প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ধর্ষিত রোহিঙ্গা নারীদের বিভীষিকার কাহিনী নথিভুক্ত করেছে জাতিসংঘ

ডেস্ক রিপোর্ট : মিয়ানমারের সৈন্যদের দ্বারা নির্যাতিত হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নারীরা তাদের বিভীষিকার কাহিনী বর্ণনা করেছেন। শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার গ্রæপগুলোসহ জাতিসংঘ সেগুলো সংগ্রহ করে নথিভুক্ত করেছে।
এখন বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের বিশাল শিবির ও বসতিগুলোতে আশ্রয় নেয়া এ নির্যাতিত ও ধর্ষিত নারীরা অতীতের দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে ওঠার লড়াই করার পাশাপাশি নতুন ঝুঁকির সম্মুখীন।

কুতুপালং শিবিরে ৬৫ বছরের বৃদ্ধা রেজিনা তার পুরো নাম জানাননি। রেজিনা বলেন, তিনি তার ১৫ বছর বয়সের নাতনিকে হারিয়েছেন। মিয়ানমারের সৈন্যরা তথাকথিত পরিষ্কারকরণ অভিযানের প্রথম দফায় রাখাইন প্রদেশের মংডু শহর এলাকার খড়িবিল গ্রামে ঢোকে। তারা আমার বাড়িতে প্রবেশ করে নাতনিকে ধরে ফেলে। তার অলংকার কেড়ে নেয়। তারা গ্রামের সব বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সব কিছু লুট করে। যাবার সময় সব কিশোরী, তরুণী ও যুবতী মেয়েেেদর ধরে নিয়ে যায়। তাদের সবাই ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এভাবে তারা অসংখ্য নারীকে ধর্ষণ করেছে।

বাংলাদেশ সীমান্তের শিবিরগুলোতে হাজার হাজার নারী উদ্বাস্তু আশ্রয় নিয়েছে। তাদের মধ্যে মিয়ানমার সৈন্যদের যৌন সহিংসতার শিকার বহু নারী মারাত্মক চাপ ও মানসিক ধকলের শিকার।
মানবাধিকার গ্রæপগুলো মিয়ানমার সৈন্যদের দ্বারা রোহিঙ্গা নারীদের ব্যাপক ধর্ষণ অভিযোগ সমর্থন করেছে।

যুদ্ধে যৌন সহিংসতা বিষয়ক জাতিসংঘ বিশেষ প্রতিনিধি প্রমিলা প্যাটেল নভেম্বর মাসে উদ্বাস্তু রোহিঙ্গা মহিলাদের সাক্ষাতকার নেন। তিনি বলেন, আমি যৌন সহিংসতার হৃদয় বিদারক ও ভয়াবহ বিবরণ শুনেছি যা রোহিঙ্গা জনগণের উপর ভয়ঙ্কর ঘৃণা থেকে ঠান্ডা মাথায় করা হয়েছে শুধুমাত্র তারা রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠি ও মুসলামান হওয়ার কারণে। সেই ভয়ংকর বিভীষিকার স্মৃতি এখনো দগদগে ঘায়ের মত তাদের মনে বিরাজ করছে। সেই নির্মম বর্বরতার কাহিনী বলার সময় নির্যাতিত নারীরা কান্নায় ভেঙ্ েপড়ে।

সীমান্তের ১০টি শিবিরে খাদ্য ও মাথা গোঁজার ঠাঁই-এর মত অধিকতর জরুরি বিষয় বড় হওয়ায় এ সব নারী থেরাপি ও চিকিৎসা সুবিধা পাচ্ছে না। যোগাযোগের অভাব ও অন্যান্য কারণে তাদের জন্য চিকিৎসা সুবিধা পাওয়া কঠিন।

সেন্টার ফর সোস্যাল ইন্টেগ্রিটির অঞ্চরিক মুখপাত্র জেসিকা ওলনি বলেন, বহু নারী তাদের স্বামী হারিয়েছে। ফলের একজন নারীকে সেই সংসারের প্রধানের দায়িত্ব নিতে হয়েছে। তিনি বলেন, সেবাগুলো কিভাবে কাজ করে এবং কিভাবে সেগুলো পেতে হয় তা তাদের বুঝে ওঠা দরকার। এ সব বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা নেই, ফলে তারা সে সব পাচ্ছে না। আর সে কারণে তারা দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।

নারীদের চিকিৎসা সুবিধার কথা বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মত এনজিওগুলো তাদের জন্য নিরাপদ এলাকা নির্মাণ করছে যেখানে তারা পেশাদার চিকিৎসকদের কাছ থেকে মনস্তাত্তি¡ক সহায়তা পাবে।
আইওএম-র যোগাযোগ কর্মকর্তা ফিওনা ম্যাকগ্রেগর বলেন, এ সব কেন্দ্র নিরাপদ ও নিরাপত্তাপূর্ণ। সেখানে অন্যান্য মেয়ে রয়েছে। তারা সেখানে তাদের জন্য জরুরি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারে। তাদের সমস্যাগুলো সমাধান করার পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়। তিনি বলেন, তারা সে সব মানুষ যারা খুব ছোট ছোট গ্রাম থেকে এসেছে এবং আকস্মিকভাবে শিবিরে থাকা ৮ লাখেরও বেশি মানুষের মধ্যে নিজেদের আশ্রয় খুঁজছে।

নতুন আসা উদ্বাস্তুদের অনেকেই নিজেদের দুঃসহ অবস্থার সাথে মানব পাচারের ঝুঁকির শিকার। একটি অপরাধী নেটওয়ার্ক তাদের কাজ দেয়ার নামে এ অপকর্ম করছে।

ম্যাগগ্রেগর বলেন, আমরা এ সব শিবিরে সুনির্দিষ্টভাবে যে একটি ঝুঁকিকে চিহ্নিত করেছি তা হচ্ছে মানব পাচার। এ ক্ষেত্রে নারী ও শিশুরা তাদের লক্ষ্য। পাচারকারীরা কৌশলে নারী ও শিশুদের প্রলুব্ধ করছে বা তাদের কোথাও নিরাপদ চাকুরির লোভ দেখিয়ে শিকারে পরিণত করছে। তাদের মধ্যে অনেককে যৌন ব্যবসায় নিয়োজিত করা হচ্ছে অথবা গৃহকাজের কথা বলে নেয়ার পর তারা ভিন্ন পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে।

২৫ আগস্ট বিদ্রোহীরা রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকটি চৌকিতে হামলা চালালে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী বর্বর দমন অভিযান শুরু করে যাকে জাতিগত নিধন বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সে সময় থেকে আইওএম ২ হাজার ৫শ’ লোককে মনস্তাত্তি¡ক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছে। কিন্তু মানবাধিকার গ্রæপগুলোর আহরিত কাহিনীগুলো সঠিক হয়ে থাকে তাহলে উদ্বাস্তুদের নিরাময়ে দীর্ঘ সময় লাগবে।
মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ সহিংসতার কেন্দ্র উত্তর রাখাইনে ধর্ষণ ও বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ নিষ্ঠুরতার সংঘটনের দাবি বারবার অস্বীকার করেছে। ইনকিলাব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত