শিরোনাম
◈ বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রূপ নিতে পারে, বাংলাদেশে বৃষ্টির আভাস ◈ ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে রেলিং ভেঙে বাস খাদে, নিহত ৩, আহত অন্তত ১৬ ◈ ২০২৮ অলিম্পিক ক্রিকেটের বাছাইপর্ব জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ◈ মগবাজারে আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি, অল্পের জন্য রক্ষা ◈ ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর, যেভাবে পাল্টে গেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের সমীকরণ ◈ চার দশকের অপেক্ষার অবসান, ২০ নভেম্বর চালু হচ্ছে পাবনা-ঢাকা সরাসরি ট্রেন ◈ সাজেক দখলে মরিয়া দুই পক্ষ, বিপাকে পর্যটন ব্যবসায়ীরা ◈ ২০২৭ সালের জুনে চালু হচ্ছে চট্টগ্রামের প্রথম স্যুয়ারেজ প্রকল্প, উপকৃত হবে ২০ লাখ মানুষ ◈ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ভুলে ২০ লাখ পাঠ্যবই সংশোধনের উদ্যোগ, বাড়ছে ব্যয়ের শঙ্কা ◈ ১৬ ডিসেম্বর থার্ড টার্মিনাল চালুর লক্ষ্য, জাপানি কনসোর্টিয়ামের ৪ শর্তে আটকে চুক্তি!

প্রকাশিত : ২৯ জানুয়ারী, ২০১৮, ০৮:১২ সকাল
আপডেট : ২৯ জানুয়ারী, ২০১৮, ০৮:১২ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কীর্তনখোলার চর দখলে দেড় শতাধিক ভূমিদস্যু

খোকন আহম্মেদ হীরা: নগরী সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর জেগে ওঠা চর দখলে পিছিয়ে নেই আওয়ামীলীগ পরিচয়দানকারী কতিপয় ব্যক্তি, বিএনপির নেতৃত্বস্থানীয় নেতা, আইনজীবীসহ ব্যবসায়ীরা। নদীতে জেগে ওঠা চর এলাকায় নদী ভরাট করে কৃত্রিম চরের মাধ্যমে বৃদ্ধি করা হয়েছে চরের পরিমাণ।

সূত্রমতে, বছরের পর বছর এভাবে কৃত্রিম চর বাড়ানো হলেও ভূমিদস্যুদের ক্ষমতার কাছে অসহায় স্থানীয় প্রশাসন। ফলে কোন ধরনের বাধাঁ বিঘœ ছাড়াই চরের জমিতে ভূমিদস্যুরা গড়ে তুলেছে ইটভাটা, মাছের ঘের ও মুরগীর ফার্ম। এমনকি ঘর তুলেও ভাড়া দেয়াসহ প্লট আকারেও বিক্রি করা হচ্ছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নগরীকে ঘিরে রাখা কীর্তনখোলা নদীতে আশির দশকে জেগে ওঠে ২৩ একর জমি। যা রসুলপুর চর নামে পরিচিত। এরপর যে দলই ক্ষমতায় এসেছে সেই দলের প্রভাবশালী নেতাকর্মী ও সমর্থকরা চর সংলগ্ন নদী দখল করে বাঁশ এবং চাটাই দিয়ে সৃষ্টি করেছে কৃত্রিম চর। ফলশ্রুতিতে ২৩ একরের চর এখন ৫০ একরে পরিণত হয়েছে। আর সেখানেই বহুতল ভবন থেকে শুরু করে মাছের ঘের, ছোট বড় ঘর তৈরি করে ভাড়া দেয়া হয়েছে। এমনকি চরের জমিও বিক্রি করা হচ্ছে।

এভাবেই কীর্তনখোলা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে জেগে ওঠা মোহাম্মদপুর চর, দপদপিয়ার চর, কর্ণকাঠী চর, পলাশপুর চর, খোন্নারের চর এবং চরবাড়িয়ার চর একইভাবে বৃদ্ধি করে দখল করা হয়েছে। চর দখলের সাথে জড়ি রয়েছে দেড় শতাধিক ভূমিদস্যু।

এদের মধ্যে চরবাড়িয়ার চর দখল করে দুটি ইটভাটা করেছেন আওয়ামীলীগ পরিচয়ধারী ইউনুস আলী, সাত নম্বর পলাশপুর চরে মাছের ঘের করেছেন জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চাঁন ও কাউন্সিলর মাইনুল হক, মোহাম্মদপুর চর দখল করে বিশাল বাউন্ডারী ওয়াল দিয়েছে এমইপি কোম্পানী, মোহাম্মদপুর চরে বিশাল ঘের রয়েছে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী লাল মিয়ার, একই চরে ব্যবসায়ী হারুন-অর রশিদের রয়েছে গরুর খামার, রসুলপুর চরে কোতোয়ালী যুবদলের সাবেক সভাপতি কাউন্সিলর হারুন-অর রশিদের রয়েছে মাছের ঘের ও বাউন্ডারী ওয়াল ঘেরা জমি, রসুলপুর চরে আওয়ামীলীগ পরিচয়ধারী এমরান হোসেন দুই শতাধিক ঘর তুলে ভাড়া দিয়েছে, মোহাম্মদপুর চরে কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীন গড়ে তুলেছে ডকইয়ার্ড, আইনজীবী শহিদ হোসেনের রয়েছে বিশাল মাছের ঘের ও বাউন্ডারী ওয়াল করা জমি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কৃষক ফেডারেশনের জেলা শাখার দায়িত্বশীল এক নেতা বলেন, উল্লেখিত চরসহ জেলায় বিভিন্ন নদীতে জেগে ওঠা চরের সাথে নদী ভরাট করে কৃত্রিম চর সৃষ্টি করে তার দখল টিকিয়ে রাখতে ভূমিদস্যুদের নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী রয়েছে।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন থেকে কৃত্রিম চর সৃষ্টিসহ দখল অব্যাহত থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। তবে মাঝে মধ্যে কিছু উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও তা আর বাস্তবায়ন হয়নি।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ক্যাপিটাল ড্রেজিং শুরু হলে নদীর গভীরতা বাড়বে এবং কৃত্রিম চর সৃষ্টির আর কোন সুযোগ থাকবেনা।

  • সর্বশেষ