শামিম এহসান বলেন, অনেক ব্যবসায়ী বিকেএমইএর সাথে আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তিনি নিজেও কিছুটা আতঙ্কে রয়েছেন।

শামিম আরো জানান, দেশে সহিংসতা হলে এর প্রভাব যতটা অভ্যন্তরিণ হয় তার চেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক। ক্রেতারা তখন ভয়ে এদেশে আসতে চায় না। এমনিতেই শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির কারণে পোশাক ব্যবসায়ীরা কিছুটা চাপে রয়েছে। এখন যদি আবার রাজনৈতিক সহিংসতা তৈরি হয় তাহলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে। তাই ব্যবসায়ীরা দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে গণতান্ত্রিক আচরণ আশা করে।

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্ততকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বিদ্যমান পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন। তাঁর অভিমত, ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবে, আগামীর রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়িদেরও মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। রাজনীতিবিদরা শান্তিপূর্ণ রাজনীতি করবে। ব্যবসায়ীরা আশাবাদি সকল রাজনৈতিক দল দেশের ব্যবসায়িদেরও স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই আন্দোলন কর্মসূচি করবে। অতীতের স্মৃতিতে ফিরে যেতে চান না তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অর্থনীতিবিদ সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্যবসা-বাণিজ্য। শিল্প কারখানার উৎপাদনও কমে যায়। মানুষের মধ্যে এক ধরনের ভয়ভীতি কাজ করে। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যহত হয়। যখনই দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয় তখন বিদেশিরাও সংঘাতপূর্ণ দেশে বিনিয়োগ করতে চান না। আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে এক ধরনের স্থবিরতা সৃষ্টি হয়। তাই রাজনৈতিক অস্থিরতা হলে দেশের অর্থনীতি সামগ্রিকভাবে পিছিয়ে পড়ে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ