প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘কারা ডাকসু নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করছে’ মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

ইসমাইল বাবু :  সুদীর্ঘ দিন ধরে ডাকসু ও ছাত্র সংসদগুলোর কার্যক্রম বন্ধ রাখায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হানাহানি, অরাজকতা, অসামাজিক ও অপরাধমূলক কাজকর্ম এবং নৈরাজ্যমূলক পরিবেশ লাগামহীনভাবে বেড়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত ছাত্র সংসদ থাকলে সেখানকার ছাত্রছাত্রীদের আনুষ্ঠানিক মুখপাত্র হওয়ার দায়িত্ব পায় নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিরা। ছাত্র সংসদ না থাকলে সে ক্ষেত্রে শূন্যতা সৃষ্টি হয়। সেই শূন্যতার সুযোগে ছাত্র নামধারী অপরাধী শক্তি জন্ম নেয় এবং পেশিশক্তির জোর খাটিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বঘোষিত মাতব্বর বনে গিয়ে তারা তাকে তাদের অপরাধমূলক কাজের আশ্রয়স্থলে পরিণত করে। ডাকসু নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ সম্পর্কে বিশিষ্ট রাজনৈতিক এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম আমাদের অর্থনীতিকে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, সরকারসহ সব মহল, অন্তত প্রকাশ্যভাবে হলেও ডাকসুসহ ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সপক্ষে বলছেন। অথচ এতদসত্ত্বেও ডাকসু নির্বাচন ও ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। বোঝা দরকার যে, কী কারণে এবং কারা এ ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে রেখেছে? যে অল্পসংখ্যক মানুষ নির্বাচিত ছাত্র সংসদের বিরোধিতা করে থাকেন, তাদের সে বিষয়ে প্রধান যুক্তি হলোÑ ছাত্র সংসদ নির্বাচন করতে গেলেই দলাদলি-মারামারি হবে। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে। তাদের কাছে পাল্টা প্রশ্ন হলো, দুই দশকের বেশি সময় ধরে ছাত্র সংসদ নির্বাচন ও তার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কি হানাহানি ও নৈরাজ্য থেকে মুক্ত রাখা সম্ভব হয়েছে? বাস্তব ঘটনা হলো অনেকটাই তার বিপরীত। নিজের জন্য ও পেশিশক্তি লালনের জন্য তারা টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ভর্তিবাণিজ্য, সিটবাণিজ্য ইত্যাদি অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত হয়। ‘লীগ’ ও ‘দল’ লিপ্ত হয়ে পড়ে চরদখলের মতো দ্বন্দ্ব-সংঘাতে।

তিনি বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন ও তার কাজকর্মের বিরোধিতাকারীদের আরেকটি যুক্তি হলো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলবে ইচ্ছানুসারে। সবকিছু চালাবে তারাই। তারা যেভাবে বলবে, ছাত্রছাত্রীদের সেভাবেই চলতে হবে। ছাত্রছাত্রীদের দায়িত্ব হলো পরিচালক ও শিক্ষকদের শক্ত হাতের শাসন ও নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলা। সে ক্ষেত্রে ‘ছাত্র সংসদ’কে কিছু বলার বা করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে না। সৃজনশীলভাবে পরিচালনা করার দায়িত্ব পালন করাই হলো বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত ছাত্র সংসদগুলোর কর্তব্যের একটি প্রধান অংশ। প্রকৃত শিক্ষিত মানুষ গড়ে তুলতে এসব কাজ কি অপরিহার্য নয়? অথচ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংসদ নির্বাচন এতদিন ধরে বন্ধ রেখে সেই ‘প্রকৃত শিক্ষা’ অর্জনের পথকেই খর্ব করে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ছাত্র সংসদ থাকলেই ছাত্রদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধার প্রশ্নকে ভিত্তি করে রাজনীতি, দেশ, দুনিয়া, জনতা, অর্থনৈতিক-সামাজিক ব্যবস্থা ইত্যাদি প্রসঙ্গ আসবেই। কিন্তু শাসকশ্রেণির একাংশের ভয় ঠিক এখানেই। দ্বিতীয়ত, ছাত্র সংসদগুলোকে ‘অতি-রাজনীতিকীকরণ’ করার চিন্তা ও প্রবণতাও ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রেখেছে। তৃতীয়ত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পরিচালিত টেন্ডারবাজি, ভর্তিবাণিজ্য, ক্যাডার বাহিনীর চাঁদাবাজি-হাইজ্যাক-ছিনতাই ইত্যাদি অপরাধমূলক কাজের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আদায় করে নেওয়াটা আজকাল স্বাভাবিক গা-সওয়া কাজ হয়ে উঠেছে। গড়ে উঠেছে ক্যাডার বাহিনীর দুর্দান্ত দাপট। এসব ক্যাডার বাহিনী সাধারণ শিক্ষার্থীদের রায়ে বছর বছর নির্বাচিত সংসদ গঠন, ছাত্র সংসদের আইনসঙ্গত ও নৈতিক কর্তৃত্ব, ছাত্রছাত্রীদের কাছে নিয়মিত জবাবদিহির ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয় ভয় পায়। তাই তারা নির্বাচিত ছাত্র সংসদ গঠনে বাধা সৃষ্টি করে। সম্পাদনা : খন্দকার আলমগীর হোসাইন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত