প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কী হবে নারায়ণগঞ্জের, কী হবে দোষীদের?

রবিন আকরাম: ঘটনার সূত্র নারায়ণগঞ্জে হকার উঠানো আর বসানো নিয়ে। একজন প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান অন্যজন সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তাদের দুজনের সমর্থকদের মধ্যে হকারদের নিয়ে গত মঙ্গলবার সংঘর্ষে সেলিনা হায়াৎ আইভী সহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে। এই ঘটনায় অস্ত্র হাতে এক ব্যক্তিকে দেখা দেখা গেছে। এই নিয়ে গণমাধ্যমে ফলাও করে সংবাদ ছাপা হয়।

ঘটনার সূত্র- মঙ্গলবার বিকাল সোয়া চারটার দিকে। নারায়ণগঞ্জ নগর ভবনের সামনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও কাউন্সিলরদের নিয়ে অবস্থান নেন মেয়র আইভী। ওখান থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে আইভী মিছিল নিয়ে ফুটপাতের উপর দিয়ে চাষাঢ়ার দিকে যান। বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে আইভীর নেতৃত্বে মিছিল চাষাঢ়া সায়াম প্লাজার সামনে আসে। সেখানে কয়েকজন হকারকে ফুটপাত থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এছাড়া আইভীর মিছিলটি পুলিশ আটকে দেয়।

ওই সময় একজন হকারকে মারধর করা হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তখন চাষাঢ়া এলাকার নিয়াজুল নামের ওই ব্যক্তি পিস্তল হাতে আইভীর মিছিলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। সে সময় তাকে মারধর করা হয়। তবে সেখান থেকে গুলি হয়েছে কি না সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পিস্তল-বন্দুক বনাম মানবঢাল আগামী দিনের রাজনীতির দারুণ এক ইশারা হয়ে থাকল।

এই ঘটনার পর দুজনই দুজনকে দেষারোপ করছে। কেউ কাওকে ছাড় দিয়ে কথা বলছেনা। তাহলে আসল দোষী কে? এমন প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মনে বিরাজমান।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন মেয়র আইভী বলেছেন, হামলাকারী নিয়াজুল নগর যুবলীগের নেতা ও শামীম ওসমানের অনুসারী। শামীম ওসমানের নির্দেশে হামলা হয়েছে। নিয়াজুল আমাকে হত্যা করার জন্যই এসেছে বলে উল্লেখ করেন আইভী। কিন্তু শামীম ওসমান বলছেন, পুলিশের উপস্থিতিতে মেয়র আইভীর লোকজনই হকারদের ওপর গুলি বর্ষণ করেছে।

আইভীর এই কথা ও বিভিন্ন মিডিয়ার সমালোচনার মাঝে ওই দিন সন্ধ্যায় একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে শামীম ওসমান বলেছেন, নিয়াজুল আমার পরিচিত। তিনি বিশাল বড় মার্কেটের মালিক। সে সুইটের ভাই যাকে বিএনপির সময় ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছিল। এটা কি তার দোষ? তার হাতে পিস্তল দেখা গেলেও পরীক্ষা করা হোক এই পিস্তল থেকে গুলি করা হয়েছে কি না।

নিয়াজুল নায়ণগঞ্জ শহরের চাঁদমারী এলাকার বাসিন্দা নুর ইসলামের ছেলে। চার ভাই ও তিনের বোনের মধ্যে নিয়াজুল দ্বিতীয়। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি ঠিকাদারি ব্যবসা করতেন।

পুলিশ সূত্রে জানায়, ১৯৮৮ সালের ২৪ জুলাই সাবেক পৌর কমিশনার ও বিএনপি নেতা তারা মিয়া তারু সরদারের ছেলে কামাল সরদার হত্যা মামলার আসামী তিনি। পরে দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে ওই মামলা প্রত্যাহার হয়। তিনি নিজেকে যুবলীগের নেতা পরিচয় দিয়ে চলতেন।

নিয়াজুলের ভাই যুবলীগের ক্যাডার নজরুল ইসলাম ওরফে সুইট বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে র‌্যাবের সাথে ক্রসফায়ারে নিহত হন। ওই সরকারের আমলেই র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত যুবদলের নেতা মমিন উল্লা ওরফে ডেভিড নিয়াজুল ইসলামের আত্মীয়।

এদিকে অস্ত্র হাতে নিয়াজুলের ছবি ব্যাপক ভাইরাল হয়ে পড়ায় পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, অস্ত্রধারীদের ভিডিও ফুটেজ দেখে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা কাউকে ছাড়ব না।

এরপর রাতেই নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় নিয়াজুলের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়েরের খবরটি প্রকাশ পায়। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, অভিযোগটি জিডি হিসেবে অর্ন্তভুক্ত করে তদন্ত করছে পুলিশ।

নিয়াজুল নিজে গিয়ে না কি তার পক্ষে কেউ অভিযোগটি দায়ের করেছেন, সে বিষয়ে পুলিশ মুখ খোলেনি। নিয়াজুলের কোনো খোঁজও তার বাড়ি কিংবা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মেলেনি।

অভিযোগে নিয়াজুল বলেছেন, সেদিন নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে যাওয়ার পথে সায়াম প্লাজা এলাকায় তাকে মারধর করা হয়। তখন তিনি আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র বের করলে আসামিরা তাকে পিটুনি দিয়ে তার অস্ত্রটি ছিনতাই করে নিয়ে যায়।

অভিযোগে আইভী সমর্থক ঠিকাদার আবু সুফিয়ানসহ ১৭ জনকে আসামি করেছেন নিয়াজুল। তারা কেউ আইভীর আত্মীয়, কেউ কাউন্সিলর, কেউ সমর্থক।

পুলিশ সুপার বলেন, অস্ত্রধারী নিয়াজুলকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তাকে খুঁজছে পুলিশ।

অন্যদিকে গত মঙ্গলবারের ঘটনার পর থেকে মেয়র আইভী পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন। তিনি পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহারের দাবিও তুলেছেন।

এই ঘটনার একদিন পর গত বৃহস্পতিবার সেলিনা হায়াৎ আইভী অসুস্থ হয়ে রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জানা গেছে আইভীর মৃধু হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। শনিবার তার সাস্থ সম্পর্কে জানা যাবে।

মঙ্গলবারের সেই সংঘর্ষের পর শামীম ওসমান প্রধানমন্ত্রী সাথে দেখা করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তার সাথে দেখা করছেন না।

সাধারন মানুষ
শামীম ওসমান ও আইভীর মাঝে এই লড়াইয়ে নারায়ণগঞ্জের মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নগরীর এই অবস্থা হলে সাধারণ মানুষের কী হবে? কোথায় যাবে তারা। অনেকেই এমন মন্তব্য করছেন। তারা চাইছেন এর সমাধান দ্রুত করে নগরীর মানুষের মাঝ থেকে আতঙ্ক দুর করতে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত