প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লাশ বহনের দায়িত্ব নিলেন দুই ডক্টর

মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার: ইংরেজি বাংলা মিলে ডক্টর আর ডাক্তারের মধ্যে পার্থক্য অনেক। তবে নিজ নিজ পেশার ক্ষেত্রে দুজন যে উচ্চতায় উঠেছেন তাতে দুজনকেই ডক্টর বলা যায়। এর জন্য তারা কষ্ট পেলে তার জন্য আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। ড. কামাল হোসেন এবং ডাক্তার বদরুদোজ্জা চৌধুরী রাজনীতি করছেন প্রায় ৪০-৪২ বছর হবে। নামে সবাই চেনেন। কিন্তু বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে দুই জনের অবদান খুঁজতে হলে অনুবীক্ষণ যন্ত্রের প্রয়োজন হয়। তারা বিচক্ষণ হলেও রাজনীতির হিসাব-কিতাবে বড় ভুল করে ফেলেছেন। ডাক্তার চৌধুরীর প্রথম ভুল, তিনি সামরিক শাসনের একান্ত সহযোগী হয়ে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও দর্শন বলতে যা কিছু বোঝায় তার সবকিছু বাতিল এবং একাত্তরের পরাজিত শক্তি, যুদ্ধাপরাধী ও উগ্র ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতির পুনরজ্জীবন ঘটিয়ে মৌলিক চিন্তায় সমগ্র জাতিকে মুক্তিযোদ্ধার পক্ষ ও বিপক্ষে শক্তি হিসেবে চরম বিভাজনের মধ্যে ফেলে দিলেন। যার জের ধরে রাজনীতি চলে গেল কালো টাকা ও ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর কবলে। শুরু হলো সংঘাত, সংঘর্ষ, প্রতিহিংসা, বিদ্বেষ। যেখান থেকে আজও আমরা বের হতে পারছি না। এর পরিণতিকেই ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড আক্রমণের মতো বীভৎসতার সম্মুখীন আমাদের হতে হয়েছে। বিপরীত পক্ষের মধ্যে সমঝোতা ও আপোসের পথ চির দিনের জন্য বলা যায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর দায়ভার থেকে ডাক্তার চৌধুরী নিজেকে কিভাবে মুক্ত রাখবেন। ইতিহাস বড় নির্মম, কাউকে সে ছাড়বে না। তবে সামরিক স্বৈর শাসনের সহযোগী হয়ে যা করেছেন, এগুলো ডাক্তার চৌধুরীর ইচ্ছাকৃত সহজ উপায়ে, ফায়ারফ্লেশহীনভাবে সামরিক শাসকের হাত ধরে ক্ষমতায় আরোহণের হাতছানি তিনি উপেক্ষা করতে পারেননি। ক্ষমতার সিঁড়িতে এক সময়ে তিনি রাষ্ট্রপতি হলেন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর উনার কপালে যা জুটল তা যেন তার গৃঢ় রহস্য কবেল তিনিই জানেন। তবে মানুষর ধারণা তিনি হয়তো অতীত কর্মের অনুশোচনায় এমন কিছু করতে চেয়েছিলেন যা ওই সময়ের বিএনপির ক্ষমতাধর নতুন তুর্কীদের চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে। সে দিনের কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে ডাক্তার চৌধুরী এখন বিএনপিকে উদ্ধারের চেষ্টায় মাঠে নামার ঘোষণা দিচ্ছেন কিসের আশায়। এ প্রশ্নটি এখন অনেক মানুষের মুখে। ড. কামাল হোসেনের রাজনৈতিক মতি-গতি কোনো বিশ্লেষক এবং গবেষকের জন্য বুঝে ওঠা অত্যন্ত কঠিন। তিনি বঙ্গবন্ধুর ¯েœহভাজন ছিলেন।

কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস এবং বঙ্গবন্ধু স্বপরিবার নিহত হওয়ার পর তার ভূমিকা নিয়ে বরাবরই মানুষের মনে অনেক প্রশ্ন আছে। ২৭-২৮ বছর ধরে গণফোরাম প্রেসিডেন্ট আছেন তিনি। কিন্তু দলকে জনগণের কাছে নিতে পারেননি। এখন নির্বাচনের মাত্র তিন মাস বাকি। এই সময়ের মধ্যে তিনি বাংলাদেশের জনগণকে তিনি তার পক্ষে এনে ভোটের নির্বাচনে জয়ী হয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। এই রকম ঘোষণা যখন দেন তখন সঙ্গত কারণেই মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে। এর পূবেও দেখা গেছে অনেক হাঁকডাক দিয়েছেন। কিন্তু আসল সময় এলে কখন যে তিনি দেশ ছেড়ে বিদেশ পাড়ি জমিয়েছেন তা কেউ টের পায়নি। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শবিরোধী পশ্চাদপদ ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতি, একের পর এক ভুল রাজনৈতিক কৌশল এবং প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ব্যবহার করে নিঃশেষ করে ফেলার প্রচেষ্টার কারণে বিএনপির আজ চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন। নিজের প্রতি আস্থা হারিয়ে বিএনপি এখন হিল্লি-দিল্লি, লন্ডন, নিউইয়র্ক দৌড়ে বেড়োচ্ছেন। ঠিকাদার বা লবিয়িস্ট নিয়োগ দিচ্ছেন। শেষমেষ বিনেপি ডা. বি. চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেনের দরজায় হাজির হয়েছে। এই দুই খ্যাতিমানের যে ব্যাকগ্রাউন্ড এবং এদের সঙ্গে ইতোপূর্বে বিএনপি যেরকম আচরণ করেছে, তাতে উনারা বিএনপির এই মরা লাশ কাধে করে সেটিকে জিন্দা করার চেষ্টা করবেন, নাকি সমাধিস্থলের দিকে নিয়ে যাবেন সেটি দেখার জন্য এখন অপেক্ষা করতে হবে।

লেখক : রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ